খাগড়াছড়ি আসনে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুতন কুমার চাকমার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

0
1

খাগড়াছড়ি : নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে ‘ব্যালটের মাধ্যমে প্রকৃত বন্ধুর হাতকে শক্তিশালী করার’ আহ্বান জানিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ প্রতীক) নুতন কুমার চাকমার পক্ষে ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।

ইশতেহারে ভূমি অধিকার; বন্দী মুক্তি, ধরপাকড় বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা; সর্ব প্রকার নারী নির্যাতন রোধ; পরিবেশ বিপর্যয় রোধ ও পর্যটন ব্যবসা; কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়; শিক্ষা ও চাকুরি সংক্রান্ত; প্রত্যাগত ও আভ্যন্তরীণ শরণার্থী; সামাজিক সুরক্ষা; স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত; অপসংস্কৃতি রোধ, বিচ্যুত যুবকদের পুনর্বাসন; খনিজ সম্পদ ও স্থল বন্দর; পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহৎ সামাজিক উৎসব ছুটি–এসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আজ ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ইশতেহার ঘোষণার কথা জানানো হয়।

২৯৮ নং খাগড়াছড়ি আসনের ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় কমিটি কমিটি’ কর্তৃক প্রকাশিত ৮ পৃষ্ঠার ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়ায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইশতেহারে বলা হয়,  ‘এখানে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বছর খানেক আগেই। নীল নক্সা মতো ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রত্যক্ষ সেনা মদদে ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কৃত বিচ্যুত দুষ্কৃতিকারী যুবকদের দিয়ে একটি ঠ্যাঙ্গারে বাহিনী গঠন করে মাঠে নামানো হয়। এ পর্যন্ত এ ঘাতকচক্রের হাতে সাধারণ মানুষসহ ইউপিডিএফ-এর প্রায় ৩০ নেতা-কর্মী-সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ভাড়াটে খুনীচক্র পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে। মূলতঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসন করায়ত্ত করার লক্ষ্যে এ বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পোষমানা প্রার্থীকে ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা, অথবা এলাকা দখলে রেখে ফাঁকা ভোট কেন্দ্রে জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া’।

ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত শাসক দলভুক্ত সাংসদদের সমালোচনা করে বলা হয়- আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (’৮৬ ও ’৮৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচন) টিকিটে যারা সাংসদ হন, তারা কেউই জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন নি। স্ব স্ব দলে অনুগত থেকে তারা সরকারের নীতি-কৌশল ও পদক্ষেপেরই সাফাই গেয়েছিলেন। এটা বড় পরিহাসের বিষয় যে, জনগণের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন আওয়ামী সাংসদ বিতর্কিত ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ (৩০ জুন ২০১১) পাসে ভোট দিয়ে ‘বাঙালি জাতীয়তা’ চাপিয়ে দেয়ার কালো আইন মেনে নিয়েছিলেন। তথাকথিত ‘আদিবাসী দরদী’ বাম সাংসদরাও টেবিল চাপড়িয়ে এ বিতর্কিত বিলে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘বাঙালি জাতীয়তা’ আরোপের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ এবং এ দলভুক্ত সংগঠনসমূহ তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক অবরোধ ও দীর্ঘ মানবন্ধনের কর্মসূচি দিয়ে দেশব্যাপী সাড়া জাগানো আন্দোলন গড়ে তোলে। সভ্য রীতির পরিপন্থী এ ধরনের কালো আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে ইউপিডিএফ সোচ্চার ভূমিকা পালন করলেও সংসদে দলদাস এমপি’রা জনগণের ম্যান্ডেটকে পদদলিত করে বেঈমানি করেন। চাঞ্চল্যকর স্বনির্ভরবাজার গণহত্যাসহ সাজেক-সাতভেইয়্যাপাড়া-খাগড়াছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙ্গা, বগাছড়ি, লংগদু বান্দরবানে প্রতিনিয়ত ভূমি বেদখল, হামলা-ধ্বংসযজ্ঞ, নারী ধর্ষণ-যৌন নির্যাতন, খুন-গুম, দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই সাংসদ মুখে কলুপ এঁটে থেকেছিলেন, অন্য জনের ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। ভোটের সময় তারাই “জনদরদী” সেজে নানা প্রতিশ্রুতি-অঙ্গীকারের ছেলে-ভোলানো ডুগডুগি বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকাতে ভোট চাইতে আসবেন। শুধু প্রতিশ্রুতি প্রলোভন নয়, এবার তারা জায়গা মতো বিভিন্ন হুমকি-ধামকিও দিচ্ছেন, মাঠে ছেড়ে দিয়ে রেখেছেন ‘মোত্তালেব বাহিনী (নব্য মুখোশবাহিনী)। পার্বত্যবাসী অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস খতিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, তথাকথিত বড় দল থেকে নির্বাচিত সাংসদরা পার্বত্যবাসীদের জন্য কী করেছেন! তারা মুখে জনসেবার কথা বলে কেবল আত্মসেবাই করেন নি, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কাজই করেছেন। অন্যভাবে বললে বলা যায়, বড় দলসমূহ তাদেরই মনোনয়ন দেয়, জনস্বার্থ  নয়; যারা আত্মস্বার্থে মশগুল থেকে দলদাস হয়ে থাকবেন।

