বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
সংবাদ শিরোনাম

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু কথা

লিখেছেন : নিগিরা ধন চাকমা

[পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরস্থিতিতে নিগিরা ধন  চাকমার ফেসবুক নোটটি গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে হুবহু প্রকাশ করা হলো–সম্পাদক মণ্ডলী ]

এক
চলমান সংঘাত সম্পর্কে

গত কিছুদিন ধরে ইউপিডিএফ ও জেএসএস এম, এন, লারমা ওরফে সংস্কারবাদীর মধ্যে রক্তাক্ত সংঘাত চলছে। তার আগে ‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’ বা নব্য মুখোশ বাহিনীর সাথে ইউপিডিএফের বিরোধ শুরু হয়। অবশ্য নব্য মুখোশরাই নানিয়াচরে ইউপিডিএফ-এর কর্মি ও সমর্থকদের হত্যা করে সংঘাতের সূচনা করে। তাদের সহযোগিতা দেয় সেনাবাহিনী ও সংস্কারবাদীরা। সংস্কারবাদী নেতা শক্তিমান চাকমা (যিনি কিছুদিন আগে এক হামলায় মারা গেছেন) নব্য মুখোশদের আস্তানায় গিয়ে তাদেরকে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। আমার ধারণা সেনাবাহিনী ও সংস্কারবাদীদের স্বার্থের মিল রয়েছে। উভয়েই চায় ইউপিডিএফকে ধ্বংস অথবা দুর্বল করতে। অবশ্য তাদের চাওয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে। শক্তিমান চাকমার ব্যক্তিগত স্বার্থও অবশ্য এতে যোগ হয়েছে। বিগত ইউপি নির্বাচনে নানিয়াচরে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জিতেছিলেন। এতে আগামী উপজেলা নির্বাচনে শক্তিমান চাকমার জয়ের সম্ভাবনা ভীষণভাবে দুর্বল হয়ে যায়। তাই তিনি নব্য মুখোশদের ব্যবহার করে ইউপিডিএফকে দুর্বল করতে চেয়েছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। তার এই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ যে মেলেনি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

উপরোক্ত বিশ্লেষণের আলোকে একদিকে সংস্কারবাদী ও নব্য মুখোশবাহিনী এবং অন্যদিকে ইউপিডিএফের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে পুরোপুরি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বলা যায় না। আসলে শাসক গোষ্ঠী সামগ্রিকভাবে জুম্ম জনগণের আন্দোলন দমনের জন্য সংস্কারবাদী ও নব্য মুখোশদের ব্যবহার করছে মাত্র। আর যে হত্যাকা-গুলো ঘটছে সেগুলো সমতলের “ক্রসফায়াসের” পাহাড়ি সংস্করণ ছাড়া কিছুই নয়। তাই বর্তমানে পাহাড়ি বা জুম্মদের মধ্যে যে সংঘাত চলছে তা প্রকৃত অর্থে শাসকগোষ্ঠী তথা সেনাবাহিনীরই সৃষ্টি। পর্দার আড়ালে থেকে বিকল্প উপায়ে ‘ক্রসফায়ার’ করিয়ে তারা সমালোচনা থেকে বেঁচে যাচ্ছে এবং সাধু সাজতে সক্ষম হচ্ছে।

দুই
নব্য মুখোশ বাহিনী প্রসঙ্গে

‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’ নাম দিয়ে গত বছর ১৫ নভেম্বর এই বাহিনীর জন্ম। সাধারণত স্বাভাবিক একটি পার্টি বা সংগঠনের জন্ম হয়ে থাকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। সে হিসেবে এদের জন্মটাও অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক। নামে ‘গণতান্ত্রিক’ হলেও তাদের কাজের মধ্যে গণতন্ত্রের ছিটে ফোঁটাও নেই। শুরু থেকেই এরা খুন-খারাবীতে লিপ্ত হয়। নিরীহ নিরস্ত্র দুই এইচডব্লিউএফ নেত্রীকে অপহরণ করে এরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অত্যন্ত খারাপ নজীর সৃষ্টি করে। তাদের অত্যাচারে ও হুমকিতে জনপ্রতিধিসহ অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশ সংবিধান মোতাবেকও ‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’ বা নব্য মুখোশ বাহিনী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সেহেতু নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তবে এই স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়, বরং শর্তাধীন। অনুচ্ছেদটির প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্বৃত করা হল:

