খাগড়াছড়িতে গাছ ব্যবসায়ীর সহযোগী আটক

0
6

খাগড়াছড়ি॥ খাগড়াছড়ির চার কিলোমিটার উত্তরে অমৃত কার্বারী পাড়া থেকে কিরণ চাকমা (৩৭) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৬ জানুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর জোনের এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে এক দল সেনা সদস্য তাকে আটক করে। তিনি ভাইবোনছড়ার বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, তার পিতার নাম শশী কান্তি চাকমা।

আটকের পর তার হাতে একটি দেশীয় তৈরি এলজি গুঁজে দিয়ে থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটককারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে কিরণ চাকমা ইউপিডিএফের সদস্য, কিন্তু অনুসন্ধানে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ইউপিডিএফ নেতা অনি চাকমা জানিয়েছেন, ইউপিডিএফের সাথে কিরণ চাকমার কোন সংশ্লিষ্টা নেই, তিনি ইউপিডিএফ কিংবা কোন অঙ্গ সংগঠনের সদস্য নন। কিরণ চাকমার স্ত্রী জেসমিন চাকমা সিএইচটি নিউজ ডটকমকে বলেন, আটকের পর তিনি খাগড়াছড়ি জোনে যোগাযোগ করেন।

সেখানে তাকে বলা হয় যে, তেঁতুলতলা (সংস্কারবাদীদের আস্তানা) থেকে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে তাদের কিছুই করার নেই। গুঁজে দেয়া অস্ত্রটিও সংস্কারবাদীরা দিয়েছে বলে জোন কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

কিরণ চাকমা গত ৫/৬ মাস ধরে ফরিদ নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি গাছ টানার জন্য অমৃত কার্বারী পাড়ায় লেবারদের সাথে থাকতেন।

এই লেবারদের দু’জন মঈন ও মকবুল সিএইচটি নিউজ ডটকমকে বলেন, কিরণ চাকমা আমাদের সাথে থাকেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। আমরা অবশ্যই তার পক্ষে স্বাক্ষী দেবো।

তারা বলেন তার কাছ থেকে অস্ত্র ও ইউপিডিএফের চাঁদা আদায়ের রশিদ বই পাওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

‘তিনি তো লেখাপড়াও জানেন না, কীভাবে রশিদ নিয়ে চাঁদাবাজি করবেন?’ তাদের প্রশ্ন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ তদন্ত করতে অমৃত কার্বারী পাড়ায় গিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইউপিডিএফ সংগঠক অনি চাকমা মনে করেন দু’টি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে নিরীহ লোকজনকে আটক করে তাদেরকে ইউপিডিএফ সদস্য বলে পরিচয় দেয়া হচ্ছে।

তার মতে প্রথম উদ্দেশ্য হলো আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো তারা জনগণের প্রার্থীর বিজয় ছিনতাই করতে পারে।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে দেয়া ও পার্টিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা, যাতে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের উপস্থিতিকে জায়েজ করতে পারে।

কিন্তু তাদের উভয় উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন ‘জনগণের মধ্যে আতঙ্ক নয়, চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এভাবে নিরীহ লোকজনকে ধরে সন্ত্রাসী সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে দেয়া চরম অন্যায় ও গর্হিত কাজ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।’

উল্লেখ্য ইতিপূর্বে মাটিরাঙ্গা, রামগড় ও লক্ষ্মীছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন নিরীহ পাহাড়িকে ধরে তাদেরকে ইউপিডিএফের সদস্য সাজিয়ে জেলে দেয়া হয়েছে।
———————-
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.