জনগণের প্রকৃত মুখপত্র নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি… এসব দল জনগণের নিকট অতি পরিচিত, তাদের গণবিরোধী কার্যকলাপও পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। ‘পার্বত্য চুক্তি’ সম্পাদন করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান রচনা এ দলের লক্ষ্য নয়, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। পাহাড়ি জনগণের মাঝে হতাশা, বিভেদ-বিভ্রান্তি  সৃষ্টি আর হীনমন্যতার বীজ বপন করে যুগ যুগ ধরে তাদের ওপর শাসন-শোষণ চালানোর উপনিবেশিক নীতি আওয়ামীলীগ পরিত্যাগ করে নি, তারা পাহাড়িদের মধ্যে উচ্ছিষ্টের টোপ দিয়ে একশ্রেণীর মেরুদ-হীন দালাল লেজুড় তৈরি করেছে। সাম্প্রতিককালে দেবতাপুকুর মন্দিরে হামলা-গুইমারায় বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর এবং ভূমি বেদখলের ঘটনাসমূহে তা বারে বারে প্রমাণিত হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৮ থেকে একনাগাড়ে দশ বছর ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামীলীগ ‘পার্বত্য চুক্তি’র ‘পূর্ণ বাস্তবায়ন’ করে নি। এ অবস্থায় অধিকার আদায়ের জন্য সংসদের ভিতরে ও বাইরে যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের দাবির সপক্ষে জনমত গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। আর কোন বিভ্রান্তি নয়, এবার নিজেদের বিশ্বস্ত নিঃস্বার্থ ব্যক্তিকে মুখপাত্র নির্বাচন করতে হবে।

ইশতেহারে ইউপিডএফ-এর কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে- ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক হলেও সারাদেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্য পরিবর্তনের আন্দোলন সংগ্রামের সাথেও সম্পৃক্ত। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামক দেশের একটি অগ্রসর রাজনৈতিক জোটে এ দল অন্তর্ভুক্ত। নীতিগতভাবে ইউপিডিএফ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, অবহেলিত, শোষিত-নিপীড়িত দুর্বল সংখ্যালঘু জাতিসত্তা-সম্প্রদায়ের দাবি ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। এ দল পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে থাকে। রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে সাধারণ মানুষ নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়, তাদের পাশে দাঁড়ায় ইউপিডিএফ। এমনকী প্যালেস্টাইনে ইস্রায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে খাগড়াছড়িতে সেনা-পুলিশ কর্তৃক হামলায় জখম ও কারাভোগ করেছে ইউপিডিএফভুক্ত নেতা-কর্মীরা। বিলাইছড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার দুই মারমা সহোদরা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে ধর্ষণ-খুনের শিকার হলে তার প্রতিবাদে ইউপিডিএফভুক্ত সংগঠনসমূহ সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। তনু ধর্ষন-খুনের প্রতিবাদে ইউপিডিএফ প্রতিনিধিগণ কুমিল্লা বিশ্বরোডে আয়োজিত জনতার প্রতিবাদে সামিল হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখে, চাঞ্চল্যকর কল্পনা অপহরণের ব্যাপারেও ২২ বছর ধরে সমান সোচ্চার রয়েছে।
পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি উর্ধ্বে তুলে জাতিসত্তার স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার, নারী নির্যাতন বন্ধ, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা–ইত্যাদি বিষয়ে অবিচলভাবে গণসচেতনতা ও লড়াই সংগ্রাম সংগঠিত করছে। স্মরণকালের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহে ইউপিডিএফ-এর কর্মীবাহিনী ত্রাণসহ উদ্ধার তৎপরতায় অক্লান্ত শ্রম দিয়েছে। তাছাড়া ধান রোপন ও কাটার মৌসুমে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কৃষকদের সহায়তা করা, ইঁদুর বন্যাকালে ত্রাণ বিতরণ, শীতকালীন কাপড়-চোপর বিতরণ, লংগুদু-তাইন্দ্যং বিভিন্ন ধ্বংসযজ্ঞে ত্রাণ বিতরণ, স্কুল লাইব্রেরি স্থাপন, স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণ, গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট সংস্কার, বৃক্ষ রোপন ও চারা বিতরণ–বিভিন্ন সময় এসব সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং রুটিন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ইউপিডিএফ-এর কিছু নীতিগত দিকও তুলে ধরা হয় ইশতেহারে। এতে বলা হয়-

