রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭
সংবাদ শিরোনাম

প্রথম আলো সম্পাদকীয়

প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা চলবে না : খাগড়াছড়িতে পুলিশ-বিজিবির ধরপাকড

Prothom-Aloপাহাড়ি নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ২১তম বার্ষিকীতেও রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁর বিষয়ে কোনো কৈফিয়ত দিতে যথারীতি নীরবতা পালন করেছে। আর যারা স্মরণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। আমরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মিছিলে এবং পরে গ্রামে হামলা ও ধরপাকড়ের নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে প্রতিবাদের নামে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ যানবাহনের ক্ষতিসাধন করেছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করি।

Onno-Media১৯৯৬ সালের ১১ জুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে কল্পনা চাকমা অপহৃত হয়েছেন। এ ঘটনার তদন্তে ২১ বছর ধরেই রাষ্ট্র একটি পদ্ধতিগত অবহেলা ও ঔদাসীন্যের পরিচয় দিয়ে আসছে। সেই দুর্ভাগ্যজনক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ৭ জুন খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি নারীদের মিছিলে বাধা ও লাঠিপেটা এবং পরে আশপাশের গ্রামের কিছু বাড়িতে বিজিবির দ্বারা ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ৮ জুন খাগড়াছড়ির ডেপুটি কমিশনারের কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। নারীদের মিছিল পণ্ড করতে নারী পুলিশ সদস্য ব্যবহার না করা নিয়ে সেখানে প্রশ্ন উঠলেও তার সদুত্তর মেলেনি। এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে তার আগে ‘পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধার’ মামলা তুলে নেওয়া এবং এর আওতায় জামিন মঞ্জুর না হওয়া তিন যুবকের মুক্তির দাবির প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যথা পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।

বিভিন্ন সরকার কল্পনা চাকমা স্মরণসমাবেশ না করতেই মদদ জুগিয়েছে। কল্পনার অপহরণের ঘটনায় একজন সেনা কর্মকর্তাসহ যাঁদের নামে মামলা ছিল, পুলিশ তার সত্যতা পায়নি। পুলিশ গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাঙামাটির আদালতে যুক্তি খাড়া করেছিল যে ২০ বছরে ৩৯ তদন্ত কর্মকর্তা এ ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেননি, তাই এর বিচার–প্রক্রিয়া বন্ধ হোক। আমরা মনে করি, কতিপয় লোকের প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যর্থতার কারণে কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার টুঁটি চেপে ধরতে রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। পাহাড়ি নারীদের প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা উচিত নয়।


Print Friendly

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।