গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৫ নেতার মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

0
2

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সিএইচটিনিউজ.কম

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৫ নেতার মুক্তির দাবিতে আজ ১৭ অক্টোবর সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শিমন চাকমা সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জিকো মারমা, সাধারণ সম্পাদক টমাস চাকমা, বকুল চাকমার সহধর্মিনী রেখা চাকমা, সুমন চাকমার সহধর্মিনী সান্ত্বনা চাকমা ও জোনাথন চাকমার পিতা লক্ষী কুমার চাকমা প্রমুখ

সংবাদ সম্মেলন থেকে আটককৃত ৫ ডিওয়াইএফ ও পিসিপি নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের নিঃর্শত মুক্তি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা ও চট্টগ্রামে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করেবিভিন্ন অপহরণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ওই গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিমন চাকমা বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ২০১১ শুক্রবার কর্ণফুলি নদীর ওপারে বড়গাঙ বৌদ্ধ মন্দিরে অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দানোত্‍সব পালিত হয়৷ এতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন অনুষ্ঠান শেষে পিসিপি ও ডিওয়াইএফ নেতাকর্মীদের অপহরণের অসত্‍ উদ্দেশ্যে সন্তু গ্রুপের সদস্য পাভেল, বকুল, তেজোদ্দীপ্ত চাকমা ওরফে অজিত, সুমন, তাপস, সিকো ও বসুসহ ১৫ – ১৬ জন মন্দির থেকে সামান্য দূরে রাস্তার পাশে ওঁত্‍ পেতে থাকে৷ কিন্তু পিসিপি ও ডিওয়াইএফ-এর নেতাকর্মীরা অন্যান্য পুণ্যার্থীদের সাথে থাকায় তাদের চেষ্টা সফল হয়নি৷ এরপর পিসিপি ও ডিওয়াইএফ-এর নেতাকর্মীরা বিকেল পাঁচটার দিকে ব্যাংক কলোনীতে আশ্রয় নিলে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা সেখান থেকেও তাদেরকে আরেকবার অপহরণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায় পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা কিছু বাঙালি ছেলেসহ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য সচিব ও শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র জোনাথন চাকমাকে রহমান নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে৷ তারপর সন্ত্রাসীরা তাকে নিয়ে শেরশাহ এলাকায় গিয়ে ডিওয়াইএফ সদস্য অতীশ চাকমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়৷ এ সময় তাদের সাথে পুলিশের পোষাক পরা কয়েকজন বাঙালি ছেলেও ছিল৷ সন্ত্রাসীরা সেখানে ডিওয়াইএফ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক টমাস চাকমাকেও ঝাপটে ধরার চেষ্টা করে৷ কিন্তু তিনি তাদেরকে ঠেলে সরে যেতে সক্ষম হন

অন্যদিকে রাত নটায় সন্তু সন্ত্রাসীদের অন্য একটি দল ডিওয়াইএফ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি বকুল চাকমাকে তার বন্দর থানাস্থ ২ নং মাইলের মাথা এলাকায় হাজিমিঞা বিল্ডিংএর ভাড়া বাসা থেকে ও ডিওয়াইএফ সদস্য সুমন চাকমাকে জামাল বিল্ডিং থেকে অপহরণ করে৷ প্রায় একই সময় সন্ত্রাসীরা একটি মেয়েকে দিয়ে ফোন করিয়ে ডিওয়াইএফ চট্টগ্রাম বন্দর থানা শাখার সভাপতি বিজয় চাকমাকে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে অপহরণ করে৷ অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা পিসিপি ও ডিওয়াইএফ-এর নেতাকর্মীদেরকে পটিয়া থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা খুনের মামলা সাজিয়ে দেয়

অপহৃতদের মধ্যে বকুল চাকমা (৩৫) পীং মৃত পূণ্য লাল চাকমা সমপ্রতি প্যারা মেডিকেল কোর্স শেষ করেছেন৷ অতীশ চাকমা (২৫) পীং সুশীল জীবন চাকমা বায়েজীদ বোস্তামীতে কিপটন টেক্সটাইল-এ চাকুরীরত আছেন৷ তার আসল বাড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উগলছড়ি গ্রামে৷ বিজয় চাকমা (২৮) ইপিজেড-এ সুপারভাইন সোয়েটার ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করেন এবং নিউমুড়িং এ মান্নান বিল্ডিংএ ভাড়া থাকেন৷ জোনাথন চাকমা মুরাদপুরস্থ শ্যামলী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ১ম বর্ষের ছাত্র৷ তার বাড়ি রাঙামাটির মানিকছড়ির সাপছড়ি গ্রামে৷ সুমন চাকমা (৩৪) ইপিজেড-এ একটি ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করেন৷

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সন্তু সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেতারা প্রধানতঃ ফ্রি পোর্ট এলাকায় থাকে৷ তারা কোথাও চাকুরী না করে সন্তু লারমার কাছ থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা নিয়ে আসে এবং মদ খেয়ে ও জুয়া খেলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে৷বেশ কয়েক মাস আগে তারা অল্প বয়স্ক কিছু বাঙালি ছেলেও জুটিয়েছে ও তাদেরকেও মদ জুয়ায় আসক্ত করেছে৷ এ জন্য বন্দর এলাকার ব্যারিস্টার কলেজ এলাকা দিন দিন খারাপ হচ্ছেতাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: তারা এ বছর ৮ ফেব্রুয়ারী গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমাকে চট্টগ্রামের বণিকপাড়া থেকে ষড়যন্ত্র করে র্যাবকে দিয়ে গ্রেফতার করায় ২৩ ফেব্রুয়ারী ডিওয়াইএফ এর সদস্য লেনিন চাকমাকে দেওয়ান হাট থেকে অপহরণ করে খুন করে (তার খুনীদের এখনো কাউকে আটক করা হয়নি) এছাড়া তারা ইন্ডিজিনাস কালচারাল ফোরামের (আইসিএফ) এর নেতা প্রীতি চাকমা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিমন চাকমা ও সোহেল চাকমাসহ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর কমপক্ষে ৩ বার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে

শিমন চাকমাবলেন,ডিওয়াইএফ ও পিসিপি যে ৫ নেতাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেএসএস সদস্য শুক্র চাকমার কথিত হত্যা মামলায় (পত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক) অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা নিরীহ ও নিরপরাধ আপনারা নিজেরা তাদের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে আমাদের কথার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেন৷ আটককৃতদের চার জন সিইপিজেডসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকুরী করছেন এবং অন্যজন নিয়মিত ছাত্র৷ তবে তারা নিজেদের সমাজ ও জাতির অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং চাকুরীর কাজ ও লেখাপড়ার ফাঁকে তারা সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে থাকেন কিন্তু উক্ত কথিত জেএসএস সদস্যের খুনের সাথে জড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক প্রথম আলোর (১৬ অক্টোবর ২০১১ সংখ্যা) রিপোর্ট মোতাবেক নিহত শুক্র চাকমার ছেলে লিটন চাকমা বলেছেন তার বাবা আত্মসমর্পনের পর থেকে আর কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না; ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন৷ তার এই কথার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় নিহত শুক্র চাকমার সাথে তাদের রাজনৈতিক কিংবা সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়

সংবাদ সম্মেলনে শুক্র চাকমার হত্যার রহস্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলা হয় তার হত্যাকান্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সন্তু গ্রুপ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অযথা হয়রানি করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.