শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় মিঠুন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-এর বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ি : ‘নব্য পাক হানাদার বাহিনী ও নব্য রাজাকাররা হুঁশিয়ার’ এই শ্লোগানে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি ইউনিট।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি ২০১৮) দুপুর ২টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরস্থ ইউপিডিএফ-এর জেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি স্বনির্ভর-রেডস্কোয়ার-উপজেলা-কলেজ গেইট-চেঙ্গিস্কোয়ার ঘুরে এসে স্বনির্ভর বাজারের শহীদ অমর বিকাশ সড়কে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা’র সঞ্চালনায় ও কেন্দ্রীয় সদস্য দেবদন্ত ত্রিপুরা’র সভাপতিেেত্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরুপা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)’র খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি তপন চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে নিরুপা চাকমা বলেন, ১৯৯৬ সালের মুখোশ বাহিনীকে খাগড়াছড়ির জনগণ দমন করেছে। শাসকগোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়েছে। বর্তমানেও জনগণ শাসকগোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে। নব্য মুখোশ বাহিনী ও শাসকগোষ্ঠীর কুচক্রদের দমন করতে পাহাড়িদের অস্ত্র লাগবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ লাঠি দিয়ে, থুথু দিয়ে, গোবর দিয়ে, পঁচা বেগুন দিয়ে, ঝাড়ু দিয়ে তাদের দমন করবে, প্রতিহত করবে। তিনি নারী-পুরুষ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ধরনের অপশক্তি ধ্বংস করার আহ্বান জানান।

তপন চাকমা বলেন, মিঠুন চাকমা’র হত্যাকা- কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে নব্য মুখোশ বাহিনী দিয়ে মিঠুন চাকমাকে হত্যা করেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান।

তিনি তরুণ বিপ্লবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিঠুন চাকমার আদর্শকে ধারণ করে শোককে শক্তি ও চোখের পানি অগ্নিতে পরিণত করে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

দেবদন্ত ত্রিপুরা বলেন, প্রত্যক জাতির একটি সংগ্রামী ইতিহাস আছে। যা সেই জাতির জনগণকে আন্দোলনে উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত করে। মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ-এর আন্দোলন সংগ্রামে ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে ঠিক তেমনি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। চির অম্লান হয়ে থাকবে। মিঠুন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভাষা, ঐতিহ্য নিয়ে আত্মমর্যাদার সাথে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তার সেই অগ্রযাত্রা সেনা-সৃষ্ট নব্য মখোশ বাহিনী থামিয়ে দিয়েছে। সংগঠনের মধ্য থেকে মেধা শূণ্য করে দেওয়ার জন্য মিঠুন চাকমাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সেই কাপুরুষোচিত কাজের জন্য প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রুপক-দেবোত্তম-অনিমেষসহ বহু উদীয়মান নেতাকর্মীকে হত্যা করে যেমনি ইউপিডিএফ-এর আন্দোলনকে দমন করা যায়নি, মিঠুন চাকমাকে হত্যা করেও পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে দমানো যাবে না। মিঠুন হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রপ্তার করা না হলে আরো কঠিন-কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

তিনি আগামী ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত শহীদ মিঠুন চাকমা’র স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্মরণ সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
—————


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *