খাগড়াছড়িতে সেটলার হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় পার্বত্য তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

0
0

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিএইচটিনিউজ.কম
DSC_0599ঢাকা: খাগড়াছড়ির কমলছড়ি ও বেতছড়ি খৃস্টানপাড়ায় সেনা-বিজিবি-পুলিশের উপস্থিতিতে উপর্যুপরি সেটলার হামলা, ধর্র্মীয় প্রতিষ্ঠান-বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাত, ধর্ষণ-খুন, সামাজিক অনুষ্ঠান ভন্ডুল করে দেয়া, পাহাড়িদের জখম করা, এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি ও দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নিরূপা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ল্যাম্পপোস্টের প্রতিনিধি প্রিন্স মাহমুদ ও পিসিপি ঢাকা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রণেল চাকমা। সমাবেশের সাথে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন বিপ্লবী নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম তানিয়া, নারী অধিকার কর্মী শিপ্রা বোস, লেখক কল্লোল মোস্তাফা, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্রবীর শাহা, ছাত্র গণমঞ্চ, প্রপদ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী। সমাবেশে ঢাকাস্থ পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকুরীজীবী এবং প্রচুর উৎসুক দর্শক-শ্রোতার সমাগম ঘটে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া তার বক্তব্যে বলেন, খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনগণের ওপর হামলার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি’র ঐক্য খুবই লক্ষ্যণীয় এবং তা ভীষণ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রেও আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মিল পরিলক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা কমলছড়ি-বেতছড়ির হামলাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মদদে সেটলারদের অব্যাহত হামলার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যত নির্বাচন হোক কিংবা সরকার বদল ঘটুক পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি পূরণ না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন এ তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীগণ বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থকদের নিয়ে বিশাল মিছিল সহকারে পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার প্রেস ক্লাবে ফিরে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে কর্মস্থলে সবিতা চাকমা সেটলারদের হাতে ধর্ষিত ও খুন হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি তার শ্রাদ্ধক্রিয়া অনুষ্ঠান চলাকালে সেটলাররা উস্কানিমূলক শ্লোগান দিয়ে পাড়া অতিক্রম করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ভ-ুল হয়। শ্রাদ্ধক্রিয়া অনুষ্ঠানের লোকজন সেটলারদের ধাওয়া করে। পরে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের জওয়ানদের উপস্থিতিতে সেটলাররা কমলছড়ি গ্রামে ঢুকে পাহাড়িদের ওপর চড়াও হয়। বেপরোয়া হামলা চালিয়ে ২ জনকে মারাত্মকভাবে জখম করে।

উক্ত ঘটনার রেষ কেটে না যেতেই আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বেতছড়ির খৃস্টানপাড়ায় গরু চড়ানোর রাখালকে খুঁজে না পাবার উছিলায় সেটলাররা আবার পাহাড়িদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়ে এক মা-মেয়েকে গুরুতর জখম করেছে। নিকটস্থ বৌদ্ধ মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। একই সময়ে বিজিবি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের সন্নিকটস্থ কুমিল্লাটিলা এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কর্মীরা উত্তেজনা ছড়িয়ে পাহাড়িদের ভীত-সন্ত্রস্থ করে রাখে।

এখানে আরও স্মর্তব্য যে, ইতিপূর্বে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে কায়েমী স্বার্থবাদী চক্রটি এক টমটম চালককে লুকিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল। সময়মত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে খাগড়াছড়িতে আর একটি তাইন্দ্যং ঘটনা ঘটে যেত।

খাগড়াছড়িতে  এ ক’দিনে সেটলারদের মারমুখী হয়ে উঠা এবং তাদের পেছনে সেনা মদদ ২০১০ সালের সাজেক-সাতভাইয়্যাপাড়া ঘটনার পুনরাবৃত্তির মহড়া কিনা সে সংশয় জনমনে প্রবল হয়েছে।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.