দুই পার্বত্য জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধ পালিত, খাগড়াছড়িতে পুলিশের গুলিতে তিন নারী সহ আহত ৬

0
0
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম
খাগড়াছড়িতে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছে পিকেটাররা
পার্বত্য চট্টগ্রামের যুব সমাজের অগ্রগামী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের ডাকে আজ ৩০ জুন রবিবার দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ স্বতঃস্ফুর্তভাবে পালিত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়িতে পুলিশের হামলায় তিন নারীসহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে চঞ্চলা চাকমাকে(৫০) গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে, রাঙামাটি জেলার কুদুকছড়িতে সেনা সদস্যরা নানাভাবে অবরোধে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এছাড়া সেনারা কুদুকছড়ি ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে এসে ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা ও বুড়িঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ বিকাশ চাকমাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 পুলিশের গুলিতে আহত চঞ্চলা চাকমা (কান্দারা মা)
 
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, রাংগামাটিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষনার নামে অবৈধ ভূমি বেদখল প্রক্রিয়া বন্ধ ও রামগড়ে ম্রেলাপ্রু কার্বারী পাড়া থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবীতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম এ সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
খাগড়াছড়িতে অবরোধের সমর্থনে সকালে পিকেটাররা দক্ষিণ খবংপয্যা এলাকার পেট্রোল পাম্পের পাশে টায়ার জ্বালাতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এতে পিকেটারদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর সাড়ে দশটার দিকে পিকেটাররা পিকেটিং করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সকাল ১১টার দিকে আবারো পুলিশ পিকেটারদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে আরেক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পিকেটারদের ধাওয়া করতে পুলিশের সাথে সেটলার বাঙালিদেরও মাঠে নামানো হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও সেটলাররা দক্ষিণ খবংপয্যা এলাকায় ঢুকে এলাকার নারী-পুরু সহ সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে তিন নারী সহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটের আঘাতে চঞ্চলা চাকমা(৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তার পেটে ৫টি গুলি লেগেছে। আহতদের মধ্যে আরো দু’জন নারী হচ্ছেন শ্যামলিকা চাকমা ও কনি চাকমা। এছাড়া পুলিশ ও সেটলারদের হামলায় দক্ষিণ খবংপয্যা গ্রামে পাহাড়িদের দু’টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা সদর সহ উপজেলাগুলোতে দূরপাল্লা ও আভ্যন্তরীণ সড়ক সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাঙামাটি জেলায় নৌপথেও তেমন কোন নৌযান চলাচল করেনি।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি নতুন কুমার চাকমা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলাকালীন পুলিশ বিনা কারণে সংগঠনের নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন সেটলারদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণভাবে সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করেন।

তিনি আরো বলেন, সড়ক ও নৌপথ অবরোধের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের ভোটে নির্বাচিত তিন সাংসদকেই দায় নিতে হবে। সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংখ্যালঘু জাতিসমূহের উপর জোর পূর্বক বাঙালি জাতিয়তা চাপিয়ে না দিলে এবং এই বিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন এমপি সমর্থন না দিলে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতো না।

তিনি বলেন, প্রশাসন ও সরকারের শত প্ররোচনা ও উস্কানী সত্বেও সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আপাতত কোন বৃহকর্মসূচী ঘোষনা দেয়া হচ্ছে না। তবে সরকার যদি তার কোন অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে ভবিষ্যতে যে কোন সময় আরো কঠোর ও কঠিন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

বিবৃতিতে তিনি সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি সফল করায় সকল যান মালিক মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

একই দাবিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম গত ২৯ জুন খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এবং তিন পাহাড়ি এমপি’র কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। এর আগে ২৮ জুন চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.