বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

লংগদুতে পাহাড়ি গ্রামে সেটলার হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৮ গণসংগঠনের  নিন্দা ও প্রতিবাদ

রাঙামাটি : রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় সেনা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় পাহাড়ি গ্রামে সেটলারদের বর্বরোচিত হামলা, ৩০০ এর অধিক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সহায়সম্পদ লুটপাট ও এক বৃদ্ধাকে খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৮ গণসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, সাজেক নারী সমাজ, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, প্রতিরোধ সাংস্কতিক স্কোয়ার্ড ও সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি।

bibritiগতকাল বৃহস্পতিবার (০১ জুন) খাগড়াছড়ি-দিঘীনালা সড়কের ৪ মাইল নামক এলাকায় লংগদু উপজেলা নিবাসী  মটর সাইকেল চালক নুরুল ইসলাম (নয়ন) এর লাশ পাওয়া ঘটনাকে পুঁজি করে আজ শুক্রবার (২ জুন) সকালে লংগদু উপজেলায় আওয়ামী যুবলীগের স্থানীয় উপজেলা শাখার নেতৃত্বে ‘লংগদু এলাকাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত মিছিল থেকে এ হামলা চালানো হয়।

আজ শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানের বিবৃতিতে ৮ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উক্ত হামলার ঘটনাকে বর্বরোচিত আখ্যায়িত করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন অপারেশান উত্তরণের মাধ্যমে জুম্ম জনগণকে দমনের সুদূরপ্রসারী নীলনকশার অংশ হিসেবে এই সাম্প্রদায়িক হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আজ সকালে লংগদু উপজেলা সদরে আওয়ামী যুবলীগের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল আব্দুল আলীম চৌধুরী, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম, এড. আবছার আলী, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি আলমগীর হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও লংগুদু আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জানে আলম বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ থেকে পাহাড়িদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হামালার জন্য উস্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রামের বাড়িঘর,দোকানপাটে নির্বিচারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। নেতৃৃবৃন্দ মনে করেন সেন্-াপুলিশ প্রশাসন পক্ষ থেকে সহযোগিতা না থাকলে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হমালা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতো না।

নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ি জনগণের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পর ১৪৪ ধারা জারি করার পরেও পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালানো হয়। অগ্নিসংযোগের আগে বেশ কয়েকটি গ্রামে পাহাড়ি জনগণ প্রতিরোধ করতে চাইলে সেনাবাহিনী পুলিশ পাহাড়ি জনগণকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এই সুযোগে সেটলার বাঙালিরা পাহাড়ি জনগণের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং লুটপাট করে।

এদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সব সময় হামলার আতঙ্কে বসবাস করতে হয় অভিযোগ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রশাসনের সহযোগিতায় কখনো সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর, গোবিন্দগঞ্জে সান্তালদের উপর আবার কখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখলের জন্য পাহাড়ি জনগণের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা পরিচালনা করে অসছে। সরকার দলীয় লোকেরা সেনা-পুলিশের সহযোগিতায় এই সব হামলা পরিচালনা করে থাকে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে লংগুদু উপজেলায় নিরীহ পাহাড়ি জনগনের ওপর  হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িত আওয়ামীলীগ, উগ্রসাম্প্রদায়িক সেটলার বাঙ্গালী ও  উস্কানীদাতা সেনা-পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি এবং লংগদুতে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি জনগণের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর সভাপতি নিরূপা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিনয়ন চাকমা, সাজেক নারী সমাজের সভাপতি নিরুপা চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কাজলী ত্রিপুরা ও প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়ার্ড এর সভাপতি  জ্ঞান কীর্তি চাকমা ও সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
—————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.