দীঘিনালায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

0
0

সিএইচটিনিউজ.কম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে পাহাড়িদের জায়গা-জমি বেদখলের বিরুদ্ধে  গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটি।

‘দীঘিনালার বাবুছড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে ভূমি বেদখল বন্ধ কর’ শিরোনামে গত ৩১ মে প্রচারিত এক লিফলেটে এ আহ্বান জানানো হয়।

চার পৃষ্ঠার লিফলেটে শুরুতে অভিযোগ করে বলা হয়, গত ১৪ মে রাতে গোপনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)-এর সদস্যরা বাবুছড়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে যত্ন মোহন কার্বারী পাড়ায় জোরপূর্বক জমি দখল করে অবস্থান নিয়েছে। এ সময় স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরাও তাদের সাথে যোগ দেয়। দখলের পর তারা চার দিকে লাল পতাকা পুঁতে বেদখলকৃত জমির সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়। উক্ত সীমানার ভেতরে তারা ভূমি মালিকসহ গ্রামবাসীদের কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। লিফলেটে বিজিবির এহেন ন্যাক্কারজনক ভূমিকার জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

লিফলেটে বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনে বিরোধিতা করার কারণ হিসেবে ১২টি পয়েন্টে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা ও সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া লিফলেটে বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে ভূমি বেদখল বন্ধ করা ও যত্ন মোহন কার্বারী পাড়া থেকে বিজিবি সদস্যদের প্রত্যাহার সহ ৩ দফা দাবি জানানো হয়েছে।সিএইচটিনিউজ.কম’র পাঠকদের জন্য উক্ত লিফলেটটি হুবহু এখানে প্রকাশ করা হলো:

————————-

সম্মানীত এলাকাবাসী
আপনারা হয়তো জানেন, গত ১৪ মে গোপনে গভীর রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর (বিজিবি) সদস্যরা বাবুছড়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে যতœ মোহন কার্বারী পাড়ায় জোরপূর্বক জমি দখল করে অবস্থান নিয়েছে। এ সময় স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরাও তাদের সাথে যোগ দেয়। দখলের পর তারা চার দিকে লাল পতাকা পুঁতে বেদখলকৃত জমির সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়। উক্ত সীমানার ভেতরে তারা ভূমি মালিকসহ গ্রামবাসীদের কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। বেদখলের পরদিন অর্থাৎ ১৫ মে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে তাদের হাতে বেদখলকৃত জমি হস্তান্তর করে। এই বেদখলকৃত জমিতে তারা নবগঠিত ৫১ নং ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর স্থাপন করবে বলে জানানো হয়েছে।  বর্তমানে বিজিবি সেখানে ৬টি তাবু খাটিয়ে অবস্থান করছে।

Dighinala leaflet1বিজিবির আদালত অবমাননা ও আমাদের নিন্দা
যে জমি বেদখল করে বিজিবি অবস্থান করছে সেখানে ১১ জনের ২৯.৮১ একর জমি রয়েছে। বিজিবি উক্ত জমি জবরদখলের জন্য ২০০৫ সালে প্রথম চেষ্টা চালায়। সে সময় তারা জেলা প্রশাসনকে দিয়ে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারী করায়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করা হলে মহামান্য আদালত ১৯ মে ২০০৫ বিজিবির (তখন বিডিআর) হেডকোয়ার্টার স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের জন্য জারিকৃত নোটিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে সরকারের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত নোটিশের কার্যকারীতা স্থগিতের নির্দেশ দেন। উক্ত রিট আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া সত্বেও বিজিবি গায়ের জোরে জমি বেদখল করেছে, যা আদালত অবমাননা ও দেশের প্রচালিত আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

অবশ্য এ ক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনেরও দায় রয়েছে। কারণ হাইকোর্টে ২০০৫ সালের রিট আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসন গত ১০ এপ্রিল জমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ গ্রহণের নোটিশ দেয়। কিন্তু বিষয়টি হাইকোর্টে মামলাধীন বিধায় ভূমি মালিকগণ কেউ ক্ষতিপূরণ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। এরপরও জেলা প্রশাসন একপাক্ষিকভাবে ও আইন লঙ্ঘন করে বিজিবিকে তার সদর দপ্তরের জমি ‘বুঝিয়ে’ দিয়েছে।

বিজিবির মতো কোন প্রতিষ্ঠান হেডকোয়ার্টার বা অফিস স্থাপন করতে চাইলে সাধারণত প্রথমে আইন মাফিক জমি ক্রয় বা বন্দোবস্ত করার পর সেখানে অট্টালিকা নির্মাণ করে। এর পরই কেবল তারা সেখানে গিয়ে অবস্থান করে। কিন্তু বিজিবি এসব নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে না গিয়ে মাস্তানীর কায়দায় দরিদ্র গ্রামবাসীর জমি জবরদখল করে নিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হয়েও বিজিবির এভাবে আইনের প্রতি অসম্মান দেখানোর ঘটনায় আমরা বিষ্মিত ও একই সাথে আতঙ্কিত। আমরা বিজিবির এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিজিবির সদর দপ্তরের প্রয়োজন নেই
আমরা নিম্নলিখিত কারণে বাবুছড়ায় বিজিবির সদর দপ্তর স্থাপনের বিরোধীতা করি:

