কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বাঘাইছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

0
2

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম
Baghaichari protest2কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী লেঃ ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন আজ ৪ জানুয়ারি শুক্রবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেসমাবেশ থেকে বক্তারা কল্পনা চাকমা অপহরণ বিষয়ে সিআইডির দাখিল করা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন এবং চিহ্নিত অপহরণকারী লেঃ ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মাঠে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাঘাইছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাগরিকা চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাদ্রী চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আপ্রুসি মারমা, কল্পনা চাকমার বড় ভাই কালিচরণ চাকমা, বাঘাইছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দীপ্তিমান চাকমা, মারিশ্যা ইউপি চেয়ারম্যান তন্টু মনি চাকমা, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান তারুচি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অঙ্গদ চাকমা, জেএসএস(লার্মা) সমর্থিত যুব সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানজিৎ চাকমা ও সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা প্রমুখহিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রিনা চাকমা সমাবেশ পরিচালনা করেন
বক্তারা কল্পনা চাকমা অপহরণ বিষয়ে সিআইডির দাখিল করা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রহসন ও দূরভিসন্ধিমূলকভাবে সিআইডি এ রিপোর্ট দাখিল করেছেএ রিপোর্টে অপহরণকারীদের পুরোপুরি আড়াল করা হয়েছেরিপোর্টে চিহ্নিত অপহরণকারীদের নাম উল্লেখ না করে সিআইডি মিথ্যা ও বানোয়াটের আশ্রয় নিয়েছেকাজেই, এ রিপোর্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনগণ কিছুতেই মেনে নেবে নাঅবিলম্বে এ তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করতে হবে

বক্তারা আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ দেশের শাসকগোষ্ঠী কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের মরিয়া হয়ে রক্ষা করে চলেছেশাসকগোষ্ঠীর এ ধরনের আচরণের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অসংখ্য গণহত্যা ও হামলাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত কারোর বিচার ও শাস্তি আজও হয়নি

বক্তারা কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান
বক্তারা বলেন, কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারী লেঃ ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবেঅন্যথায় সরকার যদি সিআইডির দাখিলকৃত রিপোর্টের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের রা করার চেষ্টা করে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কিছুতেই চুপ করে বসে থাকবে নাপ্রয়োজনে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা মাঠে এসে শেষ হয়
উল্লেখ্য, হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী কল্পনা চাকমা ১৯৯৬ সালের ১২ জুন (১১ জুন মধ্যরাত) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানাধীন নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কজইছড়ি ক্যাম্পের তৎকালীন কমান্ডার লেঃ ফেরদৌস ও তার সশস্ত্র সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত হন। ২০১০ সালের ২১ মে বাঘাইছড়ি থানার তৎকালীন এস আই ফারুক আহম্মদ কল্পনা চাকমা অপহরণ বিষয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেনরিপোর্টে তিনি অপহরণকারীদের সনাক্ত করতে ও কল্পনা চাকমার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দিতে ব্যর্থ হনমামলার বাদী কল্পনা চাকমার ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদন জানালে আদালত সিআইডি দ্বারা তদন্ত করানোর নির্দেশ দেন

এরপর সিআইডির মোঃ শহীদুল্লাহ গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর কল্পনা চাকমার অপহরণ বিষয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেনরিপোর্টে তিনি বলেন, “আমার তদন্তকালে উপযুক্ত স্যা ও প্রমাণের অভাবে কল্পনা চাকমাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাইএমনকি তাহার সঠিক অবস্থানও নির্ণয় করা সম্ভব হয় নাইভিকটিম কল্পনা চাকমাকে উদ্ধারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হইয়াছেএই লক্ষে বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ ছাড়াও বাদী পক্ষের এবং এলাকার লোকজনের সহায়তা কামনা করা হইয়াছেএত চেষ্টা চালাইয়াও তাহার সঠিক অবস্থান সম্বন্ধে কোন সংবাদ পাওয়া যায় নাইমামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৬ বৎসর ধরিয়া তদন্ত কার্যক্রম চালাইয়াছিকিন্তু কল্পনা চাকমাকে উদ্ধারের মত কোন ফলপ্রসূ লক্ষণ দেখা যাইতেছে নাঅদূর ভবিষ্যতেও যে উদ্ধার হইবে – তাহার কোন লক্ষণ দেখা যাইতেছে নাতাই মামলাটির তদন্ত দীর্ঘায়িত না রাখিয়া চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং – ০৯ তারিখ ২৬/০৯/২০১২ ইং ধারা ৩৬৪ দঃ বিঃ দাখিল করিলাম।”
এর আগে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালের ১৯ আগষ্ট সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল জলিলকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেতদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনএই কমিটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিলেও আজ পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হয়নি


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.