রামগড়-মানিকছড়িতে ভূমি বেদখল ও সেনা হয়রানি-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে লিফলেট

0
0

সিএইচটি নিউজ ডটকম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়িতে ভূমি বেদখল ও সেনা হয়রানি-নির্যতন বন্ধের দাবি জানিয়ে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট মানিকছড়ি-রামগড় ভূমি রক্ষা ছাত্র-যুব কমিটির নামে এটি প্রচার ও বিলি করা হয়।

এতে বলা হয়, কয়েক দশক আগে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়-মানিকছড়ি এলাকাটি সম্পুর্ণ মারমা-ত্রিপুরা অধ্যুষিত ছিল। বাঙালিরা ছিল হাতে গোনা কয়েক পরিবার মাত্র। কিন্তু স্বাধীনতার পর দ্রুত এই চিত্র পাল্টাতে থাকে এবং ১৯৭৯ – ৮২ সালে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিশালাকারে সেটলারদের বসতি দেয়ার ফলে পাহাড়ি তথা মারমারা নিজ এলাকায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে।

নতুন নিয়ে আসা বাঙালি সেটলারদের জমি বরাদ্দের জন্য জোর করে মারমাদের নিজ জমি থেকে  উৎখাত করা হয়। বিশেষত ১৯৮০ দশকে ব্যাপক সেনা অপারেশন চালানো হলে পাহাড়ি তথা মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা জাতির লোকজন ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। যারা ভারতে যায়নি তারা নিজ গ্রাম ছেড়ে গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এভাবে তৎকালীন সরকার আমাদের জমিগুলো কেড়ে নিয়ে বাঙালিদের নিকট ভাগ করে দেয়।

অপরদিকে মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরারা জমি হারিয়ে ক্রমশঃ থানা-উপজেলা সদর থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়। এ কারণে রামগড় সদর এলাকাটি (শহর) এক সময় সম্পূর্ণ মারমা অধ্যুষিত হলেও বর্তমানে সেখানে মারমা পরিবারের সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র। অর্থাৎ গত ৩/৪ দশকে রামগড়ের বাঙালি-মারমা (পাহাড়ি) জনসংখ্যার চিত্র বা ভারসাম্য সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে লিফলেটে বলা হয়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা দেশে ফিরে আসি। কিন্তু ফিরে এসে আমাদের অনেকে নিজ জমি ফিরে পায়নি। অপরদিকে পাহাড়িরা ভারতে শরণার্থী থাকাকালে যেসকল বাঙালি সেটলার পাহাড়ি তথা মারমা-ত্রিপুরা ও চাকমাদের জমি বেদখল করেছিল তারা এখনো সেভাবেই আছে। আমাদের জমিগুলো তারা এখনো ভোগদখল করছে।

এতে অভিযোগ করে বলা হয়, শুধু তাই নয়, জমি ফিরে দেয়া দূরের কথা, সেটলাররা সেনাবাহিনীর সহায়তায় অথবা কতিপয় সেনা কমান্ডারের উস্কানি ও প্ররোচনায় সেটলার বাঙালিরা প্রতিনিয়ত আমাদের জমিজমা কেড়ে নিতে তৎপর রয়েছে। ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে যাতে প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগঠিত হতে না পারে সেজন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহাড়িদের পাইকারী হারে গ্রেফতার করছে, তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে, গভীর রাতে তাদের বাড়িঘর তল্লাশী করছে, পাহাড়িদের গ্রামে হুমকীমূলক অবস্থান নিচ্ছে এবং শুন্যে গুলিসহ নানাভাবে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করছে।

লিফলেটে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. হাফছড়ি ও মানিকছড়িতে জমি বেদখল প্রচেষ্টা: গত ২ জুলাই ২০১৫ রামগড়ের হাফছড়ি ও মানিকছড়ির বক্রি পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় মানিকছড়ি সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সেটলাররা ১০ পাহাড়ির (৩ জন মারমা, ৭জন চাকমা) ৪৭ একর জমি বেদখলের অপচেষ্টা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পাহাড়িরা এই ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং একটি ভূমি রক্ষা কমিটি গঠন করে। তারা ভূমি বেদখল বন্ধের জন্য স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে আবেদন জানায়। স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষকেও (সিন্দুকছড়ি জোন ও মানিকছড়ি সাব-জোন) এ ব্যাপারে আবেদনের অনুলিপি দিয়ে অবহিত করা হয়।

