কার্বারীদের সাথে মাচলং ক্যাম্প কমান্ডারের মিটিঙ: পানির হাউজ নির্মাণে ইউপিডিএফের সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ

0
0

sajekসাজেক প্রতিনিধি॥ সাজেকের মাচলং ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মাহবুব এলাকার কার্বারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে এক মিটিঙে তাদেরকে মাচলং বাজারে একটি পানির হাউজ নির্মাণে ইউপিডিএফের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ১ নভেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার মাচলং ক্যাম্পে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিটিঙে উপস্থিত কার্বারীরা মাচলং বাজারে পানীয় জলের সংকট সমাধানের জন্য একটি পানির হাউজ নির্মাণের প্রসঙ্গ তুললে ক্যাম্প কমান্ডার তাদেরকে এই পরামর্শ দেন।

মিটিঙে উপস্থিত কয়েকজন কার্বারীর সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা বলেন মাচলং বাজারে একটি পানির হাউজ খুব বেশী দরকার হয়ে পড়েছে। আর্থিক সমস্যার কারণে এটা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এ জন্য মিটিঙে ক্যাম্প কমান্ডারের পরামর্শ চাওয়া হলে তিনি ইউপিডিএফের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চাইতে পরামর্শ দেন।

মেজর মাহবুব মিটিঙে আরও বলেন, ‘ইউপিডিএফ বাজারে (মাচালং) আসুক না। বাজারে আসলে আমি তাদের ধরবো না। কোন অসুবিধা হবে না।’

উক্ত মিটিঙে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিণয় কার্বারী, উত্তম মঙ্গল কার্বারী, পালু কার্বারী, দয়াল কার্বারী, কমল বিকাশ কার্বারী, মঙ্গল চরণ কার্বারী, নতুন জয় কার্বারী, সাজেক ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, বাঙালিদের মধ্যে রফিক চৌধুরী, নাসিরসহ আরো অনেকে।

মেজর মাহবুবের উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে ইউপিডিএফের মন্তব্য জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপিডিএফের সাজেক অঞ্চলের একজন স্থানীয় সংগঠক মাচলং কমান্ডারের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে সিএইচটি নিউজ ডটকমকে বলেন, ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে অবশ্যই বাংলাদেশের সব জায়গায় তার সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমাদের সংগঠন নিষিদ্ধ না হলেও বিভিন্ন জায়গায় আমাদের পার্টি ও পার্টিভুক্ত সংগঠনগুলোকে কার্যক্রম চালাতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় শাখা অফিসগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি পানছড়ি অফিস থেকে ৯ জন পিসিপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরস্থ পার্টি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন থেকে পিসিপির দুই নেতা বিনয়ন চাকমা ও অনিল চাকমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা বা পরোয়ানা ছিল না। এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালানোর জন্য মোটেই অনুকূল নয়।

তিনি বলেন দমন পীড়ন চালিয়ে একটি জাতি ও জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ধ্বংস করে দেয়া যায় না। বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী, জওহর লাল নেহেরু, বল্লভ ভাই প্যাটেল, আবুল কালাম আজাদসহ ভারতীয় কংগ্রেসের সব কেন্দ্রীয় নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে পুড়ে রাখা হয়েছিল। নিষ্ঠুর দমন পীড়ন চালানো হয়েছিল। হিন্দু মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও ভারতীয় জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। ভারতকে স্বাধীনতা দিয়ে বৃটিশদের পাততারি গোটাতে হয়েছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকেও কোন ধরনের দমন পীড়ন ও বিভেদের ষড়যন্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাচলং বাজারে পানির হাউজ নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা চাওয়া হলে তা দেওয়া হবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। এলাকার জনগণ যদি আমাদের কাছ থেকে কোন ব্যাপারে সাহায্য চায় তাহলে আমরা সাধ্যমত সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করে থাকি। তারা যদি আমাদের কাছে আসেন তাহলে আলাপ করে দেখতে পারি আমরা কীভাবে তাদেরকে সাহায্য করতে পারি।’
—————

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.