রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

মাটিরাঙ্গায় বৈসাবি র‌্যালি শেষে সমাবেশ করতে সেনাবাহিনীর বাধা

গণতান্ত্রিক যুবফোরামের নেতা গ্রেপ্তারের চেষ্টা, জনগণের প্রতিরোধ

মাটিরাঙ্গায় বৈসাবি র‌্যালি ও সমাবেশে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে বাধা দিতে দেখা যাচ্ছেমাটিরাঙ্গা উপজেলার পৌরসভা সদরে আজ ১১ এপ্রিল, ২০১৭(মঙ্গলবার) সকাল ৯.৩০ টার দিকে সর্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি, ২০১৭ এর উদ্যোগে বৈসাবি শোভাযাত্রা বের করা হয়। বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র আহ্বায়ক চন্দ্র বিকাশ ত্রিপুরা ও সদস্য জোসেফ ত্রিপুরার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত শোভাযাত্রায় ৪ শতাধিক জনতা স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করে।নিজ নিজ জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে  তারা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করে।

শোভাযাত্রা মুক্তমঞ্চ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার মুক্ত মঞ্চে এসে জড়ো হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সভা করার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ক্যাপ্টেন তানজিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের সেনাবাহিনীর একটি টিম সমাবেশে আগত জনতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় তারা সমাবেশ করতে বাধা দেয়। শোভাযাত্রায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণকারী গণতান্ত্রিক যুবফোরামের দুই সদস্য শুভ চাকমা ও শান্তি বিকাশ চাকমাকে সেনাদলটি আটক করার চেষ্টা চালায়। এ সময় র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ জনতা এই অন্যায় আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে তাদেরকে সেনাদলের কবল থেকে মুক্ত করে। পরে সেনাদলটি সাধারণ জনতাকে ত্রিপরা কল্যাণ সংসদের র‌্যালিতে অংশ নিতে বলপ্রয়োগ করে। সেনাদলটির নেতা ক্যাপ্টেন তানজিম এ সময় বলেন, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের র‌্যালিতে প্র্রধান অতিথি হিসেবে মাটিরাঙ্গা জোনের কমান্ডার অংশগ্রহণ করবেন।তবে র‌্যালিত আসা জনতা বৈসাবি উদযাপন কমিটি ব্যতীত অন্য কোনো র‌্যালি ও সমাবেশে অংশ নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে।

মাটিরাঙ্গায় বৈসাবি র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

সমাবেশে আগত একজন যুবক এ সকল ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে চাইলে সেনাবাহিনী তার কাছে থেকে উক্ত মোবাইল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে। এ সময় উপস্থিত জনতা ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনা ঘটে বলে সমাবেশে অংশগ্রহণকারী একজন সিএইচটিনউজ.কম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।এতে উক্ত যুবকের মোবাইল ভেঙে যায় বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণে বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র নেতৃবৃন্দ সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে সেখান থেকে সরে আসেন।

এদিকে মাটিরাঙ্গায় বৈসাবি উদযাপন কমিটি’র  র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশ বাধা দেয়ার ঘটনায় মাটিরাঙ্গায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাটিরাঙ্গা নিবাসী একজন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এবছর সেনাবাহিনী ও প্রশাসন পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবি উৎসব উদযাপনে বাধা প্রদান করবে না। কিন্তু কোনো প্রকার উস্কানী ও প্ররোচনা ছাড়াই র‌্যালি ও সমাবেশে বাধা প্রদানের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই বাধা প্রদানের ঘটনাই প্রমাণ করে সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে দমনপীড়ন চালানোর জন্য, জায়গাজমি বেদখলের জন্য ও জুম্ম জনগণকে সকল দিক  থেকে দাবিয়ে রাখার জন্য আনা হয়েছে।

এই ধরনের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশবাসীকে আরো বেশি সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধে অংশ নেয়া দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.