আবেদনের প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ১৯ জুলাই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন এবং পাহাড়ি ভূমি মালিকদের অনুকূলে রায় দেন। ইতিপূর্বে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারাও বেদখলকারী সেটলার বাঙালির কাবুলিয়তকে ভূয়া অখ্যায়িত করে পাহাড়িদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু এরপরও ২৫ জুলাই মনাদং পাড়ায় পুলিশ বক্স স্থাপনের চেষ্টা করা হয় এবং ৫ আগষ্ট একই এলাকার (উত্তর হাফছড়ি নামেও পরিচিত) সাধন চাকমার জমিতে ক্যাম্প ও অপর এক মারমার জমিতে মাদ্রাসা স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এর বিরুদ্ধে যাতে জনগন প্রতিবাদ করতে সাহস না পায় সেজন্য ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মানিকছড়ি-রামগড় ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব রুইচিং প্রু মারমাকে এবং মনচুরী মারমা(৩৫) নামে অপর এক গ্রামবাসীকে গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আছে। একইদিন সেনারা সাচিং মারমা (২৫), উষাজাই মারমা (২৬), অংরি মারমা (৩৫) ও সাথোয়াই মারমা (৩০) নামে ৪ পাহাড়িকে বিনা কারণে বেদম মারধর করে।

এছাড়া হাফছড়ি ইউপি মেম্বার (২ নং ওয়ার্ড) বিষু কুমার চাকমা ও অপর এক গ্রামবাসী মনচুরী মারমাকে (৩৫) গবমারা থেকে আর্মিরা ধরে নিয়ে প্রথমে সিন্দুকছড়ি জোন ও পরে গুইমারা ব্রিগেডে নিয়ে যায়। সেনারা ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি উগ্য কার্বারীকেও ধরতে তার বাড়ি ঘেরাও করে। আটককৃতদেরকে পরে মিছিল সমাবেশে অংশ নেবে না এই শর্তে জোরপূর্বক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

কিন্তু এসব সত্ত্বেও এই অন্যায় ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তারা খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং কয়েকটি স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। জনগণের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে সেনা-সেটলারদের ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২. মরা ডুলুতে সেটলারদের বসতি : রামগড় সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এবং খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে মরা ডুলু নামক এলাকায় পাহাড়িদের মালিকানাধীন জমিতে ৩ পরিবার সেটলার বিচ্ছিন্নভাবে বসতি স্থাপন করে। এই এলাকা থেকে বাঙালিদের মূল বসতি অনেক দূরে (৪/৫ কিলোমিটার)। এটা গত জুন মাসের ঘটনা। পাহাড়িরা বেদখলকারী সেটলারদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে চলে যেতে বললে কোন কাজ হয়নি। উল্টো বাঙালিরা পাহাড়িদের ধমক দেয় এবং সেনা ও পুলিশী নির্যাতনের ভয় দেখায়। এরপর গত ১১ আগষ্ট পাহাড়িরা সংঘবদ্ধ হয়ে বেআইনীভাবে তোলা সেটলারদের উক্ত তিনটি ঘর ভেঙে দেয়। এই ঘটনার পর সেনা ও বেসামরিক প্রশাসনের তৎপরতা বেড়ে যায়। সিন্দুকছড়ি জোনের সেনারা ১৫ আগষ্ট সাথোয়াই মারমা (৪৮) ও  ডুঅং প্রু মারমা (৫০) নামে দুই পাহাড়িকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। জেলা প্রশাসক, এমপি এবং রামগড় থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তারা গহীন জঙ্গলে বাঙালি লোকালয় থেকে দূরে পাহাড়িদের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের চেষ্টা করায় সেটলার বাঙালিদের ভৎর্সনা করেন এবং তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, হাফছড়ি ও মরা ডুলুতে ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সেনাবাহিনী তাদের তৎপরতা আরো বাড়িয়ে দেয় এবং ষড়যন্ত্র জোরদার করে। তারা প্রায় প্রতিদিন টহলের নামে পাহাড়িদের মনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করছে। গত ১৭ আগষ্ট দক্ষিণ হাফছড়িতে (মনাদং পাড়া) গিয়ে তারা ব্ল্যাংক ফায়ার করে। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। সেনারা এক বৃদ্ধা নারীসহ তিন ব্যক্তির বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশী  চালায়। তারা রাত ১১টা পর্যন্ত মনাদং পাড়া স্কুলে ও দক্ষিণ হাফছড়িতে অবস্থান করে। এছাড়া সেনারা তথাকথিত ’শান্তি সমাবেশে’ যোগ দিতেও পাহাড়িদের বাধ্য করে।

