খাগড়াছড়িতে ভোট ডাকাতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ!

0
1

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটিনিউজ.কম

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের যে কি বেহাল অবস্থা চলছে তা ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিকে তাকালে স্পষ্ট বুঝা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের একতরফা নির্বাচনেও নিজ দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে ভোট ডাকাতির কাজে! খোদ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম নিজেই এ কাজে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Vote-dakatiএ বিষয়ে সিএইচটি২৪.কমের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাটিরাঙ্গা পৌরসভা সদর কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, আওয়ামী লীগ-যুব লীগ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রসিত বিকাশ খীসার পোলিং এজেন্টদেরর বের করে দেয়। ভোট গনণার সময়ও এসব পোলিং এজেন্টদের রাখা হয়নি। এছাড়া নতুন পাড়া, মুসলিম পাড়া, হাতিয়া পাড়া ও আলুটিলা কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপি ও জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টে যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম, সোলায়মান, জাহাঙ্গীর আলম, সুভাষ চাকমা, হারুন মিয়া, খালেক মেম্বার, লিটন কমিশনার সহ ছাত্র লীগের অনেক নেতা কর্মী এই ভোট ডাকাতির কাজে অংশ নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রামগড় উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের নেতৃত্বে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের একটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী এক ব্যক্তি (বিশেষ কারণে নাম উল্লেখ করা হলো না) নিজের স্বচক্ষে দেখা ভোট জালিয়াতির কথা জানিয়ে বলেন, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ও আওয়ামী লীগের লোকজন ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ইচ্ছেমত ব্যালট পেপারে সিল মেরে দিয়েছে।

ভোট গ্রহণকালীন তিন পার্বত্য জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের এ কাজটি করতে আরো সহজ হয়ে যায়। কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই তারা নির্বিঘ্নে ভোট ডাকাতি করতে সক্ষম হয়। যার ফলে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ মুহুর্তে এসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীই বিজয়ী হয়।

এদিকে, ইউপিডিএফের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বতাকারী প্রসিত বিকাশ খীসা এক বিবৃতিতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ করে মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার পক্ষে কতিপয় সেনা সদস্য মাটিরাংগা পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র হতে আমার এজেন্টদের ভয়ভীতি দর্শন করে বের করে দিয়ে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি করেছে। আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সর্বোত্তম চাকমা তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়, ধলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (আদর্শগ্রাম), মাটিরাংগা পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সরোজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ফলাফলে যেভাবে ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে, তার সাথে উপস্থিতির বিরাট পার্থক্য  রয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নির্বাচন বর্জনের কারণে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা ছিল একেবারে কম। তারপরও এসব এলাকায় আওয়ামী লীগ এত ভোট কিভাবে পায় তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে আওয়ামী লীগ এ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

 


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.