উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ির ৬ উপজেলায় ২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

0
1

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম

Upazila electionআসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ১ম দফায় গতকাল ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪০ জনের মধ্যে ১৪ জন, পুরুষ ভাইস্-চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জনের মধ্যে ৭ জন এবং নারী ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২৭ জনের মধ্যে ২ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। একক প্রার্থী দেয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকলেও মানিকছড়ি উপজেলায় বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ রবিউল ফারুক এবং বিএনপি ঘরানার তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। তবে কোন উপজেলায় আওয়ামীলীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এবার ইউপিডিএফ ও এমএন লারমা গ্রুপের সমর্থিত প্রার্থী থাকলেও জেলার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস)’র সন্তু লারমা গ্রুপের সমর্থিত কোন প্রার্থীর নাম শুনা যায়নি ।

জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীরা হলেন সদর উপজেলায় ইউপিডিএফ সমর্থিত দীপায়ন চাকমা, স্বতন্ত্র গফুর আহমেদ তালুকদার, শরণার্থী নেতা অজিত বরণ চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামলীগের নেতা মোঃ গিয়াসুদ্দীন ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি দানু মিয়া, পানছড়িতে যুগান্তর চাকমা, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মিন্টু বিকাশ চাকমা, জাতীয় পার্টি’র জহুর আলী, মাটিরাঙ্গায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তাজুল ইসলাম, নাসির আহমেদ চৌধুরী ও জামাতের এয়াকুব আলী, রামগড়ে আওয়ামীলীগের কাজী রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও জাতীয় পার্টি’র মজিবুর রহমান এবং মানিকছড়িতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন।

পুরুষ ভাইস্-চেয়ারম্যান পদে জেলা সদরে আওয়ামীলীগের জাবেদ হোসেন ও পরিতোষ ত্রিপুরা, মানিকছড়িতে রেদোয়ান আহমেদ, পানছড়িতে শাহীন মৃধা, মহালছড়িতে হৃদয় চাকমা ও আব্দুল মান্নান, রামগড়ে একজন।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মাটিরাঙ্গায় কোহিনুর বেগম ও নিগার সুলতানা।

রামগড়ে বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক  শহীদুল ইসলাম ফরহাদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হলেও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেলায়তে হোসেন ভূইয়া এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন রিপন প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছে চাইথোয়াই চৌধুরী ।

অপরদিকে পানছড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান বকুল চন্দ্র চাকমাকে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জিমি চাকমা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান মো: শানে আলম ও বিএনপি‘র সহ-সভাপতি কংচাইরী মারমা(মাষ্টার) নির্বাচন করছেন।

মাটিরাঙ্গায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল হক ও বিএনপি’র উপজেলায় সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

মানিকছড়িতে আওয়ামীলীগ থেকে  মাগ্র্য মারমা ও মানিকছড়ি উপজেলায় বিএনপির সাধারন সম্পাদক এনামুল হক এনামকে দলীয় মনোনয়নপত্র দেওয়া হলেও  বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এস এম রবিউল ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মহালছড়ি উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী দানু মিয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে অধ্যাপক নীলোৎপল খীসা আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন। মহালছড়িতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি’র কোন প্রার্থী নেই।

এছাড়া ইউপিডিএফ‘র সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় চঞ্চুমনি চাকমা, পানছড়িতে বর্তমান চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা, মহালছড়িতে বর্তমান চেয়ারম্যান সোনারতন চাকমা প্রার্থী হয়েছেন। অন্য তিন উপজেলার ইউপিডিএফ’র প্রার্থীদের নাম পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(এনএন লারমা) অংশের কেন্দ্রীয় নেতা  সুধাকর ত্রিপুরা জানান, ‘এবার মহালছড়িতে বিমল কান্তি চাকমা চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী হয়েছেন। তবে অন্য উপজেলায় কৌশলগতভাবে রাজনৈতিক অবস্থান নেয়া হবে।’

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফন্ট(ইউপিডিএফ)’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা জানান, তুনমূলভাবে সংগঠন শক্ত অবস্থানের থাকার নিমিত্তে জনগন যাদের নির্বাচিত করবে তাদের সমর্থন দিয়ে যাবে ।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, ৫টি উপজেলাতেই তৃণমূলের ভোটে বাছাই করে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে বেশী অবদান রাখতে পারবেন, এমন প্রার্থীদের আগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার  করেননি তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চাইথোঅং মারমা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পাহাড়ে ৬টি উপজেলায় অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিদেরকেই বেশীর ভাগ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তুনমূল পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সাংগঠনিক মজবুত রেখেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ।

 

 


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.