রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পেশ

নান্যাচর আর্মি জোন এলাকায় জনসাধারণের উপর হামলা : আহত অর্ধ শতাধিক ৩ জন গ্রেফতার

নান্যাচর: রাঙামাটির নান্যাচরে “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যথাযথ সংরক্ষণ চাই, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অত্যাচারীদের শাস্তি চাই” এই দাবিতে এবং ‘থলচাপ তপোবন অরণ্য ভাবনা কুঠিরে সেনা কর্তৃক দরজা ভাংচুর, জুতা পায়ে প্রবেশ, বুদ্ধমূর্তির কাপড় খুলে ফেলা ও বুদ্ধাসনের সরঞ্জাম তছনছ করে দেয়ার’ প্রতিবাদ আজ ২২ মে সোমবার সকালে ত্রিশরণ কল্যাণ পরিষদ ও থলচাপ তপোবন অরণ্য ভাবনা কুঠির পরিচালনা কমিটির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত ও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

2222

বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে আজ সকাল থেকে রত্নাংকুর বনবিহার এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। সকাল দশটা বাজলে শুরু হয় র‌্যালি। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বৌদ্ধ পতাকা হাতে নানা পেশা ও বয়সের প্রায় দুই সহস্রাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

শান্তিপূর্ণভাবে র‌্যালি সহকারে স্মারকলিপি দিতে যাবার সময় প্রথমে টিএন্ডটি পার্শ্বস্থ নান্যাচর জোনের সেনা চেক পোস্টে বাধা দেয়া হয়। জনতার স্রোত সে বাধা অতিক্রম করে চলে যায়। তারপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঝপথে আবারো ওঁৎ পেতে থাকে। র‌্যালিটি যখন জোন ক্যান্টিনের সামনে পৌঁছে তখন পরিকল্পিভাবে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার পর কেউ পানিতে ঝাপ দিয়ে আর কেউ দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করে। তুবও রেহায় মেলেনি। আহত হয় অর্ধ শতাধিক নারী শিশু ও বৃদ্ধ। কারোর ভাঙে হাত আবার কারোর ফাটে মাথা। কেউ আঘাত পায় হাতে, কেউবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নান্যাচরের বাইরে নেয়া হচ্ছে।

111

লাঠিপেটা ও ধাওয়ার মধ্যেও অগ্রণী অংশটি স্মারকলিপি নিয়ে উপজেলাতে পৌঁছে। তারা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ ইসলাম।

স্মারলিপি প্রদান করে ফেরার পথে আবারো হামলে পড়ে সেনাবাহিনী। এ সময় সেনারা পিসিপি নান্যাচর উপজেলা শাখার সভাপতি জয়ন্ত চাকমা, পাতাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা শংকর চাকমা এবং গবছড়ি এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত চাকমা পিতা-কালাচান চাকমাকে আটক করে নিয়ে যায়। আটককৃতদের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে থানায় হস্তান্তর করার চেষ্টা করা হয়। থানা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ না করে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে কি মামলা দায়ের করা হয়েছে তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

উল্লেখ্য,গত ১৭ মে একদল সেনা সদস্য থলচাপ তপোবন অরণ্য ভাবনা কুঠিরে গিয়ে ভান্তেদের অনুপস্থিতিতে কুঠিরের দরজা ভেঙে জুতা পায়ে অস্ত্রসহ ভেতরে প্রবেশ করে এবং বুদ্ধ আসন ভেঙে দিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়।
———————–
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.