পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক দু’টি নিবন্ধ সম্পর্কে

0
1

।। উচিং মারমা ।।

পার্বত্য চুক্তি বার্ষিকীতে সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত বিষয়ে এবং বিশেষত চুক্তি নিয়ে কলাম লেখা ও টিভি চ্যানেলে টক শোর আয়োজন করা যেন একটা বাধ্যতামূলক রেওয়াজে পরিণত হয়েছেগত ২ ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ও ৪ ডিসেম্বর ডেইলী স্টারে এ ধরনের দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছেপ্রথমটি লিখেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বর্তমানে ইউল্যাবের শিক্ষক আবদুল মান্নানআর দ্বিতীয়টি লিখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত ব্রিগেড কমান্ডার A. F. Jaglul Ahmed.এই দুই লেখা সম্পর্কে আমি আমার মতামত সংক্ষেপে তুলে ধরছি

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির সুযোগ দিতে হবে” শিরোনামে ২ ডিসেম্বর ২০১১ যুগান্তর পত্রিকার উপসম্পাদকীয় কলামে আবদুল মান্নান পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার পটভূমি সম্পর্কে যথার্থই লিখেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তির বীজটা বপিত হয়েছিল সেই পঞ্চাশ আর ষাটের দশকে, যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান মার্কিনীদের সহায়তায় কাপ্তাইয়ে এ অঞ্চলের একমাত্র জলবিদ্যু কেন্দ্রটি স্থাপন করেনএ বিদ্যু কেন্দ্র স্থাপনের কাজটি শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে এবং শেষ হয় ১৯৬৩-তেএ জলবিদ্যু প্রকল্প স্থাপনের ফলে পানির নিচে তলিয়ে যায় জুম্ম জনগোষ্ঠীর ৫৪ হাজার একর কৃষিজমিএক লাখ মানুষ (এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ) হয় গৃহ আর সহায়সম্বলহারাসে সময় ৪০ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়এটি ছিল জুম্ম জনগণের জীবনে প্রথম বড় ধরনের ট্রাজেডিসে সময় পাকিস্তান সরকার এ এলাকায় সমতলভূমির বাঙালিদের অবাধে বসতি স্থাপন করার জন্যও সুযোগ করে দেয়এটি ছিল ১৯০০ সালের পার্বত্য অঞ্চলের ম্যানুয়েলের বড় ধরনের বরখেলাপ১৯৭৯ সাল থেকে জেনারেল জিয়ার শাসনামলে সরকার বাস-ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নদীভাঙা দরিদ্র মানুষকে পার্বত্য অঞ্চলে নিয়ে এসে ঢালাওভাবে বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়জুম্ম জনগণ আবার নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে থাকেদ্রুত তারা তাদের এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ থেকে সংখ্যালঘিষ্ঠ হতে শুরু করে১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর যেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমতলভূমির জনগণের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার তিন ভাগ, ১৯৯৮ সালে তা ৫৩ ভাগে উন্নীত হয়পাহাড়িরা অনেকটা নিজ ঘরে পরবাসী হয়ে যায়এমনটি হতে থাকলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে, যার একটি উকৃষ্ট উদাহরণ পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ দুই দশকের হানাহানি আর রক্তপাতএমনটি ঘটেছে অষ্টাদশ শতকের যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের অনেক দেশে, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, রোডেশিয়া প্রভৃতি দেশে।”

তার এই বক্তব্য সম্পর্কে কোন দ্বিমত নেইএরপর তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন: “পরিস্থিতি বেশিদূর গড়ানোর আগেই সরকারকে সচেতন হতে হবে এবং শান্তিচুক্তিতে প্রতিশ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, যার মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ অন্যতম, তার গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে হবেএকই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, পাহাড়ে সমতলভূমির বাঙালিদের অবস্থান একটি বাস্তব সত্যতাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাবে নাতাদেরও ন্যুনতম স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে।”

