পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি রক্ষার দায়িত্ব ছাত্র-যুব সমাজকেই নিতে হবে

0
0

muktomot-copy2।। পারদর্শী ।।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারী-বেসরকারীভাবে ভূমি বেদখল বেড়েই চলেছে। কখনো সেটলারদের দিয়ে, কখনো ইজারার নামে, কখনো উন্নয়নের নামে এ ভূমি বেদখল অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির আলুটিলায় পাহাড়িদের ভোখদখলীয় ৭০০ একর জায়গায় বিশেষ পর্যটন জোন স্থাপনে সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় বান্দরবান, সাজেকে পর্যটন কেন্দ্র বানিয়ে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশ্য আশার কথা এই যে, আলুটিলায় পর্যটন জোন স্থাপনে সরকারী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এখন ছাত্র সমাজ সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।গঠন হয়েছে আলুটিলা ভূমি রক্ষা ছাত্রজোট। এছাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে গঠন হয়েছে আলুটিলা ভূমি রক্ষা কমিটি। চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি। মোটকথা, এখন আলুটিলা রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদে সরব রয়েছে।

আমরা যদি হিসাব মেলাই তাহলে দেখতে পাই যে, ইতিমধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় হাজার হাজার একর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় পাহাড়িরা এখন সেসব জায়গা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ হয়ে ভূমিহনি অবস্থায় অন্য কোথাও ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছে।

cht

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়িরা মূলত প্রথাগত আইনেই ভূমির মালিক হয়ে থাকে। তাদের কোন সরকারি দলিল দস্তাবেজের প্রয়োজন হয় না। ভোগ-দখলে থাকলেই পাহাড়িরা ভূমির মালিক হতে পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে তারা জায়গা-জমি ভোগ করে আসছে। কিন্তু বংশপরম্পরা চলে আসা পদ্ধতি সরকারের নিকট এখনো স্বীকৃত নয়। ফলে পাহাড়িরা দিনদিন ভূমিহারা-ভিটেমাটি হারা হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির উপরই পাহাড়িদের জীবনাচার, সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ভুমি বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে এসব সংস্কৃতি দিন দিন বিলুপ্ত হতে বসেছে।এতে করে পাহাড়িদের জাতীয় অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিই পাহাড়িদের প্রাণ। এই ভূমি হারালে তারা কিছুতেই টিকে থাকতে পারবে না। হারিয়ে যাবে এই পৃথিবীর বুক থেকে, যেভাবে অনেক জাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই, এই ভূমি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। এজন্য ছাত্র-যুব সমাজকে আরো বেশি সোচ্চার হতে হবে। সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে পার্বত্য ভূমি রক্ষার দায়িত্ব ছাত্র-যুব সমাজকেই নিতে হবে।

[মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো লেখকের নিজস্ব মতামতই প্রতিফলিত ]

—————

সিএইচটি নিউজ ডটকম’র প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিলে যথাযথ সূত্র উল্লেখপূর্বক ব্যবহার করুন।


Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.