পানছড়িতে পিসিপির আলোচনা সভা

0
77

পানছড়ি প্রতিনিধি ।। শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর উদ্যেগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভার ব্যানার শ্লোগান ছিল ‘মানবিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেনা-পুলিশি নজরদারি ও হস্তক্ষেপ রুঁখো’। আর দাবি ছিল ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত কর, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল কর’।

সভায় পিসিপি’র পানছড়ি থানা শাখার আহ্বায়ক সুপ্রিম চাকমার সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ এর সংগঠক সাইক্লোন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি থানা শাখার সভাপতি কৃপায়ন চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য রিপন জ্যোতি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিঠুন চাকমা ও ঢাকা শাখার দপ্তর সম্পাদক রনেল চাকমা। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন পিসিপির পানছড়ি শাখার সদস্য সচিব সুনীল চাকমা।

আলোচকবৃন্দ বলেন, মহান শিক্ষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে শহিদ হয়ে যারা ইতিহাস রচনা করেছেন তাঁরা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, টাকা যার শিক্ষা তার এ রকম রাষ্ট্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রক্তের বিনিময়ে ছাত্র সমাজ প্রতিবাদ প্রতিরোধ করে শিক্ষার অধিকার আদায় করে নিয়েছিল।

আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমানে দেশব্যাপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি ছাত্র সংগঠনের বেপরোয়া কার্যকলাপ ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে। দূর্নীতি ও দলীয়করণ করে দেশের স্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শাসকগোষ্ঠী নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলোতে নির্বাচন না দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা আরো নাজুক উল্লেখ করে আলোচকবৃন্দ বলেন, এখানে প্রাথমিক স্তরে জেলা পরিষদগুলোতে ঘুষ, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য, অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ভিত্তি নিয়ে গড়ে উঠছে এবং ঝড়ে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত দূরাবস্থা, মানহীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সেটা আরো প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে। ফলে প্রত্যেক বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রচুর শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে পিছিয়ে পড়ছে।

তারা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুল-কলেজগুলোতে সেনা-পুলিশের অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে পড়াশুনা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক নান্যচরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমাকে পিটিয়ে, বান্দরবানের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ক্যাসিঅং মারমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সভা-সমাবেশের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। উপরন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অন্ধকারে রেখে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে পিছিয়ে পড়া জাতিসত্তাসমূহের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোটা ব্যবস্থা ছিল সেটা বাতিল করেছে। যা বৈষম্যের সৃষ্টি করবে। সরকারকে অবশ্যই শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।

আলোচকবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মানসম্পন্ন শিক্ষার উপর জোর দেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপ-নজরদারি বন্ধের দাবি জানান।


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.