প্রসঙ্গ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

0
0

– অনন্ত মারমা 

[জাতীয় ডাক পত্রিকার ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এ লেখাটিতে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের করণীয় সম্পর্কে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করা হয়েছে। তাই লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো- সম্পাদকমন্ডলী]

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দেশে এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে। সবার আশঙ্কা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বোঝাপড়া না হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে। বিএনপির দাবি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ চায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ জন্য পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলটির ভরাডুবি সরকারের সেদিকে এগোনোর পদক্ষেপে নতুন গতিবেগ দান করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের সাথে তাল রেখে বিএনপিও একতরফা নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশ অনিবার্য সংঘাতের দিকে ধাবমান, যেন দু’টি গ্রহ সুপারসনিক গতিতে পরস্পরের দিকে এগুচ্ছে, তাদের উভয়ের সংঘাতের ফলে মহাপ্রলয় আসন্ন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আসন্ন সংঘাতও যে রাজনৈতিক মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি করবে তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। কিন্তু প্রলয় বা ধ্বংসের পর যা সৃষ্টি হবে তা কি দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু হবে? গত বিএনপি শাসনের শেষ দিকের রাজনৈতিক সংঘাত দেশে জরুরী অবস্থা ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এসেছিল। সেই সরকারও দেশের আবর্জনা ও জঞ্জাল সরাতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন পরিবর্তন হয়নি।
(১)
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা যাই হোক, নির্বাচনী হাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামেও বইতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অনেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সুবিধাবাদী নির্বাচনী রাজনীতির জ্বরে ভুগতে আরম্ভ করেছে। বর্ষার মৌসুমে যেভাবে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে, অথবা শীতকালে যেমন শিশুদের চোখের অসুখসহ নানা পীড়া দেখা দেয়, এটাও অনেকটা সে রকম। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি মূলত পাহাড়ি জনগণের স্বশাসনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। বৃটিশ আমলের শেষ দিক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনীতির চর্চা শুরু। সে সময় যারা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তারা বুকে সুমহান আদর্শ লালন করতেন। যে রাজনীতির চর্চা তারা করেছিলেন তা ছিল প্রগতিশীল, জনকল্যাণমূলক রাজনীতি। তাদের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থপরতার কোন স্থান ছিল না। এদের মধ্যে স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান অগ্রগণ্য। এরপর পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশ আমলের অধিকাংশ সময় জুড়ে এই প্রগতিশীল রাজনীতির ধারা বজায় থাকে। অবশ্য বিভিন্ন সময়ে যে এর ব্যতিক্রম হয়নি তা নয়; যেমন পাকিস্তান আমলে পাহাড়িদের দু’একজন কুখ্যাত মোনেম খানের ছাত্র সংগঠন এনএসএফের সাথেও যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু এদের সংখ্যা এত কম যে তারা পুরো রাজনীতিতে কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি। বাংলাদেশ আমলের প্রথম দিকে যখন পাহাড়ি ছাত্ররা নিজেদের জাতীয় অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পাহাড়ি ছাত্র সমিতির পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল, তখনও হাতে গোনা দু’একজন ছাত্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে কিছু সুবিধা পাওয়ার লোভে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের সাথে য্ক্তু হতে দ্বিধা করেনি। এটা ভাবতেও অবাক লাগে এটা কেমন করে সম্ভব! যে আওয়ামী লীগের দাম্ভিক প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান পাহাড়িদেরকে বাঙালি হয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ায় ও সংবিধানে পাহাড়িদেরকে বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করায় সারা পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল, তখন চরম সুবিধাবাদী ও বিবেক-বর্জিত না হলে কোন পাহাড়ির পক্ষে সেই আওয়ামী লীগে যোগদান করা সম্ভব ছিল না। আর এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করেছিলেন বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার স্বয়ং। তাই তিনি যে পাহাড়ি জনগণের আশা-আকাঙ্খা ও দাবি উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীতে স্বাক্ষর করবেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। [২০১১ সালে পাশ করা সংবিধানের এই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পাহাড়িদের উপর বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে: বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি।] যে ব্যক্তি বহিরাগত সেটলারদেরকে আভ্যন্তরীণ শরণার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী বাসিন্দার সনদ দিতে পারেন, তার নুন্যতম  জাতপ্রেম আছে তা কেউ বিশ্বাস করে না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন আসন থেকে জিততে পারেনি। দেশে তুমুল জনপ্রিয়তা সত্বেও ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। জনসংহতি সমিতির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই দলটি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামে জয় লাভ করে ও পাহাড়িদের মধ্যে ধীরে ধীরে সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। তবে এতকিছুর পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ভিত্তি মজবুত নয়, কারণ এই দলের যাথে যারা যুক্ত তারা জনগণের চোখে সুবিধাবাদী, সুযোগ সন্ধানী ও ধান্দাবাজ হিসেবে চিহ্নিত। জনগণের উপর যখন অত্যাচার চলে, সাজেক-তাইন্দংসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, তখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। জনগণের উপর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত তাদেরকে কোন প্রতিবাদ সমাবেশ করতে, এমনকি বিবৃতি দিতে পর্যন্ত দেখা যায়নি। বরং তাইন্দং, মানিকছড়ি, রাঙামাটিসহ সাম্প্রতিক হামলায় তাদের দলের লোকজন জড়িত ছিল।
(২)
আগামী নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে ইদানিং কেউ কেউ বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। তবে সরকার একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে দেখে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত জেনে, এই হুজুগে ভাটা পড়েছে। অনেকে পদত্যাগও করেছে। এরা যে ব্যক্তিগতভাবে কিছু পাওয়ার আশায় বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে তা তারা নিজেরাও স্বীকার করে। কিন্তু তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে নিজের ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ লাভ করতে গিয়ে তারা সমাজ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থের কী চরম ক্ষতি করছে? বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলারদের নিয়ে আসে এবং পাহাড়িদের জমিতে পুনর্বাসন করে। তার আমলেই প্রথম গণহত্যা সংঘটিত হয় কাউখালিতে, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম সামরিক ছাউনীতে ভরিয়ে দেয়া হয় এবং পাহাড়িদের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কয়টি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, কত শত ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কত মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে, তার হিসাব মেলা ভার। অথচ আমরা কিছু দিন পরই সে সব ভুলে যাই। আর ভুলে যাই বলেই সেই গণহত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে নতুন করে গণহত্যা চালানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বিএনপির পলিসি হলো জঘন্য প্রতিক্রিয়াশীল ও পাহাড়ি-স্বার্থ বিরোধী। (আওয়ামী লীগেরও তাই) তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে জোরদার করতে ও বহিরাগত সেটলারদের জনসংখ্যাকে আরো বাড়াতে চায়। এমনকি তারা ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনীও সমর্থন করে না। তারা চায় না পাহাড়িরা তাদের বেদখল হওয়া জমি ফিরে পাক। কাজেই বিএনপি বা তার অঙ্গ সংগঠনে যোগদান করা মানেই হলো তার এই পলিসিকে সমর্থন করা। অর্থাৎ কোন পাহাড়ির এই দলে যোগদান করা মানেই হলো আত্মঘাতি কাজ করা, নিজের জাতির স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করা। তাই যার ন্যুনতম জাতপ্রেম আছে সে কখনোই বিএনপি বা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারে না।
(৩)
যুগে যুগে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন সংগ্রামী বিপ্লবীদের আবির্ভাব ঘটেছে, তেমনি দালাল, সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলদেরও অভাব হয় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিল গণশত্রু রাজাকার-আলবদর বাহিনী। এই রাজাকাররা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে এদেশের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, বহু মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছে, কিন্তু তারপরও তারা স্বাধীনতা ঠেকাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, ৪২ বছর পর আজ তাদের বিচার হচ্ছে, অনেকের সাজাও হয়েছে। কাজেই দেখা যায়, কোন জাতির জনগণের মূল চেতনার বিরুদ্ধে কাজ করলে তার পরিণাম কখানোই শুভ হয় না। রাজাকাররা পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করে তখন হয়তো ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সেই অপরিণামদর্শী জাতিবিরোধী কাজের মাশুল দিতে হচ্ছে।

