শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
সংবাদ শিরোনাম

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন :

গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নিপীড়িত জাতিসত্তাসমূহের অধিকার আদায়ে ব্যালট একটি হাতিয়ার

।। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ।।
অনেক সংশয় ও নাটকীয়তার পর পূর্বঘোষিত তফশিল এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন-ক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচন নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এবং বাইরের পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহের প্রতি নজর রাখছেন, তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থেকে আঁচ করা যায়। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে দেশ এক গুরুতর সংকটে নিমজ্জিত হবে। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চালু রাখতেও ব্যর্থ হচ্ছে শাসকগোষ্ঠী। বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রের ঝুঁকিতে রয়েছে, তার আলামতও নানাভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। এবার যদি নির্বাচনের গণরায় উল্টে দেয়া হয়, তাহলে তার পরিণাম হবে গুরুতর।

সর্ব কালের বিশৃঙ্খলাকে ছাপিয়ে দেশে এখন চরম অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ধরনের পটভূমিতে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণ থেকে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসলেই নিরপেক্ষ নন। নির্বাচন এক মাস পেছানোর অত্যন্ত যৌক্তিক ও সঙ্গত দাবি উপেক্ষা করা, নির্বাচনী তফশিল পুননির্ধারণের নামে দায়সাড়াভাবে এক সপ্তাহ পেছানোর মধ্যে কমিশনের কোন সুবিবেচনা বা দূরদর্শিতার প্রতিফলন নেই। দুঃখজনক হচ্ছে সরকারের মর্জি মাফিক দিন-ক্ষণ চূড়ান্ত করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন মহলের আজ্ঞাবহ হিসেবে নিজেদের প্রতিপন্ন করল। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ওপর অযৌক্তিক বিধি নিষেধ আরোপ, ছবি তোলা, মিডিয়ার কর্মীদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ করে দেয়ায়, ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম জালিয়াতির কোন প্রামাণ্য দলিল পর্যবেক্ষকদের হাতে থাকবে না। পর্যবেক্ষকদের “মূর্তি” বা “পুতুল” হিসেবে দেখতে চাওয়া বাস্তবিক উদ্বেগের বিষয়। এ নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে বড় ধরনের খটকা থেকেই গেল! তাছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রাথমিক শর্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও তৈরি হয় নি। ইভিএম নিয়ে বিরোধী দলছাড়াও দেশের এত প্রযুক্তিবিদ জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির প্রবল আপত্তি-প্রতিবাদ-বিতর্ক সত্ত্বেও ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশন অনড় রয়েছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুবিধামতো ব্যবহার করা ছাড়াও বিরোধীপক্ষকে দমিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এবার খালি মাঠে গোল দেয়া সহজ হবে না, মনে হয় ক্ষমতাসীন দল এমন কিছু আন্দাজ করতে পেরেছে। যার কারণে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে অজস্র মিথ্যা মামলা, ধরপাকড়, অপহরণ-গুম-হত্যা, কোন অপকর্ম কমতি রাখে নি। অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে পুলিশ “মৃত” ও “সৌদি আরবে হজ্ব পালনকারী” ব্যক্তির নামেও গায়েবি মামলা করেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

 
সমতলের চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট বহুলাংশে ভিন্ন। এখানে দমন-পীড়নের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ইউপিডিএফ। সরকারের দমন-পীড়ন, মামলা-ধরপাকড় সমতলের লোকজন সাম্প্রতিক সময়ে উপলদ্ধি করতে পারলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তা বারোমাসি ব্যাপার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেবল এর মাত্রা ও ধরন তীব্রতা পেয়েছে। এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা তো সক্রিয়ই, তাছাড়া অপহরণ-খুন-গুমের জন্য ‘মোত্তালেব বাহিনী’ (নব্য মুখোশবাহিনী)-কে বিশেষভাবে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। সমতলের মতো সরকারের “মামলা কৌশল” এখানে ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইউপিডিএফ-এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক শত নেতা-কর্মীর নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অজস্র মামলার কারণে তারা ঘরছাড়া এলাকাছাড়া। এমন কোন মামলা নেই যেখানে ইউপিডিএফ সভাপতিকে হুকুমের আসামি করা হয় নি। এলাকার জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান, মেম্বার, হেডম্যান-কার্বারি, মুরুব্বীরাও মামলা থেকে রেহাই পান নি। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা তো দূরের কথা, অনেক আগে থেকেই ইউপিডিএফ দলীয় অফিসও খুলতে পারছে না। পত্রিকা কিংবা গণমাধ্যমে এসব খবর সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। প্রায় ক্ষেত্রেই প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে যা প্রকাশ পায়, তা অপরাধীদের আড়াল করার সামিল।
 
