খাগড়াছড়িতে অন্যায় ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের গৌরবোজ্জ্বল ২১ বছরপূর্তিতে স্মৃতিচারণ সভা

0
1

সিএইচটিনিউজ.কম
10 Feb 2015, Khagrachariখাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে প্রশাসনের অন্যায় ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের গৌরবোজ্জ্বল ২১ বছর পূর্তিতে স্মৃতিচারণমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে। সভায় তৎকালীন সময়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পিসিপি’র সাবেক নেতা-কর্মীরা সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বনির্ভরস্থ ঠিকাদার সমিতি ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ সভায় পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুভাষ চাকমার সভাপতিত্বে এবং সহ সাধারণ সম্পাদক জেসীম চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নতুন কুমার চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক নেতা ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার কমিশনার মিলন দেওয়ান মনাঙ, সাবেক পিসিপি নেতা শুভাশীষ চাকমা, স্বর্ণজ্যোতি চাকমা, বিশিষ্ট মুরুব্বী ও ব্যবসায়ী অনুপম চাকমা এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য বরুণ চাকমা।

সভায় বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, পিসিপি নেতা ক্যজরী মারমা, প্রদীপন খীসাসহ ৬ নেতা কর্মিকে আটকের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। অবরোধ বানচালের জন্য প্রশাসন থেকে অন্যায়ভাবে ১৪৪ ধারা জারী করে। পিসিপি’র আন্দোলনকে দমানোর জন্য পুলিশ আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট এবং রাইফেল দিয়ে গুলি বর্ষণ করে। কিন্তু সেদিন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আন্দোলনকারী কর্মিরা পুলিশের শত বাধা সত্ত্বেও দমে যায়নি। পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার শেল সংগ্রহ করে পাল্টা পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারে। প্রশাসনের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেদিন অবরোধ কর্মসূচি সফল হয়। আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের মুখে সেদিন পুলিশ বাহিনীকে নাজেহাল হতে হয়।

অনুপম চাকমা বলেন, জনগণের শক্তির কাছে অস্ত্রের পরাশক্তিও অসহায়। আন্দোলনকামী জনগণের সামনে  রাষ্ট্রের শক্তি অসহায় হয়ে পড়ে।  তিনি বলেন, অনেকেই বলে থাকেন ইউপিডিএফ-এর জন্ম না হলে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হতো। কিন্তু আমি মনে করি ইউপিডিএফ-এর সৃষ্টি না হলেও সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতো না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস একদিন না একদিন সরকার আমাদেরকে অধিকার দিতে বাধ্য হবে।

ইউপিডিএফ নেতা নতুন কুমার চাকমা বলেন, আমরা অধিকারের জন্য আন্দোলন করছি। আমাদের অতীত ইতিহাসকে জানতে হবে এবং শত শত বছরের ইতিহাসকে জানতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। যে দলই ক্ষমতায় আছে সে দলই ইচ্ছেমত ইতিহাস রচনা করে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি করে। আমাদেরকে অবশ্যই ইতিহাস সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসে এক বীরত্বব্যঞ্জক গৌরবোজ্জ্বল দিন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ১৪৪ ধারা লংঘনের মাধ্যমে এদিন প্রতিবাদের এক মাইল ফলক স্থাপন করেছিল। পিসিপি’র প্রতিবাদী অবস্থানের কারণে সে সময় বিএনপি সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। এটাই ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের ঘটনা। আন্দোলনের ফলে জনগণের ওপর সরকারের অন্যায় দমন-পীড়ন অনেকাংশে শিথিল হয়েছিল।
——————–

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.