১। বাবুছড়ার যেখানে বিজিবি তাদের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য জমি নির্দিষ্ট করেছে ও বর্তমানে অবস্থান করছে তার পশ্চিমে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে রয়েছে আর্মিদের বাবুছড়া সাবজোন। এছাড়া রয়েছে উত্তরে জারুলছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও নারেইছড়ি বিজিবি ক্যাম্প, দক্ষিণে রাঙ্গাপানি ছড়া (তথাকথিত কার্বারী টিলা) আনসার-ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প ও দক্ষিণ-পশ্চিমে কাটারুংছড়া আর্মি ক্যাম্প। এই ক্যাম্পগুলোর অবস্থানও নারেইছড়ির বিজিবি ক্যাম্প বাদে প্রস্তাবিত বিজিবি সদর দপ্তর থেকে বেশী দূরে নয়। সর্বোপরি পাশের উপজেলা বাঘাইছড়িতে বিজিবির একটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর ও খাগড়াছড়ি জেলা সদরে সেক্টর সদর দপ্তর রয়েছে। অতএব দীঘিনালায় নতুন করে বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের কোন প্রয়োজন ও যৌক্তিকতা নেই।Dighinala leaflet2

২। উপরোক্ত বাবুছড়া সাবজোন ১৯৮৫ সালে এলাকার জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক স্থাপন করা হলে সে সময় বেশ কয়েক পরিবার পাহাড়ি বাস্তুভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। যতœ মোহন কার্বারী পাড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে তাদের অনেককে আরও একবার উচ্ছেদের শিকার হতে হবে।

৩। বাবুছড়ায় বিজিবির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের আইন মানা হয়নি। এই আইনের ৬৪(১-খ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন- ….

(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।” সুতরাং বলা যায়, জেলা পরিষদের সম্মতি ছাড়া বিজিবির জন্য উক্ত জমি জোরপূর্বক অধিগ্রহণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

৪। যে জায়গায় বিজিবির সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা একটি অত্যন্ত ঘনবসিতপূর্ণ এলাকা। এ কারণে বিজিবির ক্যাম্প স্থাপনের পূর্বে স্থানীয় জনগণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও হেডম্যানের মতামত নেয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।

৫। প্রস্তাবিত জায়গায় বিজিবির সেক্টর দপ্তর স্থাপন করা হলে বহু দরিদ্র পাহাড়ি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হবেন। তাদের মধ্যে কোন কোন পরিবার দ্বিতীয় বারের মতো উচ্ছেদ হবেন। যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাহাড়িদের কাছে খাস জমি বণ্টনের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিজিবির একটি অপ্রয়োজনীয় সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য হতদরিদ্র পাহাড়িদের উচ্ছেদপূর্বক উদ্বাস্তুতে পরিণত করা যে কোন বিবেকবান মানুষের কাছে চরম অমানবিক বলে বিবেচিত হবে।

Dighinala leaflet3৬। পূর্বেই বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে উপরোক্ত জায়গায় বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রথম বার জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হলে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়। এই রিট আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিজিবি কর্তৃক অবৈধভাবে ভূমি দখল করা সুবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। বিজিবির উক্ত পদক্ষেপকে আদালত অবমাননা এবং আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন ভিন্ন অন্য কিছু আখ্যায়িত করা যাবে না।

৭। উপরোল্লেখিত রিট আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পূর্বে গত ১০ এপ্রিল ২০১৪ ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (এলএ শাখা) থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ স্বাক্ষরে ভূমি মালিকদের নামে নোটিশ ইস্যু করা হয় (যার স্মারক নং ০৫.৪২.৪৬০০.০১৮.০১৪.০২.১৩ (অংশ-২)। তবে এখনও রিট আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি বিধায়, ভূমি মালিকদের কেউ ক্ষতিপূরণ গ্রহণে উদ্যোগী হননি। তারপরও উক্ত ক্ষতিপূরণ গ্রহণ সংক্রান্ত নোটিশের নিষ্পত্তি হওয়ার আগে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ভূমি অধিগ্রহণ করা কেবল অন্যায় নয়, তা দেশের প্রচলিত আইন কানুনেরও পরিপস্থি।

৮। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় বাবুছড়া বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপন প্রকল্পের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) প্রবিধান ১৯৫৮ অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে বাবুছড়া ইউনিয়নে বিজিবির সদর দপ্তর উল্লেখ করা হলেও ভূমি অধিগ্রহণ করা হয় ৪ নং দীঘিনালা ইউনিয়নের ৫১ নং দীঘিনালা মৌজায়। মহামান্য হাইকোর্টে রিট আবেদন নিষ্পত্তির পূর্বে বিজিবির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ অবৈধ।

