ইউপিডিএফের যে প্রতিবাদলিপিটি ‘দ্য রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম’ প্রকাশ করেনি

0
0

সিএইচটিনিউজ.কম
অনলাইন পত্রিকা the report24.com-এ “পাহাড়ের কালোছায়া-২ ইউপিডিএফের নতুন শাখার লক্ষ্য অস্ত্র বাণিজ্য” শিরোনামে গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কাজী জামশেদ নাজিম নামে এক প্রতিবেদক এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। এটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর গতকাল ৫ ডিসেম্বর ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বরত নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি ওই পত্রিকার সম্পাদকের বরাবরে প্রেরণ করা হয়। যদিও সংবাদ মাধ্যমটি এটি প্রকাশ করেনি। সিএইচটিনিউজ.কমের পাঠকদের জন্য ইউপিডিএফের ওই প্রতিবাদলিপিটি এখানে প্রকাশ করা হলো:
———–Protibadlipi———-

বরাবর,
সম্পাদক
The Report24.com
১৯ দিলকুশা, বাণিজ্যিক এলাকা(৯ম তলা), মতিঝিল, ঢাকা ১০০০।
টেলিফোন: +৮৮-০২-৯৫৮৭৭৪৬, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৫৮৭৭৪৭
মার্কেটিং মোবাইল : ০১৭৩০৭৮৭৪১০ নিউজ রুম মোবাইল : ০১৭৩০৭৮৭৪০৬, ০১৭৩০৭৮৭৪০৭,
নিউজ রুম ইমইেল :[email protected]

বিষয়: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ।

সম্মানিত,
আপনার অনলাইন নিউজ সাইট “দ্য রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকমে” প্রকাশিত ‘পাহাড়ের কালোছায়া-২, ইউপিডিএফের নতুন শাখার লক্ষ্য অস্ত্র বাণিজ্য’ শিরোনামে গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ প্রকাশিত কাজী জামশেদ নাজিম এর ধারাবাহিক প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে যেসব তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো সম্পর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ইউপিডিএফের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার জন্যই এই মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাই নিম্নে প্রদত্ত প্রতিবাদ লিপিটি ছাপানোর অনুরোধ করছি।

বিনীত নিবেদক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউপিডিএফ।

পাহাড়ের কালোছায়া-২
“ইউপিডিএফের নতুন শাখার লক্ষ্য অস্ত্র বাণিজ্য” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

অনলাইন নিউজ সাইট The Report24.com -এ প্রকাশিত “পাহাড়ের কালোছায়া-২ ইউপিডিএফের নতুন শাখার লক্ষ্য অস্ত্র বাণিজ্য” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে তা প্রতিবেদকের সম্পর্ণ মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি শক্তিশালী মহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই প্রতিবেদনটি করিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে- “পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবির সংগ্রাম চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।”

মূলত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন। গঠনলগ্ন থেকে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক উপায়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইউপিডিএফের গঠনতন্ত্রের ২নং ধারায় সুস্পষ্টভাবে শান্তিপূর্ণ এবং গঠনতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। কাজেই খুবই অস উদ্দেশ্যে ইউপিডিএফকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। যা ইউপিডিএফের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে “অস্ত্রের চালান আনা-নেওয়ার পথ সুগম করতে ইতিমধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজারে পৃথক দুটি শাখা গঠন করেছে ইউপিডিএফ। সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারের একটি হোটেলে এ নিয়ে বৈঠক করে গেরিলা সংগঠনটির কয়েক শীর্ষ নেতা। মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র সংগঠনের একাধিক সদস্য ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে”।

আসলে টেকনাফ ও কক্সবাজারে ইউপিডিএফের কোন শাখাই নেই। সেখানে জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ নামের সংগঠনের একটি শাখা কমিটি রয়েছে। যে সংগঠনটি গণতান্ত্রিকভাবে গোটা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। আর প্রতিবেদনে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সাথে বৈঠকের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোন সূত্রের উল্লেখ নেই। কাজেই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যগুলো সম্পর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়েই প্রতিবেদক এই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর এলাকায় ইউপিডিএফের এক সদস্যের বরাত দিয়ে যে তথ্যটি তুলে ধরা হয়েছে তাও বানানো। ইউপিডিএফের কোন সদস্য এ ধরনের কোন কথা বলেছে বলে আমরা মনে করি না।

প্রতিবেদনে ২০১২ সালের জুন-জুলাইয়ে ইউপিডিএফ কর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্রের চালান গ্রহণের বিষয়টিও মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউপিডিএফ যেহেতু গণতান্ত্রিক সংগঠন কাজেই অস্ত্রের চালান গ্রহণের কোন প্রশ্নই আসে না। আর প্রতিবেদনে যেসব সশস্ত্র ব্যক্তির ছবি ছাপানো হয়েছে সেগুলো সবই ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা। এসব ছবি ফেসবুকের ওয়ালে অহরহ পাওয়া যায়। এখানে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী শিখা চাকমার নাম ব্যবহার করে অস্ত্র হাতে যে নারীর ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেই ছবির সাথে শিখা চাকমার ন্যুনতমও মিল নেই এবং এই ছবিটিও ফেসবুকের ওয়াল থেকে নিয়েই মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রচার সম্পাদক হিসেবে নিবারণ চাকমার বক্তব্য ছাপা হয়েছে। আসলে ইউপিডিএফের প্রচার সম্পাদকের কোন পদই নেই এবং এ ধরনের কোন পদে নিবারণ চাকমা নামেও কেউ নেই। তবে প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন তার নাম হচ্ছে নিরন চাকমা।

মোট কথা, প্রতিবেদন উল্লেখিত সকল তথ্য প্রতিবেদকের মনগড়া, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যায় পরিপূর্ণ। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন একটি শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় পড়ে প্রতিবেদক এই ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন বলে আমরা মনে করি।

তাই, মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা দ্য রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম সহ সকল সংবাদ মাধ্যমকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
————-

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.