পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য ‘আর্মড পুলিশ মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ন’ গঠনের প্রস্তাব

0
345

নিজস্ব প্রতিনিধি ।।  তিন পার্বত্য জেলার জন্য ‘আর্মড পুলিশ মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ন’ নামে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ মার্চ ২০২১) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ‘আর্মড পুলিশ মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ন’ নামে প্রকল্প প্রস্তাবের ফাইলটি হস্তান্তর করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) সঙ্গে বৈঠক হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ছেড়ে আসা পরিত্যক্ত ক্যাম্পের জায়গায় ‘আধুনিক পুলিশ’ মোতায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই ঘোষণার আপত্তি জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিল ইউপিডিএফ।

ওই বিবৃতিতে ইউপিডিফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন ‘সরকারের এই উদ্যোগ কেবল ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক চেতনার পরিপন্থীই নয়, তা পাহাড়ি জনগণের সাথেও চরম বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শান্তি’ স্থাপন নয় (সেটা উছিলা মাত্র), আসলে বান্দরবানের চিম্বুকে পাহাড়ি স্বার্থ বিরোধী পাঁচ তারকা হোটেল-পর্যটন ব্যবসার বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষসহ জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন ও পাহাড়ের মূল্যবান বনজ সম্পদ লুণ্ঠন নির্বিঘ্ন করার হীন উদ্দেশ্যে লুঠেরা বান্ধব সরকার এ ধরনের গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ইউপিডএফ’র এই মুখপাত্র।

এতে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বর্তমানে মাটিরাঙ্গা-গুইমারাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নাকের ডগায় বিশেষ গোষ্ঠীর সৃষ্ট সন্ত্রাসী চক্র খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। রাঙামাটি ও দক্ষিণাঞ্চল বান্দরবানে তথাকথিত মগ পার্টি নামধারী বিশেষ গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা অনুরূপভাবে জনজীবন বিষিয়ে তুলেছে। অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর বর্তমান ভূমিকাকে বিতর্কিত ও গণবিরোধী আখ্যায়িত করে অংগ্য মারমা ওই বিবৃতিতে আরও বলেছিলেন, ২০১৮ সালের ১৮ আগষ্ট খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে বিশেষ গোষ্ঠীর সৃষ্ট সন্ত্রাসীদের পরিচালিত চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনার সময় বাজারে পাহারারত পুলিশ সদস্যরা ও নিকটস্থ বিজিবি সেক্টর সদর গেইটের জওয়ানরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ও অরাজকতার জন্য তিনি পুলিশ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর এহেন ভূমিকাকে দায়ি করে তিনি বলেছিলেন, ‘পাহাড়ে শান্তি স্থাপন করতে হলে নতুন পুলিশ ক্যাম্প নয়, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প নয়, তাদের গণবিরোধী ভূমিকারই পরিবর্তন করতে হবে’।

 


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.