কাউখালী উপজেলার

দোবাকাবা-নভাঙায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন বন্ধের দাবিতে সেনা প্রধান বরাবর গ্রামবাসীদের স্মারকলিপি

0
159

কাউখালী প্রতিনিধি ।। রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের দোবাকাবা ও নভাঙা গ্রামবাসীরা তাদের এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সেনা প্রধান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

আজ সোমবার (২১ ডিসেম্বর ২০২০) সাবেক মেম্বার পাইক্রামা মার্মার নেতৃত্বে চার সদস্যের গ্রামবাসীর একটি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শতরূপা তালুকদারের কাছে স্মারকলিপিটি পেশ করেন। তবে তিনি স্মারকলিপিটি গ্রহণ করলেও তার রিসিভ কপি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারণ, এর আগে (২৫ নভেম্বর ২০২০) একই দাবিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্মারকলিপিটি তার মাধ্যমে সেনা প্রধান বরাবর প্রেরণ করা হলে তা নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নানা চাপের সম্মুখীন হন বলে তার অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, ‌‘আমরা এলাকাবাসী জীবন জীবিকার জন্য গাছ বাঁশ তথা বনের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল। উক্ত ক্যাম্প যে জায়গায় স্থাপন করা হচ্ছে সেখানে ৯ জন গ্রামবাসীর সৃজিত বাগান বাগিচা ও জমি রয়েছে। ক্যাম্প স্থাপিত হলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, উক্ত জমি ও বাগানের ভোগ দখল থেকে বঞ্চিত হবেন’।

এতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবন ধারনের জন্য বনের উপর নির্ভরশীল, তাই উক্ত নয় ভূমি-বাগান মালিকগণ ছাড়া অন্যান্য গ্রামবাসীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কারণ গৃহ নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ, জ্বালানী কাঠ আহরণ, বন্য তরি-তরকারী, ফলমূল ও ওষধপত্র সংগ্রহসহ আরও বিবিধ প্রয়োজনে আমাদেরকে বনে যেতে হয়। গ্রামের পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই এই কাজ করতে হয়। তাই যদি ক্যাম্প স্থাপিত হয় তাহলে আমরা সেসব থেকে বঞ্চিত হবো। যেহেতু উক্ত নয় ভূমি মালিকের জমি বা বাগান এবং তার আশে পাশের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে আমাদের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হবে, এমনকি আমাদের পক্ষে এলাকায় টিকে থাকা বা জীবন ধারন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে’।

স্মারকলিপিতে গ্রামবাসীরা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীরা কয়েক বছর আগে নিজেরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে দোবাকাবা ছড়ায় (নদীতে) একটি বাঁধ নির্মাণ করি। এতে একটি জলাশয় সৃষ্টি হয়, যা যেখানে ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে তার সাথে লাগোয়া। আমরা গ্রামবাসীরা এই জলাশয়ে মাছ চাষ করার পাশাপাশি এর পানি ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে বর্মাছড়ি বাজারে গাছ ও বাঁশ পরিবহন করে থাকি। ক্যাম্পটি স্থাপিত হলে আমাদের পক্ষে আর সেটা করা সম্ভব হবে না। বাজারে গাছ বাঁশ বিক্রয় করতে না পারলে আমাদের উপোষ থাকা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর থাকবে না। অথচ আমরা গাছ বাঁশ বিক্রয় করে ইদানিং আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে সক্ষম হচ্ছি। অনেক কষ্ট করে আমরা তাদের পড়ার খরচ যোগাড় করি। যদি ক্যাম্প স্থাপিত হয়, তাহলে তাদের শিক্ষাজীবনও অকালে শেষ হয়ে যাবে। আমাদের সকল স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবে’।

ক্যাম্প স্থাপন করা হলে বন ও পরিবেশেরও ক্ষতি হবে। কারণ ক্যাম্প নির্মাণের জন্য প্রচুর গাছ বাঁশ ধ্বংস ও পাহাড় কাটতে হবে বলে তারা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন।

এছাড়া ক্যাম্প স্থাপনকে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আখ্যায়িত করে তারা বলেন, কারণ চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করার শর্ত লিখিত রয়েছে।

স্মারকলিপিতে দুই গ্রামবাসীর পক্ষে ৩০ জন নারী-পুরুষ স্বাক্ষর ও টিপসহি প্রদান করেন।

স্মারকলিপির অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি ব্রিগেড কমান্ডারকে ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর ২০২০ হতে দোবাকাবা ও নভাঙ্গা এ দু গ্রামের সীমান্তবর্তী স্থানে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে অবস্থান করছে। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত/প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.