এখানে “ন্যুনতম স্বার্থ সংরণের বিষয়টি” বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়নিশ্চয়ই তিনি চান না একবিংশ শতাব্দীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ রেড ইন্ডিয়ানদের মতো অথবা অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মতো ভাগ্য বরণ করুকসেটলারদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই সম্ভব নয়কিন্তু যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের দ্বারা বেদখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি ফয়সালা করার প্রশ্নটি সামনে চলে আসেকিন্তু এ ক্ষেত্রে লেখকের সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য নেইতিনি ধোঁয়াশা না করে সমাধান সূত্রটি স্পষ্ট করে বলতে পারতেন সেটলারদের ন্যুনতম স্বার্থ সংরক্ষণ হিসেবে তাদেরকে সমতলে জীবিকার নিশ্চয়তাসহ পুনর্বাসন করতে হবেআপনি আমার জমি কেড়ে নেবেন তারপর বলবেন আসুন শান্তিতে বসবাস করি, তা তো হয় নাআপনি যদি আপনার উপরোক্ত লেখার মাধ্যমে বোঝাতে চান যে সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কোন মতেই ফিরিয়ে নেয়া যাবে না, তাহলে তার ভাব সম্প্রসারণ হবে এই: চোর চুরি করেছে ঠিকই, কিন্তু ন্যায় বিচার করা যাবে না; চুরি করা জিনিসগুলো মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে চোরকে বাধ্য করা যাবে নাএ রকম হলে কি তা ন্যায়বিচার হবে? আপনি একদিকে স্বীকার করবেন সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে এসে ঢালাওভাবে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়ে পাহাড়িদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, তাদেরকে নিজ ঘরে পরবাসী করা হয়েছে, আর অন্যদিকে সেই ভুলের সংশোধন করতে রাজী হবেন না, সেটা কী ধরনের মানসিকতা? কোন ধরনের ন্যায়বিচার? সেটলারদের দ্বারা বেদখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেয়ার কথা উঠলেই অবধারিতভাবে তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়ার প্রশ্নটি সামনে চলে আসেকিন্তু আবদুল মান্নানের মতো কিছু লেখক এ বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে চানতারা পাহাড়িদের ওপর যে ঐতিহাসিক অন্যায় করা হয়েছে সেটা স্বীকার করেন বটে, কিন্তু তার সত্যিকার প্রতিকার বিধান করতে আগ্রহী ননতারা পাহাড়িদের জমি বেদখল হওয়ার মতো অন্যায়কে মেনে নেন না এমন ভাব দেখান, কিন্তু সেই বেদখল হওয়া জমি ফিরিয়ে দেয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেন নাএক কথায় তাদের ভাবখানা এমন: আমি শান্তি চাই, তবে কেড়ে নেয়া জমি ফিরিয়ে দেবো না; আমি শান্তি চাই, কিন্তু সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেবো না

মান্নান সাহেব তার লেখায় ইউপিডিএফ সম্পর্কে অত্যন্ত আজগুবি গল্প ফেঁদে বসেছেনতিনি লিখেছেন, “১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বারের এক বছরের মাথায় ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইউনাইটেড পিপল্‌স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামক শান্তিচুক্তি বিরোধী একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়এতদিন অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেমাঝে মাঝে তারা শান্তিকামী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করছে।”

তার এ লেখা পড়ে যে কারোর মনে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে অতীতের কিছু তথ্য তার জানা থাকলেও তিনি সাম্প্রতিককালের পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানেন নাকোথা থেকে তিনি জানলেন ইউপিডিএফ একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক দল?গঠনের পর থেকে ইউপিডিএফ কোন সময়ই নিষ্ক্রিয় থাকেনি, মনে হয় তিনিই Rip van Winkle -এর মতো পাহাড়ে উঠে এতদিন ঘুমিয়ে ছিলেনসেজন্য ইত্যবসরে যে পরিবর্তন হয়ে গেছে তা ঠাহর করতে পারছেন নাঘুমের ঘোরে চিতাউর্দি-পরা দানব হয়তো তাকে বলেছে ইউপিডিএফ একটি সশস্ত্র দল এবং এই দলটি মাঝে মাঝে শান্তিকামী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছেসত্যের অনুরোধে উনাকে বলা আবশ্যক যে, ইউপিডিএফ সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন লোকে শুনলে তা কৌতুক মনে করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে, যেভাবে Rip van Winkle -কে দেখে লোকজন হাস্য সংবরণ করতে পারেনি