। ইউপিডিএফ যে কোন জাত্যাভিমানি উগ্র জাতীয়তার বিরোধিতা করে, একইভাবে সংকীর্ণ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আঞ্চলিকতা সাম্প্রদায়িকতাও বরদাস্ত করে না। জনগণের মাঝে বিভেদ নয়, প্রত্যেক জাতিসত্তার অস্তিত্বের স্বীকৃতি, সমান অধিকার ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ইউপিডিএফ ঐক্য সংহতি স্থাপন করতে চায়।

। এ দল পুরানবস্তী বাঙালিসহ পাহাড়িদের দাবি আদায়ে যেমন বদ্ধপরিকর, তেমনি সেটলার জনগণের অধিকারের ব্যাপারেও সমান উদ্বিগ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহৃত সেটলারদের জীবিকার নিশ্চয়তাসহ সম্মানজনকভাবে তাদের সমতলের জেলাসমূহে (তাদের আদি নিবাস) পুনর্বাসনের দাবি জানাবে।

। গণবিরোধী, বির্তকিত অধ্যাদেশ ও বিবিধ কালো আইন পাসের মাধ্যমে দেশের বর্তমান সংবিধান ক্রমেই অকার্যকর হয়ে পড়ছে। সংবিধানের দোহাই দিলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলসহ শাসকগোষ্ঠীই সংবিধান মানছে না, বিভিন্নভাবে লংঘন করছে। দেশের শাসনকার্য পরিচালনায় নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী আইন বাতিলসহ ইউপিডিএফ দেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে নতুন সংবিধান রচনার দাবি উর্ধ্বে তুলে ধরবে।

। ইউপিডিএফ পাহাড়ি-বাঙালি রেষারেষি, জনজীবনে বিষিয়ে তোলা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-খুন-খারাবি-এ  সকল দুষ্টচক্র ভাঙতে চায় এবং জনগণ প্রত্যক্ষভাবে পাশে থাকলে এ সকল দুষ্টচক্র ভাঙতে জোর প্রচেষ্টা চালাবে।

। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ সকল নিয়োগবাণিজ্য, ঘুষ, টেন্ডারবাজি, অসাধু সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, কালোবাজারি… এর বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ সোচ্চার রয়েছে এবং থাকবে।  ইউপিডিএফ পার্টির অভ্যন্তরেও সজাগ এবং ধারাবাহিকভাবে শুদ্ধি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। যার ফলে দুষ্কৃতী কর্মীরা বহিঃষ্কৃত হয়, ঝরে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী একটি নীতিভ্রষ্ট চক্রের সহায়তায় এসব দুষ্কৃতীদের কুড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। এ ত্রাস ভাঙার এটাই উপযুক্ত সুযোগ। এ ত্রাস ভাঙতে নিজেদের শক্তিশালী অস্ত্র প্রয়োগ করুন। আপনাদের মূল্যবান ভোটই সেই অস্ত্র। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কাজ করতে ব্যর্থ হলে এরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। ফলে দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

ইশতেহারে ইউপিডিএফ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হলে যে ১৪ দফা প্রাধান্য দিয়ে জনস্বার্থে নিবেদিত থাকার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-

১। ভূমি অধিকার : পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রথাগত ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভূমি দস্যুদের আগ্রাসন রোধ, পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকুরিরত সরকারি কর্মকর্তাদের পাহাড় বন্দোবস্তি প্রদান বন্ধ করা, বিভিন্ন কোম্পানির নিকট হাজার হাজার লিজ দেয়া ও সেনা ক্যাম্প নির্মাণ-সম্প্রসারণ ইত্যাদির নামে পাহাড়িদের উচ্ছেদ বন্ধ করা;

২। বন্দী মুক্তি, ধরপাকড় বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা : সংবিধান স্বীকৃত স্বাধীন মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকার সমুন্নত রাখা; ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় আটক ইউপিডিএফসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তিদান, অন্যায় ধরপাকড় বন্ধ, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার;

