ইউপিডিএফ’র নান্যাচর ও লংগদু ইউনিটের উদ্যোগে ছাত্র-যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

0
338

নান্যাচর প্রতিনিধি ।। ‘বাপ-দাদার বাস্তুভিটা ও মা বোনের ইজ্জত রক্ষার্থে ছাত্র-যুব সমাজ এগিয়ে এসো, প্রতিরোধ গড়ে তোল’ এই আহ্বানে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর নান্যাচর ও লংগদু ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে ছাত্র-যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (৭ মার্চ ২০২১) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইউপিডিএফ’র নান্যাচর ইউনিটের সংগঠক সুকীর্তি চাকমা।

লংগদু ইউনিটের সংগঠক চন্দন চাকমার সঞ্চালনায় সম্মেলনে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ’র রাঙামাটি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক শান্তিদেব চাকমা। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ইউপিডিএফ সদস্য শান্তিময় চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সদস্য ললিত চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিকন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা সদস্য রিপনা চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নান্যাচর থানা শাখার সভাপতি মার্কিন চাকমা প্রমুখ।

সম্মেলনে আলোচনা পর্ব শুরুর আগে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

ইউপিডিএফ’র রাঙামাটি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক শান্তিদেব চাকমা বলেন, অধিকার এমন একটি জিনিস যা সহজে অর্জন করা যায় না। কঠিন ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে, শাসকগোষ্ঠী আমাদের উপর কঠোর নিপীড়ন, খবরদারি-নজরদারি জারি রেখেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে তা ভেস্তে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে চরম অন্যায়-অবিচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমি বেদখল, অন্যায় ধরপাকড়, বিচার বহির্ভুত হত্যা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে সকল ধরনের নিপীড়ন জারি রেখেছে সেনাশাসন অপারেশন উত্তরণের মাধ্যমে। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ছাত্র-যুবকদেরকে আন্দোলনের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হতে হবে। আমাদেরকে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ও মা-বোনদের ইজ্জত অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

জেএসএস’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউপিডিএফ’র এই নেতা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীর যে ষড়যন্ত্র তা বানচাল করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তাই শাসকগোষ্ঠীর ঘুম পাড়ানি গানে মোহিত না হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় ঐক্য গড়ার দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা নিকন চাকমা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করে দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করেছে। চুক্তিপূর্ব অবস্থা থেকেও আরো ভয়াবহভাবে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবিতে আমাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমিয়ে রাখার জন্য ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রাখা হচ্ছে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা সদস্য রিপনা চাকমা বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজে কিংবা পানি আনতে গেলে পর্যন্ত ধর্ষণ-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা বেড়েই চলেছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি নারী নির্যাতনসহ সকল নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।

যুব ফোরাম নেতা ললিত চাকমা বলেন, বিভিন্ন দেশে যে সব জাতিগোষ্ঠী অধিকার পেয়েছে সেসব দেশের ছাত্র-যুবকরা আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন। প্রতিটি আন্দোলনের ক্ষেত্রে ছাত্র-যুবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি থাকে। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামেও ছাত্র-যুবকদেরকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সুকীর্তি চাকমা বলেন, জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই আমাদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে ছাত্র-যুবকদের অবশ্যই অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। আন্দোলনে যদি ছাত্র-যুবকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় তাহলে সে আন্দোলন গতিশীল হয়।

তিনি বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এক সময় স্বাধীন রাজ্য ছিল। ক্রমে ক্রমে শাসকগোষ্ঠী এই মর্যাদা পদদলিত করেছে। এখন আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এদেশের শাসকগোষ্ঠী। তাই আমাদের সজাগ থেকে প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। তিনি সকলকে ইউপিডিএফের পতাকাতলে সমবেত হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবনা পাশ করা হয়। প্রস্তাবনাটি পড়ে শোনান ইউপিডিএফ’র লংগদু ইউনিটের সংগঠক চন্দন চাকমা। প্রস্তাবনার দাবিগুলো হলো:
১. দায়েরকৃত সকল হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা হুলিয়া প্রত্যাহার করতে হবে।
২. চিহ্নিত দাগী আসামীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দান ও রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৩. নান্যাচর ও লংগদু বাজারে অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী কর্তৃক হুমকি ধমকি প্রদান ও অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।৪. নান্যাচর বাজারে সাধারণ জনগণের চলাচলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে বাজার খোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমাসহ গ্রেফতারকৃত সকল রাজবন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
৬. জামিনপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে জেল গেটে পুনরায় গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
৭. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সেটলারদের অব্যাহতভাবে ভূমি বেদখল বন্ধ করতে হবে।
৮. ধর্ষক লংগদু করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দিতে হবে।
৯. খাগড়াছড়ির বলপিয়া আদামে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি নারীকে গণধর্ষণকারী সেটলারদের ফাসিঁ দিতে হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত সকলে উক্ত দাবিনামা/রাজনৈতিক প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.