যে দল বাঙালি বানায় সে দলের কাউকে আমরা ভোট দেবো না-কমলছড়ি নির্বাচনী সভায় বক্তারা

0
0

সিএইচটিনিউজ.কম

খাগড়াছড়ি: “বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের সময় জাতিসত্তার জনগণকে বাঙালি বানানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান। এসময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা চাইথোয়াই রোয়াজাকে সাথে নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিরোধিতা করেন। সেই শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশের মাধ্যমে আমাদের উপর বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দিয়ে জাতিগত পরিচয় মুছে দিয়েছেন”।

P1040262আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী প্রসিত বিকাশ খীসার নির্বাচনী প্রতীক হাতি মার্কার সমর্থনে আজ ১ জানুয়ারি বুধবার বেলা আড়াইটায় নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় জাতীয় কমিটির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন কমলছড়ির গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিবন্ধী কমিটির সভাপতি এবং নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটি-কমলছড়ি ইউনিয়নের আহ্বায়ক বীরবাহু চাকমা।

তিনি আরো বলেন, তথাকথিত জাতীয় দলগুলি অতীতে নির্বাচনী প্রতারনার খপ্পরে ফেলে আমাদের ভোটগুলো ছিনতাই করে বহুবার ক্ষমতায় গিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের ভূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে আজ আমাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দল বাঙালি বানায় সে দলের কাউকে আমরা ভোট দেবো না। জাতীয় দল নামধারী কোন প্রার্থীকেও আমরা আর ভোট দেবোনা। জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তথাকথিত জাতীয় দল নামধারী কোন দলের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিকে নয়, সংসদে বঞ্চিত মানুষের পক্ষে লড়াই করার একমাত্র যোগ্য প্রার্থী প্রসিত বিকাশ খীসাকে হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে সংসদে পাঠানোর মাধ্যমে জাতীয় দল নামধারী দলগুলোর প্রতারণা জবাব দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় সমবেত জনতা তুমুল করতালির মাধ্যমে বীরবাহুর বক্তব্যের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।

খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী প্রসিত বিকাশ খীসা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ডিসি এসপি থেকে শুরু করে কোনা প্রাশাসিনিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বা তাদের নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা ও অধিকার পার্বত্যবাসীর নেই। কিন্তু যদি সংসদে নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারি তবে আমরা প্রশাসনের যেকোন নিপীড়ন বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, এই সময়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং নিজেদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠানোর জন্য ৫ জানুয়ারিতে নিজেদের ম্যান্ডেট প্রদান করতে হবে।

সভায় কমলছড়ি এলকার শিশু-ছাত্র-যুব-নারী-বৃদ্ধ সহ সব বয়সী শত শত নারী পুরুষ স্বঃতস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

এছাড়াও সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় জাতীয় কমিটি-খাগড়াছড়ি উপজেলার আহ্বায়ক ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটির সদস্য উজ্জল স্মৃতি চাকমা, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব দীপায়ন চাকমা, ২৬৪ নং ভুয়াছড়ি মৌজার হেডম্যান কীর্তিময় চাকমা, কমলছড়ি গ্রামের বিশিষ্ট মূরুব্বী ও কার্বারী দুর্ঘা মোহন চাকমা, ভুয়াছড়ি গ্রামের অন্যতম মূরুব্বী অষ্টবসু চাকমা। সভা পরিচালনা করেন সমন্বয় কমিটির সদস্য অংগ্য মারমা।

সভার কমলছড়ি গ্রামের ছোট্ট শিশু অনিষ্ঠা চাকমা ও পর্ণাসি চাকমা হাতি প্রতীক অংকন করে প্রসিত বিকাশ খীসার হাতে তুলে দেন। এর পরে ফুলের তোরা দিয়ে প্রার্থীকে বরণ করে নেয়া হয়। কমলছড়ি পল্লী কল্যাণ সমিতির পক্ষে ফুলের তোরা দিয়ে বরণ করে নেন বিমল খীসা এবং কমলছড়ি ঐক্য সংগঠনের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি সতিকা চাকমা।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.