চবিতে নান্যাচর গণহত্যা দিবস পালন করেছে পিসিপি

0
33

বি প্রতিনিধি ।। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নান্যাচর গণহত্যা দিবস পালন করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

নান্যাচর গণহত্যার ২৮তম বার্ষিকীতে আজ ১৭ নভেম্বর ২০২১ বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্মুখে স্মরণ সভা ও প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

স্মরণ সভায় পিসিপি চবি শাখার কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি’র আহ্বায়ক মিটন চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সোহেল চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি’র সহ-সভাপতি অঙ্কন চাকমা, চবি শাখার সদস্য রোনাল চাকমা প্রমুখ।

স্মরণসভা শুরুতে নান্যাচর গণহত্যাসহ সংঘটিত সকল গণহত্যায় শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, এযাবৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা-সেটলার গঙদের দ্বারা পাহাড়িদের উপর ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত করা হয়েছে, অথচ রাষ্ট্রের কোন ইতিবাচক ভূমিকা এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। উপরন্তু একের পর এক নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে পাহাড়িদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করা হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে এসে কেন গণহত্যা নিয়ে আলোচনা করা এত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় পলিসি পূর্বের চাইতে আরো বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারা একদিকে যেমন জোর-জবরদস্তিমূলকভাবে পাহাড়িদের উপর শাসনকাঠামো পরিচালনা করছে, অন্যদিকে চিন্তা-চেতনা ও মননশীলতার দিক থেকেও দাসত্বের শৃঙ্খলে পাহাড়িদের বন্দী করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্যে রাজনৈতিকভাবে যেমন সচেতন হতে হবে, একই সাথে তরুণ প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে রাষ্ট্রীয় শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার মন্ত্র লালন করতে হবে।

জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষা করা প্রত্যেকটি ছাত্রসমাজের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটি গভীরভাবে উপলদ্ধি, অনুধাবন ও কার্যক্ষেত্রে এর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে বলে বক্তারা উপস্থিত সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগ্রামের নতুন ধারায় সামিল হওয়ার জোর আহ্বান জানান।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে জেনেও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও সংগঠনের কর্মী’রা অবাধে পাথর উত্তোলনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের ন্যায় এখনো ‘এথনিক ক্লিনজিং’ অর্থাৎ সংখ্যালঘু নির্মূলীকরণের তত্ত্ব বা ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার বদৌলতে চলছে ইসলামিকরণ প্রক্রিয়া।

স্মরণসভা থেকে বক্তারা নান্যাচর গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর সংঘটিত সকল গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার এবং শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।

স্মরণসভা শেষে গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.