পার্বত্যমন্ত্রণালয়ের দেয়া খাগড়াছড়ি উপজেলার প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-আত্মসাতের অভিযোগ

0
0
ডেস্ক রিপোর্ট
সিএইচটিনিউজ.কম
 
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উন্নয়নের জন্য  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দুই কিস্তিতে প্রদত্ত প্রথম কিস্তির খাদ্যশস্য বরাদ্দ প্রদান করা হয় গত মার্চ মাসে। কিন্তু এই বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে গোঁজামিল ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, এ বছরের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ১০০ টন খাদ্যশস্য (৭০ মে. টন চাউল, ৩০ মে.টন গম) বরাদ্দ প্রদান করে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ২২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য মার্চ মাসের শেষ দিকে প্রথম কিস্তি(প্রকল্পের বরাদ্দের অর্ধেক খাদ্যশস্য) ছাড় দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তি চলতি জুন মাসের মধ্যে ছাড় করিয়ে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সমাপ্ত করতে হবে।

কিন্তু এসব প্রকল্পে নানা ধরণের অভিযোগ এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। অনেক প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বরাদ্দ সম্পর্কেই অবগত নন। আবার ইতিপূর্বে সম্পন্ন করা কাজকে অনেক জায়গায় নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের ভূবন কার্বারী পাড়ার লক্ষী নারায়ণ মন্দির উন্নয়নে ৫ মে.টন চাউল বরাদ্দ করা হয়। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি তরুণ মোহন ত্রিপুরা ও কোষাধ্যক্ষ মিলন ত্রিপুরা জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে মন্দিরের কাজের জন্য দশ হাজার টাকা পেয়েছেন। এ টাকা দিয়ে নয় বস্তা সিমেন্ট ও এক ট্রাক বালু আনা হয়েছে। কোন কাজ করা হয়নি। চেয়ারম্যানও কোন খোঁজ খবর নেননি।

গোলাবাড়ি ইউনিয়নের গঞ্জপাড়ার ধর্ম্মারুন বৌদ্ধ বিহার উন্নয়নের জন্য ৭ মে. টন চাউল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এ বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা রামকমল কার্বারী (৮০) ধর্ম্মারুন বৌদ্ধ বিহারে বসে জানান, তিনি নিজের জমি বিক্রি করে বিহারের ঘর নির্মাণ করেছেন। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বিহারের চতুর্পার্শ্বে পাকা দেওয়াল নির্মিত হচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা নেননি। উপজেলা পরিষদ থেকে বিহার উন্নয়নে খাদ্যশস্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে তাকে জানালে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এ ছাড়াও খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের স্বধর্ম কানন বৌদ্ধ বিহার ভোজন শালা নির্মাণ ও গোলাবাড়ি ইউনিয়নের বেনুবন বৌদ্ধ বিহার উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বিহার পরিচালনা কমিটি পূর্বেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছিল। এখন বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য সেই প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে।

পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ৭ মে.টন চাউল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য জানান, প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে বিক্রি করতে তারা বাধ্য হয়েছেন। চেয়ারম্যান চাল কিনেছেন বাজার দর থেকে দুই টাকা কম মূল্যে এবং খাদ্যশস্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করিয়ে নিয়ে আসতে খরচ বাবদ প্রতি কেজি নয় টাকা করে কেটে রেখেছেন। বাকী টাকা দিয়ে কিভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে আমরা এই প্রকল্পের কাজগুলো করছি।
 
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান জানান, বরাদ্দকৃত প্রথম কিস্তি দিয়ে প্রকল্পের কাজ কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা দেখে, সন্তষ্টি সাপেক্ষে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় দেওয়া হবে।
 
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ২২টি প্রকল্পের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫০ মেট্রিক টনের ডিও (বরাদ্দপত্র) ছাড় দেয়া হয়েছে। সরেজমিনে প্রথম কিস্তির কাজ দেখার পরই দ্বিতীয় কিস্তির ছাড় দেয়া হবে। আর কাজ সনেত্মাষজনক না হলে দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দ ছাড় দেয়া হবে না।
 
তবে এদিকে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শানে আলম খাদ্যশস্য ক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও টাকা কেটে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি এটি তার সুনাম হানির চেষ্টা এবং প্রকল্পের চেয়ারম্যানরা নিজেদের বাঁচাবার জন্য এসব বলছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় দেবার আগে কাজ বুঝে নেওয়া হবে। (সূত্র: সিএইচটি২৪ ডটকম)

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.