সরকারের এত অপকৌশলের পর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নিজেদের সাত দফা দাবির কোনটি পূরণ না হলেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন করবে এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। অনিয়ম, কারচুপি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং– এ রকম কিছু হলে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
 
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত ৯২ জন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা (সিভিল ২২, পুলিশ ৭০)-কে বদলীর আবেদন অত্যন্ত যৌক্তিক, জরুরি এবং সময়োচিত বলতে হবে। তবে ঐক্য ফ্রন্টের এ তালিকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ নেই। সেটা থাকলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট-এর সম্যক ধারণার প্রতিফলন ঘটত এবং ফ্রন্ট-এর দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারে পার্বত্যবাসী আশ্বস্ত হতে পারত।
 
স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত দশম সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: মাসুদ করিমের নির্বাচনী ফলাফল উল্টে দেয়ার ন্যাক্কারজনক ভূমিকা। জনগণের ধারণা দশম সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ-এর বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার পেছনে মূল হোতা হলেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এনডিসি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অসন্তোষের সুরে বলেন, ‘এই প্রথম দেখলাম একজন ডিসি চাইলে যে কোন ব্যক্তিকে এমপি বানাতে পারেন।’ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কিভাবে সম্ভব? প্লেইন ল্যান্ডে হলে এ রকম হতে পারত না।’ খাগড়াছড়ি রিজিয়ন (২০৩ পদাতিক ব্রিগেড) ও গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডারের ভূমিকাও ছিল পুরোপুরি সন্ত্রাসী গড ফাদারের মতো। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর এলাকায় গণঅসন্তোষ প্রতিবাদ বিক্ষোভের আশঙ্কায় সেনাবাহিনী দশ দিন ব্যাপী খাগড়াছড়িতে বিশেষ অভিযানের নামে মাঠে ছিল।
 
দেখা গেছে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালেও বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোটার সিডি তৈরি করা হয় দু’টি। ইউপিডিএফ’এর কর্মীদের হাতে যে ভুল সিডি তুলে দেয়া হয়, তার ফলে ভোটারদের তালিকা ও নাম্বার খুঁজে বের করতে ইউপিডিএফ’কে হিমশিম খেতে হয়। নির্বাচনের সময় সারাদেশে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্বাচন কমিশন কিংবা প্রশাসনের নিকট তাৎক্ষণিকভাবে ভোট কেন্দ্রের অনিয়ম জালিয়াতির অভিযোগ করা সম্ভব হয় নি, গণমাধ্যমেও জানানো যায় নি। ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ভোটগ্রহণেও ছিল কেরামতি। পাহাড়ের দূরবর্তী অঞ্চলের ইউপিডিএফ সমর্থক ভোটাররা যাতে সময় মতো ভোট প্রদানে সক্ষম না হয় সেভাবে কেন্দ্র স্থাপিত হয়, কাগজপত্র ঠিক নেই অজুহাতে ইউপিডিএফ সমর্থিত এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় দেরীতে। পথে পথে সেনা টহল ভয়-ভীতি জেরার মুখে অনেকে ঠিকমত কেন্দ্রে পৌঁছতে সক্ষম হয় নি। কোন মতে কেন্দ্রে গিয়েও ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যাওয়ায় দুপুর ১টার পর বহু কেন্দ্রেই ভোটাররা ভোট দিতে পারে নি। নীলনক্সা মত প্রিসাইডিং অফিসাররা সাক্ষর আদায় করে ইউপিডিএফ এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, দেশের অন্যত্র যে কোন কেন্দ্রে এ ধরনের ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে দেশের সকল গণতান্ত্রিক দল ও ব্যক্তিগণকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মনে রাখতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম করছে। তাদের এ লড়াই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অংশও। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের দমন-পীড়নের মাত্রা বেশি। সরকার-প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সম্মিলিত বাধার মুখে ইউপিডিএফ-কে লড়াই সংগ্রাম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ইউপিডিএফ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ গণতান্ত্রিক লড়াই দমনের লক্ষ্যে গণবিরোধী সরকার সেনাবাহিনী, আনসার-ভিডিপি ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী ‘মোত্তালেব বাহিনী’ (নব্য মুখোশবাহিনী) গঠন করে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। তাতিন্দ্র পেলে নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির একাংশকেও সরকার সুকৌশলে মোত্তালেব বাহিনীর সাথে যুক্ত করে ফেলেছে, এতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। সেনা-পুলিশের সহযোগী হয়ে বর্তমানে ‘মোত্তালেব বাহিনী’ (নব্য মুখোশবাহিনী) ও ‘পেলে বাহিনী’ জনগণের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে এই দুই সশস্ত্র ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী প্রকাশ্যে জনগণকে হুমকি দিচ্ছে, ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে সাধারণ মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাসীন সরকার এ দুই ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী দিয়ে এলাকা দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সে কারণে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির উচিত পাহাড়ের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো। এ আন্দোলনে সমর্থন-সংহতি জানিয়ে এবং সাধ্যমতো সহায়তা দিয়ে দেশের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার হতে পারে।
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সূচিত হয়েছে। এটিকে নব্বইয়ের দশকের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সাথে তুলনা করা চলে। এ আন্দোলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে যুক্ত করা দরকার। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুটি কিভাবে দেখছে, তা এখনও জানা যায় নি। ঐক্য ফ্রন্টকে মনে রাখতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অতীতের সরকারসমূহের মতো নীতি বজায় থাকলে তার ফল শুভ হবে না– পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের জন্য এবং তাদের নিজেদের জন্যও।
 
