তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ: দলীয় লোক পুনর্বাসনে আরেক কৌশল

0
3

সিএইচটিনিউজ.কম ডেস্ক:
নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়াই আবারও শিগগিরই রদবদল আনা হচ্ছে পার্বত্য ৩ জেলা পরিষদে। তবে রদবদল আনা হবে কেবল সদস্য পদে। গত ২৫ বছর ধরে পরিষদগুলোতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যে সরকার ক্ষমতায় যায় সেই সরকারের দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে পরিষদ তিনটি। ফলে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিত্বশীল হলেও ক্ষমতাসীনদের দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এবার আরও ৬ জন করে নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে পরিষদগুলোতে। এতে করে দলীয় লোকদের পুনর্বাসনে সরকার আরেক কৌশল হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

Photo0249প্রসঙ্গত, অন্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ে পার্বত্য চুক্তির বিশেষ আইন অনুযায়ী প্রবর্তিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষমতা ব্যাপক। পরিষদগুলো নিয়ন্ত্রিত স্ব স্ব জেলার সব বিভাগ ও দফতরে নিয়োগ প্রদানসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। জেলা প্রশাসন থেকেও পরিষদের ক্ষমতা অনেক বেশি। অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে এসব পরিষদে যারা চেয়ারম্যান ও সদস্য হয়েছেন তারা রাতারাতি বিপুল অর্থ-বৈভবের মালিক বনে হয়েছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। হঠাৎ করে বদলেছে তাদের জীবন চরিত্র। এ পরিষদ তিনটিতে বর্তমানে ১ জন চেয়ারম্যানসহ ৫ সদস্য সবাই ক্ষমতাসীন দলের। এবার পরিষদগুলোতে আরও ৬ জন করে নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত আসছে। অর্থাৎ চেয়ারম্যানসহ ৫ থেকে উন্নীত করে ১১ সদস্যের পরিষদ গঠন করা হবে। তবে কেবল সদস্য পদে রদবদল এনে চেয়ারম্যানদের বহাল রেখে সরকার পার্বত্য তিনটি জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের চিন্তা করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসীন রাঙ্গামাটিতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নিখিল কুমার চাকমা, খাগড়াছড়িতে জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি চাইথোয়াই অং মারমা এবং বান্দরবানে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কৈশহ্লা। প্রস্তাবিত পরিষদে এবার চেয়ারম্যান ছাড়াও থাকবেন ১০ জন সদস্য।

সূত্র জানায়, পরিষদগুলোতে সদস্য সংখ্যা চেয়ারম্যানসহ ৫ থেকে ১১-তে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে পরিষদ সংক্রান্ত অপর এক আইনবলে যে সরকার ক্ষমতায় যায় সেই সরকার নিজেদের দলীয় লোক দিয়ে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য দিয়ে পরিষদগুলো পরিচালনা করে আসছে। এখন থেকে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যানসহ ১১ সদস্য দিয়ে পরিষদ তিনটি পরিচালিত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববারের মধ্যে খসড়াটি পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন করলেই পরিষদ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এরপরই শিগগিরই পুনর্গঠন করা হবে পরিষদ তিনটি। এদিকে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে পাহাড়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা। অপরদিকে পরিষদগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় লোকদের পুনর্বাসনে সরকার আরেক ধাপ নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে প্রবর্তনের দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পরও অনুষ্ঠিত হতে পারেনি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। নির্বাচন ছাড়াই দফায় দফায় দলীয় লোক চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিয়ে পরিষদ তিনটি পরিচালনা করছে সরকার। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরিষদ তিনটির যাত্রা শুরু। সেই থেকে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে সংশোধন করা হয় পরিষদ তিনটির আইন। তার আগে ১৯৯৬ সালের ২৫ আগষ্ট নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে ১ জন চেয়ারম্যান এবং ৪ জন সদস্য নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু পরবর্তীকালে কোনো নির্বাচন না দিয়ে কেবল মেয়াদ বাড়িয়ে পরিচালনা করেছে অতীতের সব সরকার। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন আনা হয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে।

সৌজন্যে: যুগান্তর

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.