গ্রেফতারকৃত ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বান্দরবানে স্মারকলিপি পেশ

0
3

বান্দরবান : ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) বান্দরবান জেলা ইউনিট আজ ১৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে। এতে ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও পিসিপি নেতা বিপুল চাকমাসহ কারাবন্দী ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে।

smroklipiইউপিডিএফ বান্দরবান জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর রাজনৈতিক নিপীড়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাসে অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জেলে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিনা ওয়ারেন্টে আটকের পর তাদের উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে দৃষ্টান্ত হিসেবে কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, ‘গত ১১ জুলাই মধ্যরাতে ইউপিডিএফএর অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমাকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত অপর্ণাচরণ চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬ জুলাই লক্ষীছড়িতে ৪ ইউপিডিএফ সমর্থককে আটক করা হয়। ২৭ আগস্ট মানিকছড়িতে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের পাশ থেকে ইউপিডিএফ সংগঠক ক্যহলাচিং মারমাকে আটক করা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা কলেজের পাশে টিএন্ডটি এলাকা থেকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ২৩ অক্টোবর পানছড়িতে পিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি তার গুরুতর অসুস্থ মাকে অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আহূত সংবাদ সম্মেলন থেকে সাদা পোষাকধারী গোয়েন্দারা ২ নভেম্বর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল চাকমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ১৩ নভেম্বর খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া হাই স্কুলের পাশের একটি রাস্তা থেকে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) -এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খাগড়াছড়ি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমাকে তার পাঁচ সহকর্মীসহ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পরই তাদের উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং হাতে অস্ত্র গুঁজে দেয়ার পর পুলিশের নিকট সোপর্দ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। শুধু তাই নয়, উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও তার সহকর্মীদের প্রতি অত্যন্ত নির্দয়, অমানবিক ও অমর্যাদাপূর্ণ আচরণ (cruel, inhuman and degrading treatment) করে তার ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় ও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়।’

ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, ইউপিডিএফকে ‘গণতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম চালাতে দেয়া হচ্ছে না। নান্যাচর, কুদুকছড়ি, বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টির শাখা অফিস জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খাগড়াছড়িতে সভা সমাবেশের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত আমাদের ইউপিডিএফ-এর নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘর ঘেরাও করে তল্লাশীর নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এক কথায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফসহ পাহাড়ি সংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার অত্যন্ত সংকুচিত করা হয়েছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘গণতন্ত্র ও সেনা শাসন পাশাপাশি চলতে পারে না। অথচ পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান হলেও আমাদের এই অঞ্চলে এখনো বিপুল সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। অপারেশন উত্তরণের নামে অঘোষিত সেনাশাসন বলবৎ রয়েছে এবং এই সেনাশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজমান নেই। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত প্রচার করা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে এসেছে। আমাদের প্রশ্ন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে আসলে এত বিপুল পরিমাণ সেনা উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা কোথায়?’

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো, ১। ইউপিডিএফ নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা ও পিসিপি নেতা বিপুল চাকমাসহ কারাবন্দী ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবিলম্বে ও বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা হুলিয়া প্রত্যাহার করতে হবে। ২. ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের উপর রাজনৈতিক নিপীড়ন তথা বেপরোয়া ধরপাকড়, নির্যাতন, হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ৩। অপারেশন উত্তরণের নামে অঘোষিত সেনা শাসন তুলে নিতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৪। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ণস্বায়ত্তশাসনসহ ইউপিডিএফের ১ম জাতীয় কংগ্রেসে গৃহীত ১৬ দফা দাবি মেনে নিতে হবে।
——————-

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.