কল্পনা চাকমার অপহরণকারী প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই– রাঙামাটি পুলিশ সুপার

0
1
# কল্পনা চাকমা

ডেস্ক রিপোর্ট।। ‘কল্পনা চাকমা অপহরণ ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা, তাকে উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয় নাই’ উল্লেখ করে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন উক্ত অপহরণ মামলার ৩৯তম তদন্ত কর্মকর্তা রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার তদন্তকালে ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই।…বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করিয়াও ভিকটিম কল্পনা চাকমাকে উদ্ধার এবং মামলা-রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয় নাই।…প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই। ভবিষ্যতে কল্পনা চাকমা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা তাহাকে উদ্ধার করা সম্ভব হইলে যথানিয়মে মামলাটির তদন্ত পুনরুজ্জীবিত করা হইবে।’

এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কল্পনা অপহরণ মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তিন বছর আগে দেওয়া ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে বর্তমান প্রতিবেদনের ‘মিল’ রয়েছে। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহর দেওয়া ওই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল ‘সাক্ষ্য ও প্রমাণের অভাবে কল্পনাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। ভবিষ্যতে কল্পনা চাকমা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা উদ্ধার করা সম্ভব হইলে যথানিয়মে মামলাটির পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।’

১৯৯৬ সালের ১২ জুন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা বাঘাইছড়ির নিউ লাল্যাঘোনার নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন। কল্পনার দুই ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা ও লাল বিহারী চাকমাকেও ওই দিন অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁরা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কোন রকমে প্রাণে বেঁচে যান। সেদিন তাঁরা তিন অপহরণকারী কজইছড়ি সেনাক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস, গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের (ভিডিপি) প্লাটুন কমান্ডার নুরুল হক ও পিসি সালেহ আহম্মদকে চিনতে পারেন। উক্ত ঘটনায় কল্পনার বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা বাদি হয়ে বাঘাইছড়ি থানায় উক্ত তিন জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করলেও মামলা থেকে পরিকল্পিতভাবে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

বাঘাইছড়ি থানার তৎকালীন ওসি শহিদউল্ল্যা প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর একে একে ৩৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হন। এভাবে ১৪ বছর পার হয়। কিন্তু তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ৩৪তম তদন্ত কর্মকর্তা, ওই থানার উপপরিদর্শক ফারুক আহম্মদ ‘পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে না’ বলে দাবি করে ২০১০ সালের ২১ মে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। পরে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাঙামাটির মুখ্য বিচারিক হাকিম মামলাটি সিআইডির মাধ্যমে পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর দুই বছর তদন্তের পর ৩৫তম তদন্ত কর্মকর্তাও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এই প্রতিবেদনে বাদী নারাজি দিলে আদালত রাঙামাটির পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মাসুদ-উল-হাসান, আমেনা বেগম এবং ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ মামলাটি তদন্ত করেন।

সর্বশেষ রাঙামাটির বর্তমান পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানও তার দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের উপর ছেড়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করলেন। ফলে ২০ বছরেও কল্পনা অপহরণ ঘটনার কোন সুরাহা হলো না।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
—————————-

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.