আপনার শহর পরিচ্ছন্ন রাখুন, নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন

0
3

সিএইচটিনিউজ.কম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:আপনার শহর পরিচ্ছন্ন রাখুন, নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন’ এই আহ্বানটি খাগড়াছড়ি পৌর সমাজ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির প্রচারিত একটি প্রচারপত্রের। খাগড়াছড়ি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এই প্রচারপত্রটি শহরে বসবাসকারীদের নিকট বিলি করা হচ্ছে।

এভাবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে শহরের পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে
এভাবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং তারিখে প্রকাশ করা এই প্রচারপত্রে খাগড়াছড়ি শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বর্তমানে খাগড়াছড়ি একটি বর্ধিঞ্চু শহর। গত দুই দশকে এই জেলা সদরের নগরায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত গতি লাভ করে। শহরবাসীর আবাসন চাহিদা মেটানোর জন্য পাহাড় কেটে, খাল-বিল ভরাট করে এবং ধান্য জমির উপরে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের প্রায় সব এলাকা এখন ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই নগরায়ন হয়েছে ও হচ্ছে অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে। শহরে নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। শহরবাসীর সুবিধা অসুবিধা দেখার জন্য একটি নির্বাচিত পৌরসভা থাকলেও পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নর্দমা ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। রাস্তার পাশে, খালে, নর্দমায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে শহরের পরিবেশ নোংরা ও দুষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে শহর এলাকা একদিকে যেমন শ্রীহীন হচ্ছে, অন্যদিকে শহরবাসীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি।

এতে বলা হয়, শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের। তারা যে তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছে না, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমাদেরও প্রত্যেকের কিছু দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষতঃ নিজের বাড়ির আশপাশ ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও যেখানে সেখানে আবর্জনা না ফেলা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু দেখা যায়, আমরাও আমাদের এ দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছি না।Clean campaign leaflet

প্রচারপত্রে আরো বলা হয়, আজকাল খাগড়াছড়ি শহরে অফিসের কাজে ও ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্যান্য উপজেলা এবং জেলা থেকে প্রতিদিন লোকজনের আগমন ঘটে। বহু দেশী বিদেশী পর্যটকও এখানে বেড়াতে আসেন। তারা যদি আমাদের এলাকা বা শহরের এই বিশ্রী ও কদর্য চেহারা দেখে খারাপ ধারণা নিয়ে ফিরে যান তাহলে তা আমাদের জন্য বড়ই লজ্জার বিষয় হবে। আমাদের মনে রাখা উচিত, চারদিকে আবর্জনার স্তুপ পড়ে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে রাজধানী ঢাকা মহানগরী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। (প্রথম স্থানে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক, তবে সেখানে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে)। আর জনৈক বিদেশী পর্যটক ইন্টারনেটে তার ব্লগে চট্টগ্রাম মহানগরীকে উল্লেখ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা শহর হিসেবে। তাই আমরা যদি আমাদের প্রিয় খাগড়াছড়ি শহরকে ভালোবাসি তাহলে তাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

উক্ত প্রচারপত্রে ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ও খোলা জায়গায় না ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ১.বাড়ির ময়লা আবর্জনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট রাস্তার পাশে, খালে, বিলে, নর্দমায় বা খোলা জায়গায় ফেলবেন না; ২. ছেঁড়া কাগজ, বিস্কুটের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, সিগারেটের শেষাংশ, ব্যবহৃত টিস্যু পেপার, অব্যবহৃত প্লাস্টিকের দ্রব্য ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলবেন না; ৩. একটি সামান্য কাগজের টুকরা ও বাদামের খোসা পর্যন্ত রাস্তায় বা ফুটপাতে ফেলবেন না।

এতে নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়, ১.বাড়ির পাশে গর্ত খুঁড়ে সেখানে খাবারের উচ্ছিষ্টসহ ময়লা আবর্জনা ফেলুন। যাদের এ রকম গর্ত খোঁড়ার জায়গা নেই, তারা একটি শক্ত পলিথিন ব্যাগে বর্জ্যগুলো জমা করে, পরে তা ভালোভাবে বন্ধ করে নিকটস্থ ডাস্টবিনে ফেলুন; ২. ছেঁড়া কাগজ, বিস্কুটের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, সিগারেটের শেষাংশ, ব্যবহার করা টিস্যু পেপার, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি আবর্জনাগুলো একটি বস্তায় বা বাস্কেটে জমা করুন। পরে যেগুলো বিক্রিযোগ্য সেগুলো বিক্রি করে অন্যগুলো আগুনে পুড়ে ফেলুন অথবা ডাস্টবিনে ফেলে দিন; ৩. প্রত্যেক দোকানের পাশে বর্জ্য ফেলার জন্য একটি বড় পলিথিনের ব্যাগ অথবা একটি বস্তা অথবা একটি কার্টন রাখুন; ৪. আপনার ছেলেমেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করুন। নিজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিষয়ে সচেতন হোন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন; ৫.রাস্তাঘাটে ছেঁড়া কাগজ, আবর্জনা ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখলে তা একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিন এবং ৬.সময়মত বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে বলুন। কর্তৃপক্ষ তার কাজে গাফিলতি দেখালে তার প্রতিবাদ করুন। আপনি নিজের দায়িত্ব পালন করুন, তারপর অন্যকেও তার দায়িত্ব পালনে বাধ্য করুন। আসুন একটি পরিচ্ছন্ন শহরের গর্বিত অংশীদার হই।
——————

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.