‘৩৮। জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি –

…. (গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কর্ম পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।’

‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’ বা নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রচারিত বুকলেটে (যেটি শক্তিমান চাকমা লিখে দিয়েছিলেন বলে প্রকাশ) কিংবা তাদের ১৯ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে কোথাও দাবিদাওয়া ও কর্মসুচির উল্লেখ নেই। তাদের বিষোদ্গার কেবল ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে। অবশ্য ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সমালোচনা নিন্দা তারা করতে পারে। সে অধিকার তাদের আছে, এমনকি ইউপিডিএফকে তারা প্রতিরোধ বা প্রতিহতও করতে পারেন, তবে তা হতে হবে বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কিন্তু তারা সেভাবে না করে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইউপিডিএফকে ধ্বংস করতে চাইলেন এবং এখনো চাইছেন। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার এটা কীভাবে সহ্য করতে পারে তা আমার আদৌ বোধগম্য নয়। ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ ওরফে নব্য মুখোশ বাহিনী দেশের নাগরিকদের (ইউপিডিএফ) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত এটা সবার কাছে স্পষ্ট ও তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে তা প্রমাণিত। কাজেই সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের (গ) উপ-অনুচ্ছেদ মোতাবেক এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য।

তিন
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া : মিঠুন ও শক্তিমান

ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমা খুন হন ৩ জানুয়ারী। এর দু’দিন পর খাগড়াছড়িতে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য রাঙামাটি, পানছড়ি, দীঘিনালা, মারিশ্যা, রামগড়, মহালছড়ি, এমনকি চট্টগ্রাম থেকে লোকজন গাড়িতে করে রওনা দেয়। কিন্তু সেনাবাহিনী ও পুলিশ রাস্তায় তাদের আটকায়। ফলে তারা মিঠুন চাকমাকে শেষ বারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে পারেননি।

এই ঘটনার ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে। তার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদানেচ্ছু সংস্কারবাদী ও নব্য মুখোশ বাহিনীর সদস্যদের আর্মিরা খাগড়াছড়ি থেকে এসকর্ট দেয়। অবশ্য নব্য মুখোশ ও সংস্কারবাদীদের গাড়ি বহরটি পথিমধ্যে এমবুশের শিকার হয় এবং এতে নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ঘটনাস্থলে নিহত হন।

এই ঘটনায় দু’টি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, সেনাবাহিনী মুখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বললেও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী ও মন্টি-দয়াসোনার অপহরণকারী তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার মতো সন্ত্রাসীদেরকে রক্ষা করে ও পাহারা দেয়। বর্মা ও নব্য মুখোশ বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনা সংস্কারবাদী, নব্য মুখোশ বাহিনী ও সেনাবাহিনীকে একই সরল রেখায় জড়িয়ে ফেলেছে। এই দুই “বাহিনী” ও এক “বাদী” যে এক ও অভিন্ন তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে।

মিঠুন চাকমা ও শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও একটি প্রকট পার্থক্য রয়েছে। উভয় ঘটনার পর থানায় মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনী ও পুলিশ শক্তিমান চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করলেও মিঠুন চাকমার হন্তাদের গ্রেফতারের জন্য তাদের সামান্যতম তৎপরতা নেই। অথচ আসামীরা খাগড়াছড়ি শহরে পুলিশের নাকের ডগায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