লিফলেটে ভুমি বেদখল নতুন নয় উল্লেখ করা বলা হয়, ইতিপূর্বে বলা হয়েছে রামগড়-মানিকছড়িতে ভূমি বেদখল নতুন ঘটনা নয়। বস্তুত: পাহাড়িরা জমি হারাতে হারাতে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। পার্বত্য চুক্তির পর মনে করা হয়েছিল শান্তি ফিরে আসবে, আমরা সুখে শান্তিতে নিরুপদ্রবে থাকতে পারবো এবং আমাদের হারানো জমি ফিরে পাবো। কিন্তু সে আশায় গুঁড়ে বালি। উল্টো মানিকছড়ি-রামগড় এলাকায় দিন দিন জমি বেদখলের ঘটনা বেড়ে চলেছে। যেমন- ২০০৯ সালে বড়ইতলিতে ৫০ একর পাহাড়ি (মারমা) জমি বেদখল করে সেটলার পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। জনগণের প্রতিরোধের মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০১০ সালের জুলাই মাসে রামগড়ের পশ্চিম পিলেভাঙা-পাগলা পাড়ায় ৫০ একর পাহাড়ি জমি বেদখলের চেষ্টা করা হয়। ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল শণখোলা পাড়ায় জমি বেদখলকে কেন্দ্র করে মারমাদের কয়েকটি গ্রামের ৩০-৪০ টি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ২০১১ সালে রামগড়ের বেলছড়ি পাড়ায় একশ একরের বেশী জমি বেদখল করা হয়। ২০১২ সালে পূর্ব পিলাভাঙায় বিজিবি পাহাড়িদের জমিতে ১৩ পরিবার বাঙালিকে বসিয়ে দেয়। বর্তমানে সেখানে ২৪ পরিবার বাঙালি বসবাস করছে। জায়গার মালিক পূর্ণচন্দ্র চাকমা এর বিরুদ্ধে মামলা করেও জমি উদ্ধার করতে পারছেন না। এছাড়া একই পাড়ায় অংসা মারমার ২ একর জমি বেদখল করা হয়েছে।

লিফলেটে আরো বলা হয়, আমরা স্মরণাতীত কাল থেকে বংশ পরম্পরায় এই এলাকায় বসবাস করে আসছি। বহুকাল ধরে প্রচলিত আমাদের প্রথা অনুসারে আমরা জমি ভোগ দখল করি। সে কারণে অনেকের জমির দলিল পত্র নেই। কিন্তু সেটলারদের সাথে জমি নিয়ে কোন সমস্যা হলে অর্থাৎ সেটলাররা যখন আমাদের ভোগ দখল করা জমি বেদখলের চেষ্টা চালায় এবং আমরা তার বির”দ্ধে প্রতিবাদ করি, তখন প্রশাসন আমাদের কাছ থেকে জমির মালিকানার দলিল পত্র চায়। অপরদিকে বাঙালি সেটলারদের হাতে থাকে ভূয়া কবুলিয়ত, যার চৌহদ্দির কোন ঠিক নেই।

কবুলিয়ত হলো এমন একটি জমির মালিকানা দলিল, যা এরশাদ সরকারের আমলে জেলা প্রশাসন কর্তৃক নতুন আসা সেটলারদের দেয়া হয়। এর  কোন আইনগত ভিত্তি নেই, কারণ এই ভূমি বন্দোবস্তে স্থানীয় হেডম্যানের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি।