পরাধীন জাতির অধিকার অর্জনের একমাত্র পথ হলো সংগ্রাম করা। এই সংগ্রাম কঠিন, কঠোর ও দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু যখন কোন জাতির জনগণ একমন এক প্রাণ হয়ে সংগ্রাম করেন তখন দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রুকেও পরাজিত করা সম্ভব। দুনিয়ার ইতিহাসে তার বহু প্রমাণ রয়েছে। আজ পৃথিবীতে যেসব স্বাধীন জাতি রয়েছে, তারাও একসময় নিপীড়িত ও পরাধীন ছিল। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তারা তাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দালালী করে কোন জাতি মুক্তি অর্জন করেনি। বরং দালালদের শায়েস্তা করেই তারা নিজেদের আন্দোলনকে জয়যুক্ত করেছে। তাই বলা হয়, যে জাতির জনগণ দালাল প্রতিক্রিয়াশীল ও গণশত্রুদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারে না, সে জাতি কখনোই নিজের অধিকার লাভ করতে পারে না। আগাছা সাফ না করলে যেমন কোন কৃষক ফসল আশা করতে পারে না, জনগণও যদি দালালদের দমন না করে বা প্রকৃত সংগ্রামী বিপ্লবীদের রক্ষা না করে, তাহলে তাদের অধিকার অর্জন হয় সুদূরপরাহত। ভিয়েতনামের জনগণ বিপ্লবীদের রক্ষা ও দালাল স্পাইদের শায়েস্তা করেছেন বলেই প্রথমে ফ্রান্স ও পরে দুনিয়ায় সবচেয়ে পরাক্রমশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই জেনারেল গিয়াপ কিছু দিন আগে গত ৪ অক্টোবর ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ২০০৪ সালে সিএনএন-এর সাথে এক সাক্ষাতকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন: A nation that stands up and knows how to unite will always defeat a foreign invader. When people have the spirit to reach for independent sovereignty … and show solidarity, it means the people can defeat the enemy. অর্থাৎ যে জাতি উঠে দাঁড়ায় ও ঐক্যবদ্ধ হতে জানে, সে জাতি সব সময় বিদেশী দখলদারকে পরাজিত করবে। যখন জনগণ স্বাধীনতা পেতে চায় এবং ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা শত্রুকে পরাজিত করতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারহারা জনগণের উচিত জেনারেল গিয়াপের মতো একজন সফল বিপ্লবীর এই উক্তিকে সব সময় স্মরণ করা। ভিয়েতনামের স্বাধীনতা যুদ্ধের শিক্ষা হলো এই: কোন জাতি ক্ষুদ্র, অনুন্নত ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বল হতে পারে, কিন্তু সে জাতির জনগণ যদি একটি আদর্শবাদী পার্টির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক লাইনে সংগ্রাম করেন তাহলে তাদের বিজয় অনিবার্য। কোন অপশক্তি তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না।

