খাগড়াছড়িতে মাতৃভাষায় প্রতীকী ক্লাস পিসিপি’র

0
1

সিএইচটি নিউজ ডটকম
20.02.2016-3খাগড়াছড়ি : সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়িতে ‘মাতৃভাষায় প্রতীকি ক্লাস’ কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখা। এতে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় প্রতীকী ক্লাস নেওয়া হয়।

প্রতীকী ক্লাস শুরুর পূর্বে দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পিসিপি’র কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিকাশ চাকমার সঞ্চালনায় ও সভাপতি সোনায়ন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরা ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মারমা ছাত্র সমাজ এর কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মংসাই মারমা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রক্তেরাঙা একুশে ফেব্রুয়ারী মহান ভাষা আন্দোলনের মাসে “ভাষার অধিকার” প্রতিষ্ঠার দাবিতে এখনও আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন ৬৪ বছর এবং স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও আজকের এই যুগে আমাদের মত সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের মাতৃভাষা এখনো স্বীকৃতি পায়নি। অথচ প্রত্যেক জাতি বা জাতিসত্তার শিশুদের নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের অধিকার জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে বাংলার মাধ্যমে পাঠদানের কারণে পাঠ্য পুস্তকের বিষয়বস্তু পাহাড়ি কোমলমতি শিশুরা বুঝতে অক্ষম হচ্ছে। ফলে অনেক শিশু বিশেষত পিছিয়ে পড়া এলাকা এবং অনগ্রসর জাতিসত্তার শিশুরা সবচেয়ে ঝরে পড়ছে। এসব কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমতলের ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তার শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদান অত্যন্ত জরুরী।Pcpkhagracharprgm,20.02.2016

বক্তারা আরো ক্ষোভ করে বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারীতে নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের দাবিতে মিছিল শেষে ফেরার পথে খাগড়াছড়ি সদরের উপালি পাড়ায় মেজর আতিক ও তার সৈন্যবাহিনী কর্তৃক শিক্ষার্থীরা লাঞ্চিত ও অপদস্থের শিকার হয়েছেন। মেজর আতিক বাহিনী চাকমা-মারমা বর্ণমালায় লিখিত পোস্টারগুলো ছিড়ে ফেলে ছিন্নভিন্ন করে দানবীয় আক্রোশ প্রকাশ করেছে, যা আমাদের পাক হানাদার বাহিনীর কথাই মনে করিয়ে দেয়। এতে শুধু আমাদের দুঃখীনী বর্ণমালা ছিড়ে ফেলা হয়নি, চরমভাবে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে ৫২ এর শহীদ রফিক, বরকত, জব্বারসহ ভাষা শহীদদের আত্মবলিদানকেও। শুধু মিছিলকারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করা হয়নি, লাঞ্ছিত করা হয়েছে গোটা সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহকে।

বক্তারা মেজর আতিকের এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন আচরণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ শিক্ষা সংক্রান্ত ৫দফা দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে কলেজ মাঠের জামতলায় শহীদ মিনারের সামনে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় প্রতীকী ক্লাস শুরু হয়। এতে চাকমা ভাষায় উইলসন চাকমা, মারমা ভাষায় মংসাই মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় সুনীল ত্রিপুরা ক্লাস নেন। ঘন্টাব্যাপী চলা এ প্রতীকী ক্লাসে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। ক্লাস চলাকালে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা বর্ণমালায় লেখা বিভিন্ন ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।

এদিকে, প্রতীকী ক্লাস কর্মসূচি পালনে সহায়তা করায় কলেজ কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পিসিপি কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ।

————-
সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.