গুইমারায় বুদ্ধ মূর্তি ও বিহার ভাংচুরের প্রতিবাদে ঢাকায় পিসিপির বিক্ষোভ

0
7

ঢাকা : সেনা-সেটলার কর্তৃক রাতের আঁধারে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার কুকিছড়া জেতবন বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের প্রতিবাদে আজ বুধবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা শাখা।

“সেনা শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, রুখে দাঁড়ান” এই আহ্বানে বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া উক্ত সমাবেশে পিসিপি ঢাকা শাখার সভাপতি রিয়েল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরুপা চাকমা,গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা ও পিসিপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিপুল চাকমা। এছাড়া সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এম পারভেজ লেলিন। সমাবেশ পরিচালনার পিসিপি ঢাকা শাখার সাধারন সম্পাদক রিপন চাকমা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি ঢাকা শাখার সহ-সভাপতি শুভাশীষ চাকমা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৫ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা শাসন জারি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেনা শাসনের মাত্রা যেভাবে ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। প্রতিনিয়ত পাহাড়িদের জায়গা দখল করে নতুন নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপন, সেটেলার বাঙ্গালীদের লেলিয়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিনের পর দিন পাহাড়িদের ঘর-বাড়িতে আগুন, জায়গা-জমি বেদখল ও জুম্মদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত সোমবার (২২ অক্টোবর) মধ্যরাতে গুইমারা উপজেলার কুকিছড়ায় বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত বৌদ্ধ মন্দিরের জায়গাটি দখল করে সেনাক্যাম্প স্থাপনের পাঁয়তারা করছে সেনাবাহিনী। কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধ সমাজ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী হুমকি দিয়েছিল যে, তিন দিনের মধ্যে মন্দিরটি ভেঙ্গে বুদ্ধ মূর্তিটি ছড়িয়ে না নিলে তারা এসে ভেঙ্গে দিয়ে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় গুইমারা ব্রিগেড থেকে ব্যাপক সংখ্যক সেনা সদস্য ঐদিন রাতের আঁধারে গিয়ে বিহার ও মূর্তিটি ভেঙ্গে দিয়ে যায়। রাত বেশি হওয়ায় সেনাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে জনগণের বাড়ির ভেতর থেকে শুধু চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

বক্তারা এ ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন,  বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা প্রাক্কালে বৌদ্ধ বিহার ও মুর্তি ভাংচুরের ঘটনাটি শুধু ধর্ম অবমাননা নয়, এটা বৌদ্ধ সম্প্রদায়েরসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চরম আঘাত। 

বক্তারা এ ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন,  বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা প্রাক্কালে বৌদ্ধ বিহার ও মুর্তি ভাংচুরের ঘটনাটি শুধু ধর্ম অবমাননা নয়, এটা বৌদ্ধ সম্প্রদায়েরসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চরম আঘাত।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নব্য মুখোশ-সংস্কার সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও গোলা বারুদ দিয়ে সেনাবাহিনী যেভাবে জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধ্বংসের চক্রান্ত করছে এর ফল কখনো শুভ হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব-নারী সমাজ এটা আর মুখ বুঝে সহ্য করবে না।

বক্তারা আরও বলেন, গত দুইমাস আগে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভরে নব্য মুখোশ বাহিনী ও সংস্কারবাদীরা যেভাবে পিসিপির দুই নেতা ও এক যুব নেতাসহ ৭ জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে, সে সময় পুলিশ-বিজিবি-সেনাবাহিনী ছিল নিরব ভূমিকায়। তার কারণ এসব সন্ত্রাসীরা তাদেরই সৃষ্ট, তাদের মদদেই সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। এই সাত খুনে জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা অবিলম্বে বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের সাথে জড়িত সেনা-সেটলারদের গ্রেপ্তার ও বিচার, যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানপূর্বক যথাস্থানে বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ ও মুর্তি স্থাপন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারিকৃত ১১ নির্দেশনা ও সেনা শাসন অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষ পর্যায়ে পুলিশ অনুমতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে মাইক বন্ধ করে দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উপস্থিত ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে কেড়ে নিতে ব্যর্থ হয়। এরপর মিছিলের প্রস্তুতি নিলে আবারো বাধা দিয়ে সরে যেতে বলে। তবে অংশগ্রহন করা ছাত্র-যুব-নারীদের সাহসীকতায় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিল করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড় ঘুরে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
——————–
সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.