খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৭ জনের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন

0
1

খাগড়াছড়ি : গত ১৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর ও পেরাছড়ায় সেনা মদদপুষ্ট সংস্কার-নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় পিসিপি-যুব ফোরামের নেতাসহ নিহত ৭ জনের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার (২৫ আগস্ট) খাগড়াছড়ি সদরে সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি সদরের উত্তর খবংপুজ্যাস্থ দশবল বৌদ্ধ বিহারে নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দশবল বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ, উপালী পাড়া বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ, দক্ষিণ খবংপুয্যা আদর্শ বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ, পারমিপুর অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষসহ ১৩ জন ভিক্ষু-শ্রমণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া প্রতিনিধি দলটিও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। পরিদর্শক দলে ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল (পূর্ব ৩)-এর সভাপতি এডভোকেট ভুলন ভৌমিক, গণমুক্তি ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ নাসু , ভাষা গবেষক এহসানুল কবির, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সম্পাদক এডভোকেট আমির আব্বাস, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর সভাপতি লোকেন দে, বাঙলাদেশ লেখক শিবির কেন্দ্রীয় সদস্য সামিউল আলম রিচি।

# অনুষ্ঠানে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া দলের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন এডভোকেট ভুলন ভৌমিক।

অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন নিহত রূপম চাকমার পিতা সুগত চাকমা। এরপর নিহতদের মঙ্গল কামনার্থে সংঘদান, অষ্টপুরষ্কার দানসহ নানাবিধ দানানুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

ভিক্ষুদের ধর্মীয় দেশনার আগে অনুষ্ঠানে পরিদর্শক দলের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল(পূর্ব-৩)-এর সভাপতি এডভোকেট ভুলন ভৌমিক।

তিনি বলেন, বিজিবি ক্যাম্প এবং পুলিশ পোস্টের নাকের ডগায় প্রকাশ্য দিবালোকে এইরকম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি স্পষ্ট যে, প্রশাসন-সেনা তথা নিরাপত্তা বাহিনীর মদদেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত তো হচ্ছেই না বরং নিহত-আহতদের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসীদের ক্রমাগত হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভয়ে আতংকে অনেকে কথা বলতে পারছেন না। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পরিদর্শক দলের পক্ষ থেকে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে সেনা মদদপুষ্ট সংস্কারবাদী জেএসএস ও নব্য মুখোশ বাহিনীর এর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী স্বনির্ভর বাজারে হানা দিয়ে অতর্কিতে কয়েকটি স্থানে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ার করে পিসিপি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, সহ সাধারণ সম্পাদক এল্টন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সহ সভাপতি পলাশ চাকমাসহ ৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে অন্যরা হলেন- উত্তর খবংপয্যা গ্রামের বাসিন্দা ও মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা(৫৩), একই গ্রামের যুবক রুপম চাকমা (২০) ও পানছড়ির উগলছড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী ধীরাজ চাকমা। হামলায় কমপক্ষে ৪ জন গুরুতর আহত হন।

অপরদিকে এ ঘটনার ঘন্টা তিনেক পর পেরাছড়া ও ভাইবোন ছড়া ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে স্বনির্ভরে আসার পথে পেরাছড়া ব্রিজের সামনে ফের হামলা চালায় সন্ত্রসাীরা। এতে গুরুতর আহত ৭০ বছরের বৃদ্ধ সন কুমার চাকমাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি সেখানে মারা যান। এ হামলায় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।
—————–
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.