গুইমারায় এইচডব্লিউএফ-এর সমাবেশে সেনা-পুলিশের হামলা ও ধরপাকড়

0
0

গুইমারা : প্রশাসনের বাধা ও ধরপাকড়ের মধ্যে দিয়ে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে র‌্যালী ও সামবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), গুইমারা উপজেলা শাখা।

সকাল সাড়ে দশটায় গুইমারা টাউন হল থেকে মিছিলটি শুরু হয়। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গুইমারা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় গেইটের সম্মুখে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

# শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা, গুইমারা উপজেলা সদস্য রেহেনা চাকমা ও রিতা চাকমা।

সমাবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সেনা সদস্যরা সমাবেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও যুবকদের আটক করার চেষ্টা চালায়। পরে তাদের সাথে পুলিশ সদস্যরা যোগ দেয়। এ সময় তিন জনকে তারা আটক করে। সেনা-পুলিশের আকষ্মিক হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে উপস্থিত সাহসী নারীরা। এতে ঘাবড়ে যায় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। এক পর্যায়ে আটককৃতদের বিকাল ছেড়ে দেয়ার শর্ত সাপেক্ষে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিকাল ৩টায় তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

# সমাবেশ চলাকালীন সময় সেনাবাহিনীর হুমকিমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে

বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় গোমতি ইউনিয়নে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক এক ত্রিপুরা জাতিসত্তার ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবিলম্বে ধর্ষক মো: আলমকে গ্রেফতার করে ‍দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

# গুইমারা থানার ওসির সাথে সাহসী মারমা নারীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

বক্তারা আরো বলেন, সারাদেশে ধর্ষণের উৎসব চলছে। বিলাইছড়িতে দুই মারমা তরুণীকে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের উদাহরণ দিয়ে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীরা আরো বেশী অনিরাপদ। তথাকথিত নিরাপত্তার নামে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা প্রতিনিয়ত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র গুঁজে দিয়ে গ্রেফতার ও নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের মতো মানবাধিকার পরিপন্থী কাজে লিপ্ত রয়েছে।

# সামাবেশে অংশগ্রহণকারী এক মোটরসাইকেল চালককে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করতে চাইলে নারীরা বীরত্বের সাথে বাধা প্রদান করতে দেখা যাচ্ছে

সমাবেশ থেকে বক্তারা আরো বলেন, খাগড়াছড়ি গুইমারাসহ মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলায় পাহাড়িরা আজ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। সেটেলার বাঙালিদের আগ্রাসনের মুখে পাহাড়িরা একের একের পর পিতৃভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নারী সমাজকে ঘরে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। বক্তারা পিতৃভূমি রক্ষার্থে নারীদেরকে রান্নঘর থেকে বের হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

# প্রতিরোধের মুখে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যাছে

_______
সিএইচটিনিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.