খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি: কমলছড়ি ও বেতছড়িতে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা প্রতিবাদ

0
4

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটিনিউজ.কম
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ও বেতছড়িতে গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী পাহাড়িদের উপর উপুর্যপুরি পুনবার্সিত বাঙালি কর্তৃক হামলার ঘটনায় খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।

Captureশুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) প্রদত্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে- গত ১৫ ফেব্রুয়ারী কমলছড়িতে সবিতা চাকমার হত্যার ঘটনা আড়াল করতে একটি মহল নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একটি উগ্রসাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে। যেদিন মানবন্ধন করা হয় সেদিনই অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারী কমলছড়ি গ্রামে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়েছে। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারী আবারো বেতছড়ি গ্রামে পাহাড়িদের উপর হামলা চালানো হয়। এই দুই হামলায় নারীসহ কমপক্ষে ৫ জন পাহাড়ি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীও রয়েছে। সেটলাররা বেতছড়ি চৈত্যাদর্শ বৌদ্ধ বিহার ও পাহাড়িদের কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি জিরো মাইল এলাকা থেকে মো: আবু তাহের নামে এক টমটম চালককে দিয়ে কথিত অপহরণ নাটক সাজিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। একই কায়দায় ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট মাটিরাংগার উপজেলার তাইন্দংয়ে পাহাড়িদের গ্রামে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছিল। এ ঘটনা যে সুপরিকল্পিত ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো কোন সাজা না হওয়ায় বার বার পাহাড়িদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে কমলছড়ি ও বেতছড়িতে হামলা ও সবিতা চাকমা হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারের নিকট ৭দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- ১. সবিতা চাকমা’র(৩০) হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে হবে, ২. নিহত সবিতা চাকমা’র পরিবারকে সরকারীভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তার নাবালক মেয়ের জীবন যাপনের জন্য মানবিক সহায়তা স্বরূপ পূর্ণবাসন করতে হবে, ৩. ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী কমলছড়ি ও বেতছড়িতে জুম্ম গ্রামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারী সেটেলারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, ৪. কমলছড়িতে সেটেলারদের হামলায় আহত প্রতিবন্ধী পান্দক চাকমা(৩৫) এবং ক্ষেতমজুর আনন্দ লাল চাকমা(৫০) সহ বেতছড়িতে সেটলার হামলায় আহতদের সরকার বা প্রশাসন কর্তৃক সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে, ৫. ৩১ জানুয়ারী মো: আবু তাহের-এর সাজানো অপহরণ নাটকের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের সকলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিতে হবে, ৬. খাগড়াছড়ি উপজেলা সহ জেলার সকল মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং কমলছড়ি ও বেতছড়িতে সেটলার হামলার ক্ষতিগ্রস্তদেরকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনন্ত বিহারী খীসা, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বিনোদ বিহারী চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক মধুমঙ্গল চাকমা, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শক অর্ধেন্দু শেখর চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক পুলিন বিহারী চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিষ্টার বীরেন্দ্র কিশোর রোয়াজা, ঠিকাদার রবি শংকর তালুকদার, হেডম্যান এসোসিয়েশনের জেলা সহ সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, ২৪২ নং পুজগাং মৌজার হেডম্যান সুইলা প্রু চৌধুরী, সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট মুরুব্বী কিরণ মারমা, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্জীব ত্রিপুরা, গোলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা, ১নং খাগড়াছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আম্যে মারমা, কমলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুপন খীসা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি অজিত বরণ চাকমা, ভাইবোন ছড়া ইউপি চেয়ারম্যান কান্তি লাল চাকমা ও কার্বারী এসোসিয়েশনের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি রণিক ত্রিপুরা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.