শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
সংবাদ শিরোনাম

খাগড়াছড়িতে লক্ষ্মীছড়ি-স্টাইলে বোরকা পার্টি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সেনাবাহিনীর একটি অংশ খাগড়াছড়ি-পানছড়ি অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে লক্ষ্মীছড়ি-স্টাইলে একটি বোরকা পার্টি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

নব গঠিতব্য এই সন্ত্রাসী বাহিনীতে সমাজের অধঃপতিত, বখাটে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন থেকে বহিস্কৃত পাহাড়ি যুবকদের জড়ো করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

Khagrachariতবে সেনারা তাদের এই ষড়যন্ত্রের সাথে জনসংহতি সমিতির এম. এন. লারমা অংশের দু’তিন জন উচ্চ পর্যায়ের নেতাকেও যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, ইতিমধ্যে তারা সেনা ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে কয়েক দফা গোপন বৈঠক করেছে। এই বৈঠকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ, সদস্য ভর্তি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি ও ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক অস্ত্র ক্রয়ের জন্য কয়েক দিন আগে কাচালঙের বাসিন্দা ও একটি সংগঠনের রাঙামাটি অঞ্চলে দায়িত্বরত এক ব্যক্তিকে ৭০ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ঐ ব্যক্তি সমস্ত টাকা মেরে দিয়ে রাঙামাটি শহরে জমি ক্রয় করেছে।

এর পর গঠিতব্য সন্ত্রাসী দলের নেতারা আরো টাকা যোগাড় করে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে তিনটি অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয় করে।

উপরোল্লেখিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রথমে পানছড়িতে সশস্ত্র এ্যকশন শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং এ লক্ষ্যে লোকজন বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বোরকা স্টাইলে নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে সেনা ষড়যন্ত্রকারীরা কয়েকটি লক্ষ্য হাসিল করতে চায় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রথমত, পার্বত্য এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা রয়েছে দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতিকে জায়েজ করা। দ্বিতীয়ত, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত ইউপিডিএফের প্রভাব খর্ব করা, কারণ খাগড়াছড়ি অঞ্চলটি ইউপিডিএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তৃতীয়ত, ইউপিডিএফ ও জেএসএস এম. এন. লারমা গ্রুপের মধ্যে সংঘাত বাঁধিয়ে দেয়া, আর এ সুযোগে খাগড়াছড়ি অঞ্চলে সেটলার পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার ও ভূমি বেদখল করা। চতুর্থত, পাহাড়িদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব জারী রাখা যাতে ভূমি বেদখল সহ বিভিন্ন ন্যায়সঙ্গত ইস্যুতে জনগণ আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে। এক কথায় জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধ্বংস করাই হলো নতুন সন্ত্রাসী বোরকা পার্টি সৃষ্টির একমাত্র লক্ষ্য।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতা অনি বিকাশ চাকমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়, অতীতেও এ ধরনের বহু ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, কিন্তু তা সফল হয়নি। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সে সব ষড়যন্ত্র বানচাল করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে তা কখনোই সফল হবে না।

তবে তিনি সেনাদের পাহাড়ি-বিরোধী ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে না পড়ার জন্য অথবা ইতিমধ্যে জড়িত হয়ে থাকলে বেরিয়ে আসার জন্য জেএসএস এম. এন. লারমাসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জুম্ম ধ্বংসের এই সেনা ষড়যন্ত্রের সাথে যারা যুক্ত হবে জনগণ ও ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপিডিএফ-ভুক্ত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের একজন কেন্দ্রীয় নেতা সিএইচটি নিউজ ডটকমকে বলেন, সেনারা তাদের স্বার্থেই পাহাড়ি যুবকদের ব্যবহার করতে চায়। সেনারা লক্ষ্মীছড়িতে পাহাড়ি যুবকদের দিয়ে বোরকা পার্টি সৃষ্টি করে কী হয়েছে? সেই বোরকা পার্টি দিয়ে তারা ইউপিডিএফকে দমন করতে চেয়েছিল, কিন্তু বোরকা পার্টিই ধ্বংস হয়েছে। পরে বহু বোরকা সদস্য পার্টির কাছে আত্মসমর্পন করেছে ও ক্ষমা ভিক্ষা করেছে।

তিনি আরো বলেন, লক্ষ্মীছড়ির তৎকালীন জোন কমান্ডার লে. ক. শরীফুল ইসলাম এক সময় (২০০৯ – ২০১২) এই বোরকাদের দিয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অরাজকতার রাজত্ব কায়েম করেছিল, ইউপিডিএফ নেতা রুই খই মারমাকে খুন করিয়েছিল, বহু নিরীহ জনগণের ওপর অবর্ণনীয় নিপীড়ন চালিয়েছিল। শরীফুল বোরকাদেরকে নিজের ক্যাম্পের পাশে আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু তারপরও বোরকারা টিকতে পারেনি। প্রবল গণ আন্দোলনের জোয়ারে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

ডিওয়াইএফ নেতা জানান, রুইখই মারমার খুনী কুখ্যাত বোরকা সন্ত্রাসী ছক্কাপেদা এক সময় সেনাদের আশ্রয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে থাকলেও এখন  জনগণের হাতে বন্দী। তার জীবন মরণ এখন জনগণের হাতে।

তিনি বলেন, কই সন্ত্রাসের গডফাদার ও মদদদাতা শরীফুল কিংবা সেনাবাহিনী তো ছক্কাপেদাকে কিংবা অনিল চাকমাকে রক্ষা করতে পারেনি। যদি ভবিষ্যতে আরো কেউ জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে বোরকাদের মতো কাজ করতে চায়, তাহলে তাদের পরিণতিও ছক্কাপেদা ও অনিলের মতো হতে বাধ্য। (বোরকাদের রিং লিডার অনিল চাকমা লক্ষ্মীছড়ি জোনের পাশে থাকতো, এক দুর্ধর্ষ কমান্ডো হামলায় সে প্রাণ হারায়) সেনারা তাদেরকে পতিতার মতো ব্যবহার করে এক সময় কাজ শেষে ফেলে দেবে।

তাই ডিওয়াইএফ নেতা সেনা ষড়যন্ত্রে পা না দেয়ার জন্য, সেনাদের জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে না পড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক ও হুঁশিয়ার করে দেন।
—————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *