রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

কাউখালীতে পাহাড়ি মেয়েকে ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে

কুদুকছড়িতে তিন নারী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

রাঙামাটি : “ঘাগড়ায় কলেজ ছাত্রী এক পাহাড়ি (মারমা) মেয়েকে অপহরণ, ২ মাস আটকে রেখে ধর্ষণের সাথে জড়িত আলম মিয়া ও তার সহযোগিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে” আজ ২৩ মে মঙ্গলবার বিকাল ২.০০টায় রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে তিন নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ।

1সমাবেশের পূর্বে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কুদুকছড়ি বড় মহাপুড়ুম হাই স্কুল গেইট থেকে শুরু হয়ে কুদুকছড়ি বাজার প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় স্কুল গেইটে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য দয়াসোনা চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কংসাই মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম(ডিওয়াইএফ) রাঙামাটি জেলা কমিটির আহব্বায়ক ধর্মশিং চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজলী ত্রিপুরা ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি শান্তিপ্রভা চাকমা।

2সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সদিচ্ছা না থাকার ফলে এ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত কোন জুম্ম নারী ধর্ষণ, অপহরণ, খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি, যদিও সমতলে দু-একটির বিচার ও শাস্তি প্রদান করতে দেখা যায়। সরকারের এই বিচারহীনতাই ধর্ষণকারী আলম মিয়ারা কাউখালী মগাছড়ি থেকে কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে টানা দু’মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করার সাহস যোগায়। সরকারের এই উদাসীন বিচার ব্যবস্থায় পার্বত্য এলাকার জুম্ম নারীদের সকল ক্ষেত্রে অনিরাপদ থাকার একটি অন্যতম কারন। সরকারের এ বিচারহীনতার প্রবণতা বাতিল করে পার্বত্য চট্ট্রগামসহ দেশের সকল নারী সমাজের নিরাপত্তা বিধান করতে বক্তারা সরকারের প্রতি আহব্বান জানান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা আজ সকালে কাউখালীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে দুটি গাড়িতে করে আসা অংশগ্রহণকারীদেরকে হাসপাতাল এলাকায় বাধা সৃষ্টি ও লাঠি চার্জ করে পাঁচ জনকে আহত এবং গতকাল নান্যাচরে ধর্মের অবমাননার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে জোন এলাকায় সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত হামলায় অর্ধশতাধিক নিরীহ জনগণকে আহত ও পিসিপি নেতা জয়ন্ত চাকমাসহ গবছড়ি, সাপমারা এলাকার দুই নিরীহ গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা অবিলম্বে কলেজ ছাত্রী মারমা তরুনীকে অপহরণের পরে আটকে রেখে ধর্ষণকারী মোঃ আলম মিয়া ও তার সহযোগিদের গ্রেফাতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল নারী ধর্ষণ, অপহরণ ও খুনের ঘটনাগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্তপূর্বক অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

———————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.