সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
সংবাদ শিরোনাম

ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ রুইখই মারমার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ রুইখই মারমার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার খাগড়াছড়ি সদর ও লক্ষীছড়িতে পৃথকভাবে আলোচনা-স্মরণসভা ও শহীদবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ইউপিডিএফ ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে উক্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি সদর: খাগড়াছড়িতে সোমবার (২ অক্টোবর ২০১৭) বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা সদর স্বনির্ভর বাজার ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কার্যলয়ে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা।

সভার শুরুতে শহীদ রুইখই মারমাসহ সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। স্মরণ সভায় আলোচনা করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জেসীম চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা প্রমূখ।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, যারা বীর যোদ্ধা তারা ইতিহাসের অমর হয়ে থাকে। যে জাতি বীর যোদ্ধা ওও শহীদদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে জানে সে জাতি পরাজিত হতে জানে না। শহীদ রুইখই মারমা একজন বীর যোদ্ধা ও আদর্শবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন।লক্ষীছড়ি, মানিকছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা অঞ্চল সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করে জনগণের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন জনগণের কাছে তার অবদান অতুলনীয়।  তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মাঝে চির অমর ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বক্তারা, শহীদ রুইখই মারমাসহ যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত জনগণের জন্য লড়াই করে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন সে সকল বীর যোদ্ধাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং তাদের উত্তরসূরী হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে বেগবান করতে লড়াই সংগ্রামে সামিল হাওয়ার জন্য ছাত্র-যুব-নারী সমাজসহ সর্বস্তরে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

Laxmichari, 02.10.17

লক্ষীছড়ি : “বিপ্লবী চেতনার মৃত্যু নেই, শহীদের আত্মবলিদানের চেতনায় বলীয়ান হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিবেদিত হোন” এই আহ্বানে গত সোমবার ( ২ অক্টোবর ২০১৭) খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলায় বটতলা এলাকায় ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় নেতা রুইখই মারমার ৮ম শহীদ বার্ষিকী পালন করেছে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) লক্ষীছড়ি ইউনিট।

সকাল সাড়ে ৯টায় ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্র্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর লক্ষীছড়ি ইউনিটের সংগঠক আপ্রুসি মারমার সঞ্চালনায় শহীদ রুইখই মারমার অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও শহীদ রুইখই মারমার পরিবার বর্গ। এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে নিবেদন করেন।

সকাল ১০টায় এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুতে শহীদ রুইখই মারমাসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে ২ মিনিট নিরবতা পালন করেন ।

আলোচনা ও স্মরণসভায় লক্ষীছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক রক্তিম চাকমার সভাপতিত্বে ও সংগঠক আপ্রুসি মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় সদস্য নতুন কুমার চাকমা, সংগঠক মাইকেল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা, পিসিপি কেন্দ্রীয় সদস্য হ্লাসিমং মারমা, এইচডব্লিউএফ লক্ষীছড়ি থানা শাখার সভাপতি রেশমী মারমা, ২নং দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা প্রমুখ।

Laxmichari2, 02.10.17

সভায় বক্তারা বলেন, রুইখই মারমার আত্মত্যাগ হিমালয় পর্বতের ওজনের চেয়েও বেশি ভারী। তার আদর্শ ও নৈতিকতা এবং মর্যাদাবোধ সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন লড়াইয়ে সম্মিলিত উজ্জীবিত করেছে। তিনি জনগণের অধিকারের জন্য আত্মবলিদান দিয়ে গেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের পাতায় ও জুম্ম জনগণের কাছে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ঘাতকরা তাকে হত্যা করতে পারলেও তার নৈতিক আদর্শ ও চেতনাকে হত্যা করতে পারেনি। তার আত্মবলীদানের মাধ্যমে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে হাজারো প্রজন্ম সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় বেঈমান বিশ্বাস ঘাতকেরা নির্মূল হয়েছে।

বক্তারা, শহীদ রুইখই মারমার আদর্শ চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহবান জানান এবং শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার্থে নিজেদের বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে নতুন ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৯ সালের ২ অক্টোবর লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নস্থ বটতলী নামক স্থানে সেনাবাহিনীর সৃষ্ট বোরখা পাটি নামধারী সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ নেতা রুইখই মারমাকে গুলি করে খুন করে।

—————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *