জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য হামলাকারী সেটলারদেরকেই লাভবান করবে: ডিওয়াইএফ

0
0
ডেস্ক রিপোর্ট
সিএইটিনিউজ.কম
মাটিরাঙ্গার তাইন্দং-এ সেটলার হামলা সম্পর্কে সোমবার রাঙামাটিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচী পালনকালে সন্তু গ্রুপের নেতাদের দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)।
 
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি নতুন কুমার চাকমা আজ ৬ আগস্ট মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে সন্তু গ্রুপের নেতাদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে  বলেন, “কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণ জুম্ম জনগণের উপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা হয় কেন?”  সন্তু গ্রুপের নেতাদের এই বক্তব্য অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও তা তাইন্দং-এ নিরীহ পাহাড়িদের উপর সেটলারদের হামলাকে ন্যায্যতা (justify) দেয়ার সামিল।
 
তিনি বলেন যেখানে তাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার ফণী ভূষণ চাকমা অপহরণ ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ ‘সাজানো নাটক’বলে অভিহিত করেছেন, সেখানে সন্তু গ্রুপের এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য হামলাকারী সেটলারদেরকেই লাভবান করবে।
নতুন কুমার চাকমা বলেন সন্তু গ্রুপের নেতাদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় তারা উগ্র সাম্প্রদায়িক সেটলারদের মিথ্যা ও আজগুবি প্রচারণায় কঁচি খোকাটির মতো কেবল বিভ্রান্ত হয়েছেন তাই নয়, তারা উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সেটলারদের সাথে সুর মিলিয়ে অপপ্রচারণায়ও অংশীদার হলেন।তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে চুক্তির আগে ও পরে সেটলাররা পানছড়ি, খাগড়াছড়ি ও রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় তাইন্দং-এর মতো ‘অপহরণ’ নাটক সাজিয়ে পাহাড়িদের উপর হামলা চালিয়েছে অথবা হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি ২০০৯ সালে পানছড়িতে জনৈক সেটলার নিজের মৃত স্ত্রীর লাশ পাহাড়িদের গ্রামের পাশে রেখে দিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাহাড়িদের উপর হামলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। রামগড়েও সেটলাররা তাদের সহ-সেটলারকে হত্যা করে তার দোষ পাহাড়িদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু কতিপয় সেনা সদস্যের হস্তক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সাজেক হামলার সময়ও প্রচার করা হয় ‘সন্ত্রাসীরা আগে বাঙালিদের দিকে গুলি চালিয়েছিল, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। একইভাবে গত বছর রাঙামাটি হামলাও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত করা হয়েছিল। তাইন্দং-এ ‘অপহরণের’ ঘটনাও এ ধরনের একটি সাজানো নাটক, পাহাড়িদের উপর হামলায় ব্যাপক সংখ্যক সেটলারকে উত্তেজিত করার জন্যই তা মঞ্চস্থ করা হয়েছে। অথচ এ সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হওয়ার পরও সন্তু গ্রুপ সাধারণ জনগণকে হতাশ করে সেটলারদের মিথ্যা প্রচারণাকে পরম সত্য বলে মেনে নিয়ে মীর জাফরের ভূমিকা পালন করেছে।”
ডিওয়াইএফ নেতা বলেন, সন্তু গ্রুপের নেতারা ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আরো একবার প্রমাণ করলেন তারা সরকারের দালাল হিসেবে কত নিকৃষ্ট ও নীচু জাতের।নতুন কুমার চাকমা সন্তু গ্রুপের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাঝে মধ্যে দু’একটি লোকদেখানো মানববন্ধন ও মেকী সরকার-বিরোধী বক্তব্য আপনাদের দালালী ও প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকাকে কখনোই আড়াল করতে পারবে না।” তিনি সন্তু গ্রুপকে সরকার, সেনাবাহিনী ও সেটলারদের উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দালালী না করে মতিভ্রম-দশা থেকে মুক্ত হয়ে জনতার কাতারে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.