মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি গ্রামে জানুয়ারী থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সেটলার হামলা ৫ বার, গ্রেফতার ১৬ জন, ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার ২: ইউপিডিএফ মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল

0
2
ডেস্ক রিপোর্ট
সিএইচটিনিউজ.কম
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেলের প্রধান সচিব চাকমা আজ ৫ আগস্ট জানিয়েছেন, এ বছর জানুয়ারী থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি গ্রামে ৫ বার সেটলার হামলা হয়েছে। এতে ১৪টি গ্রামের কয়েক শ’ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়, ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়, হতাহত হয় কয়েক ডজন পাহাড়ি ও বাড়ি ছেড়ে জঙ্গলে অথবা ভারত সীমান্তে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন কয়েক হাজার নারী পুরুষ শিশু ও বৃদ্ধ। কোন কোন ক্ষেত্রে একই গ্রাম একাধিক বার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় বিজিবির সদস্যদের বিরুদ্ধে সহায়তা দেয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।ইউপিডিএফ মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল-এর সংগৃহীত তথ্য অনুসারে,
২৫ জানুয়ারী সেটলাররা হৃদয় মারমা পাড়া ও হেমঙ্গ কার্বারী পাড়ায় হামলা চালিয়ে পাহাড়িদের ২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ৩৪টি বাড়ি ভাঙচুর ও জিতসুখ বৌদ্ধ বিহার তছনছ করে দেয়। বটতলিতে একটি ব্রিক ফিল্ডে গুলিতে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার পর তারা এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।

২ এপ্রিল ৪০-৫০ জন সেটলার প্রাণ কুমার পাড়ার দুর্জয় ত্রিপুরার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। বিজিবি হামলার সময় সেটলারদের সাথে ছিল।

৫ এপ্রিল সেটলাররা বড়নাল ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার রফিকের নেতৃত্বে বড়নাল ইউনিয়নের প্রাণ কুমার পাড়ায় দ্বিতীয় বারের মতো হামলা চালিয়ে ১০ পাহাড়িকে আহত করে। ২৭ জুম্ম পরিবার ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বিজিবির সদস্যরা হামলার সময় সেটলারদের পেছনে ছিল। হামলাকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা হাসেম, কালাম মিঞা, মনির, জাকির, মোমিন ও করিম ছিল বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
১৮ জুন রাতে গোমতি বাজারের পাশে বান্দরছড়া থেকে ২০০ সেটলার টাকার মনি পাড়ায় হামলা চালালে ৪০ পরিবার পাহাড়ি গ্রামবাসী ভয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হামলার আগে সেটলাররা তাদের সড়ক অবরোধ পালন কালে সাইনবোর্ড এলাকায় পাহাড়িদের বাড়িতে হামলা চালানোর হুমকি দেয়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সেটলাররা মুসলিম পাড়া, গোইয়া পাড়া, চর পাড়া, আদর্শ গ্রাম ও নতুন পাড়ায় মিটিঙ করে পাহাড়িদের বাড়িঘরে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
৩ আগস্ট তাইন্দং এ সেটলারা বিজিবির সহায়তায় ১০টি পাহাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়ে কয়েক শ’ বাড়িঘরে আগুন দেয় ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। হামলায় অজ্ঞাত সংখ্যক পাহাড়ি নিহত ও ৫০ জন আহত হয়। কয়েক হাজার পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে নো ম্যান্স ল্যান্ডে ও ১৬০ পরিবার পানছড়ির উল্টাছড়িতে আশ্রয় নেয়।পরিবীক্ষণ সেল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাবেশে বাধার ঘটনা উল্লেখ করে আরো জানিয়েছে, উক্ত সময়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতাকমী ও সাধারণ গ্রামবাসীসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে ৭ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়, ১ জনকে হাতে অস্ত্র গুঁজে দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়, ২ জনকে ৫৪ ধারায় আটক দেখানো হয় এবং ৬০ বছরের বৃদ্ধসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা সাজানো হয়।
এছাড়া গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের এক নেতাকে খুন ২ পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে ইউপিডিএফ মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল জানিয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.