চার
একটি মৃত্যু ও একজন মন্ত্রীর চোখের পানি

মিডিয়ার কল্যাণে জানা গেল শক্তিমান চাকমার মৃত্যুতে সরকারের সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চোখের পানি ফেলেছেন। তিনি হামলাকারীরা গ্রেফতার হয়েছে কিনা খোঁজখবর নেন এবং তাদেরকে ধরার নির্দেশ দেন। এতে বোঝা যায় শক্তিমান চাকমা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের যথেষ্ট স্নেহভাজন ও অনুরাগ ভাজন ছিলেন। মন্ত্রীর ফেলা চোখের জলের প্রতি কটাক্ষ করার ধৃষ্টতা আমার নেই। তিনি যদি কারোর প্রতি স্নেহ পরায়ন হন তাতে কোন দোষ থাকতে পারে না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো সরকারের একজন মন্ত্রী কি তার দায়িত্ব পালনে রাগ কিংবা অনুরাগ দেখাতে পারেন? মন্ত্রীকে দায়িত্ব নেয়ার আগে সংবিধান অনুসারে এই বলে শপথ নিতে হয়, ‘…আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’ [বাংলাদেশ সংবিধান, তৃতীয় তফসিল]

মাননীয় মন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা কি পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন প্রয়োগের বেলায় অনুগ্রহ, অনুরাগ ও বিরাগের উর্ধে উঠতে পেরেছেন? তারা কি সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করছেন? আমার তো তা মনে হয় না। তা নাহলে কেন মিঠুন চাকমাসহ ইউপিডিএফের একের পর এক নেতা কর্মী ও সমর্থক প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হওয়ার পরও তারা নির্বিকার থাকেন? তাদের জন্য মন্ত্রীদের এক ফোঁটা চোখের জল বিসর্জন না হোক, অন্তত: তারা আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারতেন। সরকারের মন্ত্রীদের এই দ্বিত আচরণ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মোটেই সহায়ক হতে পারে না।

সরকারের মধ্যে হয়তো এমন মনোভাব কাজ করে থাকতে পারে যে, ‘ইউপিডিএফ চুক্তি বিরোধী, তাই তাকে দমন করা।’ কিন্তু এতে কথা থেকে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে যতগুলো ‘আঞ্চলিক দল’ রয়েছে তাদের মধ্যে একমাত্র ইউপিডিএফেরই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করতে তারাই এযাবত সবচেয়ে বেশী দক্ষতা দেখিয়েছে। শত উসকানির মধ্যেও তারা এখনো পর্যন্ত অনিয়মতান্ত্রিক সংগ্রামের পথে পা বাড়ায়নি।

আর চুক্তি বিরোধী বলে ইউপিডিএফকে যে গালমন্দ করা হয় তা Rhetoric ছাড়া কিছুই নয়। ইউপিডিএফ চুক্তির সমালোচনা বা প্রত্যাখ্যান যাই করুক, তা তাদের সংবিধান-স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগ করার কারণে কেন তাদেরকে অত্যাচার ও নিগ্রহের শিকার হতে হবে! মূলত: ইউপিডিএফকে দমনের কারণ ভিন্ন, চুক্তির বিরোধীতা বা সমালোচনা এর কারণ নয়। যার একটু চোখ কান খোলা আছে সে জানে, ইউপিডিএফ-ই ভূমি বেদখল বিরোধী আন্দোলন, নারী নির্যাতন বিরোধী সংগ্রাম ও সরকারের বিভিন্ন জুম্ম স্বার্থ বিরোধী লড়াইয়ে আন্তরিকভাবে ও দক্ষতার সাথে জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এটাই হলো দেশের শাসক গোষ্ঠীর মাথা ব্যাথার বড় কারণ। সেজন্য তারা নতুন শক্তি ইউপিডিএফকে দমন করতে চায়। কিন্তু সরকার বা শাসকগোষ্ঠীর এটা একটা অত্যন্ত ভুল নীতি। কারণ যে পার্টির প্রতি জনগণের সমর্থন আছে সে পার্টিকে কখনোই দমন করা যায় না। ইউপিডিএফকেও এত বছর অত্যাচার চালিয়ে দমন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবেনা – সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ – নিরপেক্ষভাবে ও সমতা বজায় রেখে কাজ করুন। কারো প্রতি অনুরাগ, আর কারোর প্রতি বিরাগ; কারোর প্রতি চোখের জল, আর করোর প্রতি রোষের অনল — এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনোই শান্তি আসবে না।