এখানে প্রশ্ন হলো, জমির কবুলিয়ত বা মালিকানার দলিল কেন স্থানীয় অধিবাসী পাহাড়িদের দেয়া হয়নি বা হয় না? আদি বাসিন্দা হিসেবে তারাই তো এটা পাওয়ার অধিকারী। যুগ যুগ ধরে তারা এখানে বসবাস করছে, আর জমির মালিকানা তাদের বঞ্চিত করে দেয়া হলো বহিরাগত সেটলারদেরকে। এর চাইতে চরম অমানবিক, অবিচার আর কি হতে পারে! শুধু তাই নয়, বহু এলাকা বহু জমি বেদখল করার পরও বাকি জমি থেকেও এখন আমাদের উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও সেটলাররা যেন আমাদেরকে ঠেলে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানা থেকে বের করে দিতে চায়।

ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে লিফলেটে বলা হয়, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরাসহ সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ছাড়া কোন পথ জনগণের সামনে খোলা নেই। সেনাবাহিনী যতই ভয়ডর দেখাক, হম্বিতম্বি করুক, তারা জনগণের সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ প্রতিরোধকে ভয় পায়। এজন্য তারা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুরুব্বীদেরকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে জোর করে মুচলিকা নেয় যে, তারা আর মিছিল মিটিং ও সমাবেশে যোগ দেবে না। কিন্তু এভাবে কখনোই জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমন করা যাবে না। বরং সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হয়রানি, তল্লাশী, গ্রেফতার ইত্যাদির কারণে পাহাড়িদের মধ্যে ক্ষোভ অসন্তোষ বেড়ে চলেছে। অতীতে সেনা অপারেশন থেকে বাঁচার জন্য লোকজন হয় গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিতো নতুবা ভারতে পালিয়ে যেতো। এখন সেই জঙ্গলও নেই, ভারতে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ। এই অবস্থায় নিজ ভূমিতে মরণপণ লড়াই করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

সেনাবাহিনীর কাজ কি? এমন প্রশ্ন রেখে লিফলেটে বলা হয়, আমরা জানি একটি দেশে সেনাবাহিনীর কাজ হলো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী এবং বিশেষত গুইমারা ব্রিগেডের অধীন সিন্দুকছড়ি জোন ও মানিকছড়ি সাবজোনের আর্মিদের কাজ হলো দুইটি। এক, পাহাড়িদের ভূমি বেদখলে সেটলারদের প্ররোচিত, উৎসাহিত ও সাহায্য করা; দুই, পাহাড়িদের উপর নির্যাতন চালানো। এই দুইটি কাজের মধ্যে অবশ্যই যোগসূত্র রয়েছে। পাহাড়িদের উপর দমন পীড়ন চালিয়ে তাদেরকে সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখতে পারলে সেটলারদেরকে দিয়ে ভূমি বেদখলের কাজটি সহজ হয়। পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, গুইমারায় ব্রিগেড স্থাপন করা হয়েছে। মনে হয় পাহাড়িদের জমি বেদখল করাই হলো এই ব্রিগেড স্থাপনের একমাত্র লক্ষ্য। সাম্প্রতিককালের ঘটনাবলী এই ধারণার পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়।

উক্ত লিফলেটে সরকারের কাছে ৭ টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে-
১। মানিকছড়ি-রামগড়সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধ করুন।
২। ভারত-প্রত্যাগত পাহাড়ি শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও জমি ফিরিয়ে দিন।
৩। এরশাদ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসিত সেটলারদের সমতলে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন করুন।
৪। পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি আইনের স্বীকৃতি দিন।
৫। সেনাবাহিনীর হয়রানি, নির্যাতন, তল্লাশী, ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করুন।
৬। সংবিধানে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরাসহ পাহাড়িদের জাতিগত অস্তিত্বের স্বীকৃতি দিন।
৭। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করুন।

পাঠকদের জন্য নিচে লিফলেটটি দেওয়া হলো:

Leaflet page1

Leaflet page02

Leaflet page03

Leaflet page04

—————————-

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.