বর্মা সম্পর্কে তার স্ত্রী ও স্বজনরা (২)

0
1

জে চাকমা
নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রধান সর্দার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা এখন সেনাবাহিনীর একজন জঘন্য স্পাই। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর চরম ধ্বংসাত্মক জুম্ম-বিরোধী কর্মসুচি বাস্তবায়নের জন্য সে এখন খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে এবং জুম্ম জনগণের আন্দোলনে এক ঘৃন্য শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার স্বজনরা তার সম্পর্কে কী ভাবছেন সে সম্পর্কে জানতে চার জন জনপ্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর তারা বর্মার কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের সাথে বিভিন্ন সময় কথা বলেন। তাদের সেই কথোপকথনের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে, যা দুই পর্বে প্রকাশ করা হবে। আজ দ্বিতীয় বা শেষ পর্বে থাকছে তার শ্বাশুর প্রতিময় চাকমার মন্তব্য। নিরাপত্তাজনিত কারণে জনপ্রতিনিধিদের নাম গোপন রাখা হলো।

# নব্য মুখোশ বাহিনীর সর্দার বর্মা

নান্যাচর উপজেলার ১ নং সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের বড়পুল পাড়া নিবাসী প্রতিময় চাকমা (৫৮) তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার আপন শ্বাশুর। বর্মার বর্তমান ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি নান্যাচরের এক জনপ্রতিনিধিকে বলেন, ‘জামাই হলেও তপন জ্যোতি চাকমা (বর্মা) সর্ম্পকে কিছু বলার মতো মানসিক জোর আমার নেই। সে বর্তমানে এলাকার মানুষজনের সাথে যে ব্যবহার করছে, নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে তা আমাকে বাকরুদ্ধ করেছে। সে এধরনের জঘন্য কাজ করতে পারবে তা আমার ধারণার মধ্যেও ছিল না। এক সময় সে ইউপিডিএফ-এর হয়ে কাজ করেছিল। তখন আমার নিজেরও গর্ব হতো। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলতে না পারলেও মনের ভেতরে একটা গর্ব অনুভব করতাম। মানসিকভাবে স্বস্তি ও শান্তি পেতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘সে নান্যাচরে আসার পর থেকে আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। সে যা শুরু করেছে তাতে আমি যেমন লজ্জিত একইসাথে তার প্রতি চরম ক্ষুদ্ধও। ১৬ নভেম্বর (২০১৭) থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের নান্যাচর এলাকায় কারোর শান্তি নেই।’

চুক্তির পর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের দিনগুলোতেও এমন দুঃসময় নান্যাচরবাসীর পার করতে হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বলেন, ‘এভাবে জনগণের ওপর আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন অতীতে কোন দল করেনি। ফোনে অথবা সাক্ষাতে কথায় কথায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ লোকজনকে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, আর্থিক দন্ড, শারীরিক দন্ড দেয়া ও খুন-খারাবী এসব কাজ মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ করতে পারে না।’

এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো তাঁর হুমকির কারণে এলাকার সাধারণ লোকজন এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও নিজ বাড়িতে সুখে শান্তিতে থাকতে পারছেন না। এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। হাটবাজার ও গ্রাম্য দোকানও বন্ধ, গাড়ি বন্ধ, ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। দরিদ্র কৃষকেরা উৎপাদিত কাঁচামাল হাটবাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছে না। চাল-ডাল-তেল-লবনের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এদিকে হাটবাজার-গাড়ি-বোট চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, বই-খাতা-কলম কিনতে পারছে না। বড়পুল পাড়া থেকে মা’লছড়ি যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা দিয়েও মোটর সাইকেল ও সিএনসি চালিত অটো রিক্সা চলচল বন্ধ করে দিয়েছে। অস্ত্রের মুখে এলাকার লোকজন এখন তাঁর কাছে জিম্মি।’

তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমার জামাই হিসেবে এলাকার লোকজন এসব কথা আমাকে শোনায়। এমন হয়েছে এই বুড়ো বয়সে পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে আমি মুখ পর্যন্ত দেখাতে পারছিনা। এত করে বুঝানো সত্ত্বেও সে আমাদের কারো কথা শোনে না, পাত্তা দেয় না।’
—————–
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.