দেশের অন্য অঞ্চল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগলিক-নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টকে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেজি ক্ষমতা দাবি করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ সারা বছর সেনা শাসনের অধীনে থাকে। ‘অপারেশন উত্তরণ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের গণবিরোধী বিতর্কিত ‘১১দফা নির্দেশনা’ এমনিতে জারি আছে। তার ওপর সেনাবাহিনী হাতে ম্যাজেস্ট্রিসি ক্ষমতা পেলে পাহাড়িদের ভোগান্তি চরম রূপ লাভ করবে, সেটা বিবেচনায় নেয়া জরুরি।
 
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির সরকার দেখেছে, তাদের দলীয় টিকিটে বিজয়ী তথাকথিত সাংসদদের কর্মকাণ্ডও পরিলক্ষিত করেছে। তারা কেউই পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন–এ সমস্ত ইস্যুতে সংসদে টু শব্দটিও করেন নি। চক্ষু লজ্জার বশে তারা একটু সময়ের জন্যও জনগণের পক্ষে দাঁড়ান নি। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও এলাকার জনগণের দাবি-দাওয়া নাকচ করে দিয়ে ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারা যতটা না জনপ্রতিনিধি, তার চাইতে বেশি সরকার দলের মুখপাত্র। দশম সংসদে বিজয়ী জেএসএস-এর সাংসদের ভূমিকাও তথৈবচ।
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে, চিরচেনা বসন্তের কোকিলদের মন ভোলানো প্রতিশ্রুতি অঙ্গীকার প্রদান শুরু হয়েছে। এ মুহুর্তে পার্বত্যবাসীকে অতীতের সমস্ত তিক্ত ও প্রতারণার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে হবে। “সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতিশীল” “মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি” বলে আত্মজাহির করলেও তার ছদ্মবেশের আড়ালে কী এজেন্ডা রয়েছে তা বুঝতে হবে। আওয়ামীলীগ সরকারের সাম্প্রতিক কালের কর্মকাণ্ড থেকে তার আসল রূপ চিনে নিতে হবে। এ যাবৎ ফাঁকা প্রতিশ্রুতি আর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আওয়ামীলীগ কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসন কেড়ে নেয় নি, পার্বত্যবাসী যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রণয়ন করেছে সূক্ষ্ম নীলনক্সা। নব্বইয়ের দশকের শেষার্ধে তা বোঝা না গেলেও এখন আওয়ামীলীগের পলিসি স্পষ্ট।
 

বার বার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে পার্বত্যবাসীকে এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নচেৎ আরও দুর্দশার অতলে তলিয়ে যেতে হবে।#

২৫.১১.২০১৮

————————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.