পাঁচ
আত্মজিজ্ঞাসা জরুরী

বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে পুরো জাতির, বিশেষত দুই জেএসএস এবং ইউপিডিএফের নেতাকর্মীদের আত্মজিজ্ঞাসা জরুরী বলে মনে করি। জাতীয় স্বার্থকে মানদ- করে এই আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে। জেএসএস-এর উভয় অংশকে নিজেদের প্রশ্ন এবং পরীক্ষা করতে হবে- তারা কতটুকু মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার আদর্শ ধারণ ও বাস্তবে তার প্রয়োগ করেন? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জুম্ম হিসেবে জাতীয় অস্তিত্ত্ব বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র, ভূমি বেদখল, বহিরাগত অনুপ্রবেশ ও বাঙালি জনসংখ্যার ক্রমাগত ও উদ্বেগজনক বৃদ্ধি – এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তারা কতটুকু প্রস্তুত, এবং এযাবত সে ব্যাপারে কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন? তারা কি আদৌ জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করতে আগ্রহী? এছাড়া জেএসএস এম. এন. লারমা অংশের নেতাকর্মীদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে – “ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামধারী সেনাবাহিনীর সৃষ্ট সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে কারা লাভবান হচ্ছে? এতে কি সামগ্রিকভাবে জুম্ম জাতি লাভবান হচ্ছে, আন্দোলন বেগবান হচ্ছে, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?” সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বুকলেটে ইউপিডিএফ-জেএসএস সংস্কারবাদী সংঘাতের জন্য সংস্কারবাদীদের দায়ি করা হয়েছে এবং ইউপিডিএফ তাদের একের পর এক নেতাকর্মীকে খুন করার পরও সংযম প্রদর্শন করেছে বলে দাবী করা হয়েছে। আমি এবং আমার বন্ধুরা বুকলেটের এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করি। ইউপিডিএফ আন্দোলনের প্রশ্নে আন্তরিক বলেও আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে সংঘাতের পরও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে জেএসএস সংস্কারবাদী বা এম,এন, লারমা দলের সাথে তাদের পুনরায় সমঝোতার চেষ্টা করা উচিত। আর নব্য মুখোশ বাহিনীর সদস্যরা যদি ভুল পথ পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তাহলে তাদের সে সুযোগ দেয়া উচিত হবে। জাতির এই চরম সংকটময় মহুর্তে নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে জনগণ সংযম, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাই প্রত্যাশা করে। জনগণ চায়, যারা বা যে দল প্রকৃত আন্দোলন করতে চায় তাদের আন্দোলন করতে দেয়া হোক, কেউ যাতে তাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আর আন্দোলনের নামে যারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় তারা আন্দোলন থেকে সরে যাক? জনগণের স্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থ বড়, নাকি তাদের হীন ব্যক্তি স্বার্থ বড়। এই প্রশ্ন সকলের জন্য রাখছি, কারণ এর উত্তর আমাদের সবাইকে সমষ্টিগতভাবে একদিন না একদিন দিতেই হবে।

সবাইকে আজ বুঝতে হবে যে, শাসক গোষ্ঠী জুম্মদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে একের বিরুদ্ধে অপরকে লাগিয়ে দিয়ে অর্থাৎ সংঘাত বাঁধিয়ে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় – জুম্ম জাতিকে চিরকাল দাবিয়ে রাখতে চায়। কাজেই অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। তাই যারা এই ঐক্যের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদেরকে আমাদের অবশ্যই বিরোধীতা করতে হবে।

নিগিরা ধন চাকমা
১৪ মে ২০১৮

———————-
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্রউল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.