৩। সর্ব প্রকার নারী নির্যাতন রোধ : সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী নির্যাতনকারী ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি বিধান করা,

৪। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ ও পর্যটন ব্যবসা : ভূমি ধস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন রোধ, পর্যটনের নামে পরিবেশ ক্ষতিসাধন অনুমোদন না দেয়া;

৫। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় : কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে দালাল-ফরিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, উন্নত ফসলের বীজ ও জৈবসার সহজলভ্য করা; হিমাগার প্রতিষ্ঠা; কাপ্তাই হ্রদের পানি চাষাবাদ ও ফসল উত্তোলনের মৌসুমে নির্দিষ্ট  স্তরে রাখা; প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার জল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া;

– স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ লাভে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের সহায়তাদান;

– শ্রমজীবী জনসাধারণের ন্যায্য মজুরি আদায় ও বৈষম্যের শিকার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে সহায়তা প্রদান। শিল্পাঞ্চলে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ’ ও ‘ইন্ডাস্ট্রিক গোয়েন্দা’ ব্যবস্থা তুলে দিতে ভূমিকা রাখা;

৬। শিক্ষা ও চাকুরি সংক্রান্ত : প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা; পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, পাঠ্য পুস্তকে পাহাড়িদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য বাদ দেয়া, ছাত্রদের স্বার্থ সংরক্ষণার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, শিক্ষক সংকট নিরসন, বর্ধিত ফি রোধ, তিন পার্বত্য জেলা  সদরে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের স্কুল ছাত্রাবাস পুনরায় চালুকরণ, কলেজ ছাত্রাবাস, খাগড়াছড়ি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে বিষয় সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ ও ভূমিকা রাখা;

-১ম ও ২য় শ্রেণীসহ সকল সরকারি-আধা সরকারি ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পাহাড় ও সমতলের জাতিসত্তাসমূহের জন্য পূর্বতন ৫% কোটা সুবিধা বহাল রাখতে ভূমিকা রাখা;

-বিশেষ বিশেষ সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ;

-আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান ও ক্ষুদ্র শিল্পের সম্প্রসারণ;

৭। প্রত্যাগত ও আভ্যন্তরীণ শরণার্থী : চুক্তি মোতাবেক অনতিবিলম্বে প্রত্যাগত শরণার্থীদের বাস্তুভিটা ও জমি ফিরিয়ে দেয়াসহ তাদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা; আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের জায়গা-জমি ফেরত প্রদানের ব্যাপারে ভূমিকা রাখা;

৮। সামাজিক সুরক্ষা : অসহায় বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা, প্রতিবন্ধীদের জীবন ধারণে সহায়তার জন্য সচেষ্ট হওয়া;

৯। স্বাস্থ্য সেবা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত : সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ওষুধ কালো বাজারে হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি বন্ধে ভূমিকা রাখা;

শুটকী ও খাদ্য সংরক্ষণে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে ভূমিকা রাখা; সর্বোপরি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা;

১০। অপসংস্কৃতি রোধ, বিচ্যুত যুবকদের পুনর্বাসন : জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা; সমাজবিরোধীদের খপ্পড়ে পড়ে সমাজে উৎপাত সৃষ্টিকারী বখাটে যুবকদের সংশোধনের লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা;

১১। খনিজ সম্পদ ও স্থল বন্দর : পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজ সম্পদে জনগণের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, সেমুতাং গ্যাসের ওপর স্থানীয় জনসাধারণে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা;
রামগড় ও ঠেগা অঞ্চলে স্থল বন্দর নির্মাণে জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া লোকজনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ লাভে সহায়তা করা;

১২। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহৎ সামাজিক উৎসব ছুটি : বৈসাবি (বৈসুক-বিঝু-সাংগ্রাই) উপলক্ষে নববর্ষসহ তিন দিন সরকারি ছুটি আদায়;

১৩। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহকে সরকারি দলিল ও মিডিয়ায় অসম্মানজনক “উপজাতি” নামে আখ্যায়িত না করতে আহ্বান জানানো;

১৪। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইনী জটিলতা ও সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মোট ভোটারদের এক শতাংশ সমর্থনের স্বাক্ষর সংগ্রহের অযৌক্তিক বিধি তুলে দিয়ে নির্বাচনে “না ভোট” রাখার বিধান পুনঃচালু করে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা;

ইশতেহারে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সিংহ মার্কায় ভোট দিয়ে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুতন কুমার চাকমাকে বিজয়ী করে জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাঠকদের সুবিধার্থে পুরো ইশতেহারটি স্ক্যান কপি নীচে দেওয়া হলো:

———————
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.