৯। ঘনবসিতপূর্ণ এলাকায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে জনগণের জন্য বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিজিবি সদস্যদের প্রতিদিনের কুচকাওয়াজ, টার্গেট প্রেকটিস ও সামরিক যানের আনাগোনার শব্দে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হবে ও শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১০। বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের কারণে যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী শরণার্থী। যে ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির ভিত্তিতে তারা দেশে ফিরে আসেন, তার আওতায় তাদেরকে যথাযথ পুনর্বাসন না করে বরং তাদের জমি অধিগ্রহণের নামে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

১১। বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের জন্য প্রস্তাবিত জমিতে ভূমি মালিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন বাগান-বাগিছাও গড়ে তুলেছেন। উপরোক্ত জমি ব্যতীত তাদের আর কোথাও কোন প্রকার জমি নেই। তাই তাদেরকে উচ্ছেদ করে বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার নির্মিত হলে তা তাদেরকে গলা টিপে হত্যা করার সামিল হবে।

১২। কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নয়, দীঘিনালার সর্বস্তরের মানুষ বাবুছড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের বিরুদ্ধে। তার প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, গত ১৯ মে ২০১৪ এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কয়েক হাজার নারী পুরুষ বাবুছড়ায় বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তর স্থাপন না করার দাবিতে দীঘিনালা সদরে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন। এছাড়া গত ২৭ মে একই দাবিতে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।Dighinala leaflet4

সদর দপ্তর স্থাপনের প্রকৃত উদ্দেশ্য
বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নামে উক্ত জমি বেদখল করা হলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পাহাড়িদেরকে তাদের জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ করা ও তাদের উপর নিপীড়ন নির্যাতন জারী রাখা। পার্বত্য চুক্তিতে বিজিবি ক্যাম্প ও ৬টি সেনানিবাস ছাড়া সকল সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার কথা বলা আছে। অদূর ভবিষ্যতে জনগণের আন্দোলনের দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটিদীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। ৩১ মে ২০১৪।মুখে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার জন্য সরকার কোন কোন এলাকা থেকে সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নিতে বাধ্য হলেও, যাতে নিরন্তরভাবে পাহাড়ি জনগণের উপর প্রভুত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় তার জন্য সে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে বিজিবির উপস্থিতি বাড়াচ্ছে; বিভিন্ন স্থানে বিজিবির ক্যাম্প ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর নির্মাণ করছে। বিজিবির প্রধান কাজ সীমান্ত রক্ষা হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের ভূমিকা ভিন্ন। তারা টহলের নামে পাহাড়িদের বসতিতে হানা দিয়ে জনগণের উপর অত্যাচার চালায় ও পাহাড়ি গ্রামে হামলা চালাতে বাঙালি সেটলারদের মদদ ও সহযোগিতা দেয়। মাটিরাঙ্গার তাইন্দং-এ গত বছর বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে হামলা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিজিবি বাঙালি সেটলারদের সাথে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছিল।

তাই প্রতিরোধ
গত জরুরী অবস্থার সময় সেনাবাহিনী সরাসরি সেটলারদের দিয়ে ভূমি বেদখলের উৎসবে মেতে উঠেছিল। কিন্তু জনগণের সংগঠিত বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের কারণে দীঘিনালাসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা সফল হতে পারেনি। এজন্য সেনাবাহিনী এখন পাহাড়িদের জমি কেড়ে নেয়ার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে — আর তা হলো সেনা, বিজিবিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নামে ‘ভূমি অধিগ্রহণ’ করা। কিন্তু পাহাড়ি জনগণ এত বোকা নয় যে, তারা তাদের এই চালাকি বুঝতে পারবে না। সম্প্রতি দীঘিনালা সদরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘটে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষের উপস্থিতি এই সত্যকে তুলে ধরেছে যে, তারা নিজেদের ভূমি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক লড়াই চালাতে প্রস্তুত। বাবুছড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে তারা বদ্ধপরিকর।

অতএব আন্দোলনকে আরো ব্যাপক করতে হবে এবং এতে নারী পুরুষ আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাই সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান:

  • আসুন, সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। নিজেদের ভূমি রক্ষার জন্য উদ্যোগী হই।
  • আসুন, বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলি।

সেই সাথে সরকারের কাছে দাবি:

১। বাবুছড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে জমি অধিগ্রহণ তথা ভূমি বেদখল বন্ধ করুন। যতœ মোহন কার্বারী পাড়া থেকে বিজিবি সদস্যদের প্রত্যাহার করুন।

২। বাবুছড়া আর্মি ক্যাম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিন ও ক্যাম্পটি তুলে নিন।

৩। ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তি মোতাবেক ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীদের যথাযথ পুনর্বাসন করুন।

 

দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটি

——————————————————————————————————–
দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। ৩১ মে ২০১৪।

——————-

সিএইচটিনিউজ.কম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.