পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা, বিতর্কিত ভূমি কমিশন ও জনগণের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

0
0
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সিএইচটিনিউজ.কম
bhumiপার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমসা, বিতর্কিত ভূমি কমিশন ও জনগণের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনার খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছেনির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি সংসদ এ সেমিনারের আয়োজন করে
ভূমি আমাদের অস্তিত্ব, ভূমি আমাদের জীবনশ্লোগানে আজ বুধবার বিকাল ২:৩০টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নারাঙখিয়াস্থ সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি সংসদের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি ও মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সোনা রতন চাকমাএতে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অনন্ত বিহারী খীসা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি অজিত বরণ চাকমা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক কিরণ মারমা, হেডম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক স্বদেশ প্রীতি চাকমা, নির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা প্রমুখসেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা, বিতর্কিত ভূমি কমিশন ও জনগণের ভূমিকাশীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ইউনাইটেড পিপল্‌স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নেতা মিঠুন চাকমাসেমিনারে ভূমি বেদখলের শিকার দিঘীনালা কলেজের প্রভাষক ঝিমি চাকমা, মাইসছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজু মারমা ও অমলেন্দু চাকমা তাদের ভূমি হারানোর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন
সেমিনারে অনন্ত বিহারী খীসা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা হচ্ছে জুম্মদের ভূমি অধিকার হারানোর সমস্যা, ভূমি বেহাত হয়ে যাওয়ার সমস্যা এবং জুম্মদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বিতাড়িত করার সমস্যাকাজেই এ সমস্যা সাধারণ সমস্যা নয়এ সমস্যা হচ্ছে আমাদের জীবন মরণের সমস্যএ সমস্যা সুষ্ঠু সমাধানের উপর নির্ভরশীলএ সমস্যা আমাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার সমস্যাআমরা অনেক কিছু শেষ হয়ে গেছেএখনো যদি আমরা নিষ্ক্রিয় থাকি তাহলে আমরা একেবারেই শেষ হয়ে যাবো
তিনি বলেন, ভূমি আমাদের অস্তিত্বের প্রতীকভূমি না থাকলে আমাদের পরিচিতি থাকবে না, অস্তিত্ব থাকবে নাএখানে আমরা যদি ভূমিহীন হয়ে পড়ি, ভূমি সমস্যা যদি সমাধান না হয় তাহলে আমাদের অস্তিত্বই থাকলো নাআমরা নিশ্চিহ্ন হতে চাই না, অবলুপ্ত হতে চাই না, আমরা বেঁচে থাকতে চাইকাজেই ভূমি সমস্যা নিয়ে আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে, একতাবদ্ধ হতে হবে
তিনি আরো বলেন, সরকার খাস জমির কথা বললেও পার্বত্য চট্টগ্রামে খাস জমি বলতে কোন কিছুই নেইএখানকার সকল জমিই সামাজিক সম্পত্তিআমাদের এই সম্পত্তির অধিকার হরণ করা হয়েছেবেআইনীভাবে আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে বিশেষ নীল নক্সা বাস্তবায়নের জন্য সরকার বাইরে থেকে লোকজন এনে আমাদেরকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে
তিনি বলেন, সেটলারদের দিয়ে আমাদের জমি জবরদখল করা হয়েছেতাদেরকে বেআইনীভাবে বন্দোবস্তি দেয়া হয়েছেসেটলাররা ছাড়াও অসংখ্য লোক বাইরে থেকে এসে এখানে জায়গা-জমি কিনেছে, বন্দোবস্তি নিয়েছেকি পরিমাণ জায়গা বেদখল হয়ে তা পরিসংখ্যান দেখলেই চমকে উঠতে হয়কাজেই আমাদের হাতে এখন আর তেমন জমি নেইত্রুটিপুর্ণ আইন ও সরকারের আন্তরিকতার অভাবের কারণেই এটা হয়েছেসরকার চাই না পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে থাকুককিন্তু সরকারের এটা মনে রাখা দরকার যে, ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের যে অধিকারগুলো রয়েছে সে অধিকারগুলো হরণ করার ক্ষমতা সরকারের নেই
বর্তমান ভূমি কমিশন দিয়ে ভূমি সমস্যা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূমি কমিশনের বর্তমান আইনের দ্বারা যদি বিচার কাজ চালানো হয় তাহলে সব জমি আমাদের বেহাত হয়ে যাবেকারণ এই আইনটা আমাদের ফেবারে নয়এই আইন আমাদের স্বার্থ, আমাদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে না
সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধে বলা হয়, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যার খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী শুরুতেই এক তরফাভাবে ভূমি জরিপের ঘোষণা দিয়ে ও কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েনভূমি কমিশন আইনের সংশোধন না করে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ১৪ মার্চ ২০১০ দরখাস্ত আহ্বান করে গণবিজ্ঞপ্তি জারী, তিন জেলায় র‌্যালী করে বেড়ানো, শুনানীর আয়োজন করা, পরে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখ তা বন্ধ করতে বাধ্য হওয়া — তার এসব একগুঁয়েমী কর্মকান্ড ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ দেখা দেয়
সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ সংশোধন করে এর অগণতান্ত্রিক চরিত্র বাদ দেয়া, ২(ছ) ধারায় প্রচলিত আইন ও রীতির ব্যাখ্যা আরো সুস্পষ্ট করা, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ করার জন্য কেবলমাত্র ভারত প্রত্যাগত ও আভ্যন্তরীণ জুম্ম শরণার্থীসহ ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদেরকে ভূমি কমিশনে আবেদনের সুযোগ দেয়া, ভূমি কমিশন আইনের ৬(গ) ধারা প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত পুনর্বাসিত বাঙালি সেটলারদেরকে সমতলে জীবিকার নিশ্চয়তাসহ পুনর্বাসন করা, ভূমি কমিশনের সদস্য হিসেবে হেডম্যান ও কার্বারীদের অন্তর্ভুক্ত করা, বন ও ভূমির ওপর পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়া

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.