চবিতে নান্যাচর গণহত্যার স্মরণে পিসিপির আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

0
2

চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নান্যাচর গণহত্যার ২৫ বছর স্মরণে শনিবার (১৭ নভেম্বর ২০১৮) বিকাল ২ টায় আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচী পালন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চবি শাখা।

পিসিপি চবি শাখার দপ্তর সম্পাদক অর্পন চাকমার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সোহেল চাকমার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধরণ সম্পাদক অংকন চাকমা, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক অমিত চাকমা, চবি শাখার সহ-তথ্যপ্রচার সম্পাদক ত্রিরত্ন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মন্টি চাকমা।

আলোচনা সভার প্রারম্ভেই এযাবতকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সহ সেনা-সেটলার কর্তৃক সংঘটিত ডজনের অধিক গণহত্যায় নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সকলেই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে বহিরাগত সেটলার দ্বারা যে ডজনের অধিক গনহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার একটি হচ্ছে “নান্যাচর গণহত্যা”। ১৯৯৩ সালের এই দিনে নান্যাচর বাজারে সেনা-সেটলার যৌথভাবে নিরীহ, নিরস্ত্র পাহাড়িদের নির্বিচারে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে প্রায় ত্রিশ জনের অধিক পাহাড়িকে হত্যা করা হয় এবং পাহাড়িদের বাড়িঘরে চালানো হয় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। নান্যাচরের নির্মম এই হত্যাযজ্ঞ আজ ২৫ বছর অতিবাহিত হতে চললেও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার কিংবা সাজা প্রদান করা হয়নি।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের বিচারহীনতা সংস্কৃতি, অঘোষিত সেনাশাসন জারি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত প্রত্যেক ঘটনার সাথে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় কোন ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। সাজা হয়না কোন অপরাধীর।

সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর ২০১৮ তে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী রোয়াংছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ক্যসিংমংকে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল নান্যাচর জোন কমাণ্ডার বাহলুল আলমের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা নান্যাচর কলেজের এইএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমাকে জোনে ধরে নিয়ে অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। দুএকটি ঘটনা পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে জড়িত রয়েছে সেনাপ্রশাসন।

বক্তারা অবিলম্বে এযাবতকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশসহ ঘটনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তা ও সেটলারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

পরে সন্ধ্যার দিকে সকল শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

———————

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।

 


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.