শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

মাটিরাংগায় শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা

মাটিরাংগা : শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ বৃহস্পতিবার(১৮ মে, ২০১৭) সকালে মাটিরাংগা উপজেলার গোমতি এলাকার সর্বসিদ্ধি পাড়ায় নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও স্মরণ সভা আয়োজন করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাংগা উপজেলা শাখা। অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পরিবারের  পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক প্রদান করেন শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার ভাই ধন কিশোর ত্রিপুরা। এছাড়া পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী ও শিশুদের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক প্রদান করা হয়। এরপর শহীদ পঞ্চসেন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এযাবত অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দেয়া শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

20170518_102722এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাংগা উপজেলা শাখার সভাপতি শান্তিময় চাকমা। সভায় আলোচনা করেন ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা, মাটিরাংগা উপজেলা সংগঠক সুইমং মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক অবনিকা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মাটিরাংগা উপজেলা শাখার সভাপতি নেপাল ত্রিপুরা, সাবেক ইউপি মেম্বার জলক্ক ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাংগা উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক সজল ত্রিপুরা।

সভা পরিচালনা করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাংগা উপজেলা শাখার সহসভাপতি শুভ চাকমা।

আলোচনা সভায় শহীদ পঞ্চসেনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা বলেন, শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরাসহ শতশত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমাদের আন্দোলন জনগণের কাতারে এসে পৌঁছেছে। এই আন্দোলন সংগ্রামকে আদর্শিকভাবে এগিয়ে নিতে আমাদের আরো বেশি করে জনগণ কেন্দ্রিক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরার শহীদ দিবস এই প্রত্যন্ত এলাকায় পালন করা ছাড়াও আমাদেরকে আগামীতে মাটিরাংগা উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে রাজপথে পালন করতে হবে।

20170518_101923গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা বলেন, পঞ্চসেন ত্রিপুরা এই এলাকায় ছাত্র-যুব সমাজকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। তিনি যতদিন ছিলেন এলাকার জনগণের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিতেন। তিনি গুইমারা, মাটিরাংগা, রামগড়, মানিকছড়িতে ছাত্র-যুব সমাজকে সংগঠিত করেছেন।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের অবনিকা চাকমা বলেন, বোরখা বাহিনীর হাতে পঞ্চসেন ত্রিপুরা শহীদ হন। এই বোরখা বাহিনী সেনাবাহিনীর সৃষ্টি। তারা সেনাবাহিনীর সকল ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা  ও সহায়তা পেত। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা শাসন প্রত্যাহার করার জন্য দাবি জানান।

পঞ্চসেন ত্রিপুরার ভাই ধন কিশোর ত্রিপুরা বলেন, আমার ভাই যে সময় গোমতি-মাটিরাংগা এলাকায় সংগঠনের কাজ করতেন তখন এলাকার পরিস্থিতি খারাপ ছিল। যেকোন সময় আক্রান্ত হওয়া বা  মৃত্যবরণ করার ঝুঁকি ছিল। তিনি বলতেন, আমরা যদি সংগ্রাম না করি তবে কে করবে? ১৯৮১ সালে সংঘটিত গৌমতি গণহত্যায় যে ৫৬ জনকে আমাদের গ্রামে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ২৭ জন ছিল আমাদের পরিবারের আত্মীয়স্বজন। নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠন সংগ্রাম করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো উপায় নেই বলে তিনি বারবার বলতেন।

এছাড়া আলোচনা সভায় আলোচকগণ শহীদ পঞ্চসেন ত্রিপুরাকে নিয়ে আলোচনা প্রসংগে বলেন, পঞ্চসেন খুন হয়েছেন সেনাসৃষ্ট বোরখা বাহিনীর দ্বারা। গত কয়েকদিন আগে নান্যাচরে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পিসিপি নেতা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমা’র মৃত্যু হয়। এভাবে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে দেশের সচেতন জনগণকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পক্ষে প্রতিবাদ সংগ্রামে শরিক  হবার জন্য সভা থেকে আহবান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ মে সেনা-সৃষ্ট বোরখা পার্টির সন্ত্রাসীরা নিজ বাড়িতে পঞ্চসেন ত্রিপুরাকে গুলি করে হত্যা করে।
——————
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.