বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

ইউপিডিএফ’র বান্দরবান জেলা সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে আটকের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ি : “রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ধরপাকড় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও” এই আহ্বানে ইউপিডিএফ-এর বান্দরবান জেলার প্রধান সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে সেনাবাহিনী কর্তৃক অন্যায়ভাবে আটকের প্রতিবাদ ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ), হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ)।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি ২০১৮) বেলা ২টায় তিন সংগঠনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি স্বনির্ভরস্থ ইউপিডিএফ-এর জেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে রেড স্কোয়ার, উপজেলা ও চেঙ্গি স্কোয়ার ঘুরে স্বনির্ভর বাজারের শহীদ অমর বিকাশ সড়কে এসে সমাবেশ করে।

পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা অর্থ সম্পাদক জহেল চাকমার সঞ্চালনায় ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন’র জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সদস্য মানিক চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইউপিডিএফের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন-ধরপাকড় ও হত্যা করতে রাষ্ট্র একটি নয়া কৌশল নিয়েছে। সেনাবাহিনীর মধ্যেকার অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও জাতিবিদ্বেষি উগ্রসাম্প্রদায়িক একটি অংশকে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে নব্য মুখোশ বাহিনী সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। বক্তারা এর পরিণাম শুভ হবে না বলে সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ (১৭ জানুয়ারি) বান্দরবানে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় খুন হওয়া ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমার স্মরণে স্মরণসভা আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছিল। কিন্তু সেনা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তা করতে নিষেধ করে। সেনাবাহিনীর এ অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্মরণসভার প্রস্তুতি নেয়া হলে গতরাত সোয়া ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইউপিডিএফ’র বান্দরবান জেলার প্রধান সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে বেআইনীভাবে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

বক্তারা উক্ত ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার পরিপন্থি আখ্যায়িত করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংস্থা দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করছে, ইউপিডিএফ নয়। দীর্ঘ যুগের পর যুগ পার্বত্য চট্টগ্রামে অঘোষিত সামরিক শাসন জারি থাকলেও এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে তা স্বীকার করা হয়নি, যা খুবই উদ্বেগজনক। বক্তারা অবিলম্বে এর অবসানের দাবি জানান। এবং রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ধরপাকড় ও নির্যাতন বন্ধ করে দেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
——————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *