ঢাকায় ‘ফিলিস্তিন সংহতি’ সমাবেশ

খাগড়াছড়িতে সেনা-পুলিশের হামলার নিন্দা, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি পিসিপি’র

1
0

সিএইচটি নিউজ ডটকম
Dhaka22, 29.11.2015ঢাকা: জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি দিবসের’ সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) ঢাকায় সংহতি সমাবেশ করেছে। এতে ফিলিস্তিন জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং  ইসরায়েলকে  দখলদারিত্ব পরিহার করে ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র’ স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। পিসিপি’র সমাবেশ থেকে খাগড়াছড়িতে ৮গণসংগঠনের আয়োজিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি সমাবেশে’ সেনা-পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে পিসিপি সভাপতি সিমন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাবিব রুমন, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, ছাত্র গণমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নূর সুমন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা বরুন চাকমা। সভা পরিচালনা করেন পিসিপি সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা।

বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন সংকট বিশ্বের অন্যতম জাতিগত রাজনৈতিক সংকট, যা  অর্ধ শতাব্দি ধরে চলে আসছে। যুগযুগ  ধরে এ স্থানে আরব ও ইহুদিরা একসাথে বসবাস করলেও  ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসান পযন্ত  আরব বংশদ্ভূত ফিলিস্তিন জনগণ ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আবাস্থলের পরিধিও ছিল অধিক। এ ক্ষেত্রে  ইহুদিদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণেরও নিজেদের অধ্যুষিত ভূখন্ড (যা আয়তনে ইহুদি অধ্যুষিত এলাকার বেশি) নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করার অধিকার ছিল। কিন্তু সে সময়ে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ফিলিস্তিনে জড়ো করে এবং তাদের মদদে সংখ্যালগিষ্ঠ ইহুদিরা ১৯৪৮ সালে  রাষ্ট্র গঠন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত থেকে যায়। ইসরাইল সৃষ্টি হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়, ভূমি বেদখল করা হয়, হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়, দেশ ছাড়তে হয় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে, নিজ বাসভূমিতে পরবাসী হয়ে যায়। এ সমস্ত ঘটনা এখনো অব্যাহত চলছে ।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামেও ফিলিস্তিনের মত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভূমি আগ্রাসন ও দমন-পীড়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন ফিলিস্তিনেরই প্রতিচ্ছবি । এখানে ইহুদি বসতি সেটলারদের মত বাঙালি সেটলাররাও ভূমি বেদখল করছে, আর সেনা-প্রশাসন তাতে মদদ দেয়, নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিনিয়ত দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, পাহাড়িরা নিজ বাসভূমিতে পরবাসীর মত জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে ।

আজ সকালে খাগড়াছড়িতে ৮গণসংগঠনের আয়েজিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি সমাবেশে’ সেনা-পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, সেনা-প্রশাসন খাগড়াছড়িতে যেভাবে একের পর এক সভা-সমাবেশে হামলা করছে, তা কেবল ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের ওপর হামলা নয়; সেটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপরও বড় ধরনের আঘাতস্বরূপ।

বক্তারা অভিযোগ আরও করে বলেন, সেনা-পুলিশের আজ আট সংগঠনের কর্মসূচিতে হামলা বেয়নেট চার্জ-লাঠিপেটা করে ১৪জনের অধিক নেতা-কর্মীকে আহত এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা ও  একই সংগঠনের নেত্রী দ্বিতীয়া চাকমাকে আটক করেছে। বক্তারা অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা, অধিকার নিয়ে বহু কথা বলেন এবং পাশে থাকবেন বলে সময়ে সময়ে বাণী দেন, তাতে মনে হতে পারে যেন তিনি নিপীড়িত জনগণের হিতাকাক্সক্ষী! তিনি অন্য দেশের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেন, অথচ দেশে তার সরকারের আমলে সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট হয় তার বুলি কতটা ভন্ডামী পূর্ণ। আজ খাগড়াছড়িতে ‘ফিলিস্তিন সংহতি’ সমাবেশের মত নিরীহ কর্মসূচিতে সেনা-পুলিশের হামলার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ভন্ডামী ও প্রতারণার মুখোশ ষোল আনা খুলে পড়েছে।।

সমাবেশ শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে এসে শেষ হয়।
——————-

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.