(৪)
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের আন্দোলনের একটি অংশ। জনগণের স্বায়ত্তশাসন আদায়ের সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনকে দেখা বা বিচার করা একটি মস্তবড় ভুল। সন্তু লারমার নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতি বার বার এই ভুল করে আসছে। তারা কখনো আওয়ামী লীগ ও কখনো বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে জনগণের আন্দোলনে চরম ক্ষতি করেছে। অপরদিকে নির্বাচনের প্রশ্নে ইউপিডিএফ-এর কৌশলই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। গত প্রত্যেকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ভোট দিয়ে জনগণের কী লাভ হয়েছে? কিছু ব্যক্তি হয়তো নিজেদের আখের গোছাতে পেরেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণের ভাগ্যের উন্নতি হওয়া দূরের কথা, বরং তাদের উপর নির্যাতন আরো বেড়েছে। আর এই নির্যাতন সত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত কোন সংসদ সদস্য ১৯৯১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গত ২২ বছরে সংসদের ভিতরে ও বাইরে কোন কথা বলেননি। সরকার বা শাসকগোষ্ঠী তো সেটাই চায়। তারা চায় পাহাড়িরা তথাকথিত জাতীয় দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে যুক্ত হয়ে নিজেদের অধিকারের কথা ভুলে যাক, স্বজাতির জনগণের উপর অত্যাচার হলেও তারা চুপ থাকুক। এভাবে তারা দু’একজনকে সুবিধা দিয়ে জনগণের উপর শোষণ নির্যাতন চালাতে সক্ষম হয়। এভাবেই তারা পাহাড়ি জাতিগুলোকে ধ্বংস করে দিতে চায়। অথচ যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারতেন, তাহলে তিনি জাতীয় সংসদে জনগণের কথা বলতে পারতেন, তাদের উপর অত্যাচার জুলুমের চিত্র তুলে ধরতে পারতেন, তাদের দাবি-দাওয়া ও আশা আকাঙ্খার কথা উত্থাপন করতে পারতেন। সংসদের ভিতরে কথা বলতে না দিলে তিনি সংসদের বাইরে বলতে পারতেন, জনগণের পক্ষ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের দুর্দশার প্রতি সারা দুনিয়ার সভ্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতেন। কাজেই একজন স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত করা আমাদের এখন অতি জরুরী কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেন বার বার একই ভুল না করি। আমরা যেন ক্ষুদ্র লাভের বিনিময়ে, কিছু অর্থকড়ি কিংবা সামান্য সুবিধার বিনিময়ে জাতীয় সংসদ সদস্যের পদটি আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো শত্রুর হাতে তুলে না দিই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনের অন্তত দু’টিতে এখনো জনগণের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব। কাজেই আওয়ামী লীগ, বিএনপিকে ভোট দিয়ে আত্মঘাতি কাজ করবেন না, নিজের জাতির সর্বনাশ করবেন না। #

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.