এবার দ্বিতীয় লেখাটি প্রসঙ্গেPeace in CHT: A perspective on the military role wk‡ivbv‡g A. F. Jaglul Ahmed এর লেখা পড়ে চুক্তি-উত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা হলেও বোঝা গেলোসেনাবাহিনী যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোন সমস্যার সমাধান করতে যায় তখন তারা সেই সমস্যাকে আরো বেশী জটিল করে তোলেএটা বিভিন্ন দেশে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও দেখা গেছেকারণ তারা যুদ্ধের গঁবাধা কিছু তত্ত্ব ও নিয়ম রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে, এবং তাও আবার যান্ত্রিকভাবেলেখক জার্মান সমরতত্ত্ববিদ Clausewitz এর উল্লেখ করে লিখেছেন সকল প্রকার সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে চূড়ান্ত অবস্থা হিসেবে দেখা সেনাবাহিনীর পে কঠিনআর তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী চুক্তি-উত্তর পরিস্থিতিতে নতুন করে শত্রু নির্ধারণে ব্যস্ত(But in the post-accord era, the textbook method of combat disappeared, the face of the enemy got blurred and the sense of urgency of the soldiers vanished due to reduction in the level of threat.)

সহজ কথায় লেখক যা বলতে চেয়েছেন তা হলো, সেনাবাহিনীর পে চুক্তি-পূর্ব সময়ে শত্রুকে চেনা ও তাকে মোকাবিলা করা সহজ ছিলকিন্তু বর্তমানে চুক্তি-উত্তর পরিস্থিতিতে শত্রু অস্পষ্ট হয়ে গেছেআসলে সেনাবাহিনী যখন মাঠে থাকে, তখন তারা শত্রু ছাড়া আর কোন কিছু ভাবতে পারে নাতার উপস্থিতি ও অস্তিত্বের জন্য শত্রুর দরকার হবেই – বাস্তব বা কল্পিত শত্রু যেই হোক না কেনচুক্তির পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের উপস্থিতি জায়েজ করার জন্য তাদের তাই এক কল্পিত শত্রু খুঁজে নিতে হয়েছেআর এই শত্রু হলো, পূর্ব তিমোর ও দণি সুদান নামক জুজুপার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমোর বা দণি সুদানের মতো বিচ্ছিন্ন করার দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে এই হলো তাদের যুক্তি-তথ্যবিহীন সাধারণ অভিযোগপার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে চিরকাল অধিকার বঞ্চিত ও তাদের ওপর জাতিগত আধিপত্য বজায় রাখাই হলো নানা উছিলায় সেনা উপস্থিতির আসল উদ্দেশ্য

Clausewitz এর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো War is the continuation of peace and vice versaলেখক যখন বলেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠা সংঘাত নিরসনের চূড়ান্ত অবস্থা কিনা তখন তিনি যে এই তত্ত্ব কথাটা মাথায় রেখে বলেছেন তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না

কিন্তু রাজনীতি-অনভিজ্ঞ অন্য অনেক সামরিক কমান্ডারের মতো লেখকও এ ক্ষেত্রে যে ভুলটা করেন সেটা হলো বিষয়গুলোকে বা সমস্যাগুলোকে কেবল সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ও যান্ত্রিকভাবে দেখাএটা সত্য, যুদ্ধ হলো শান্তির ধারাবাহিক রূপ; আর শান্তি হলো যুদ্ধের ধারাবাহিক রূপকিন্তু এটা হলো সত্যের একটা দিক মাত্রএ ক্ষেত্রে আরও যে বিষয়টা বিবেচনায় নিতে হয় তা হলো, যে কোন বাস্তব পরিস্থিতি – সেটা হোক যুদ্ধ বা শান্তি – তা কতিপয় শর্তের অধীনযুদ্ধের শর্ত বিরাজ করলে যে কোন সময় যুদ্ধ উপস্থিত হবেইআর শান্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্যকাজেই যে শর্তের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে সে শর্তগুলো দূরীভূত হয়ে গেলে শান্তি-অবস্থা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে না

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে সেনাবাহিনী রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সামরিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করে পরিস্থিতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তোলেপার্বত্য চট্টগ্রামেও তাই হয়েছেএটা এখন প্রমাণিত সত্য যে, একমাত্র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই যখন সমাধানের চেষ্টায় হাত দেন, তখনই কেবল পার্বত্য চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়েছিল, যদিও এই চুক্তিতে অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছেএখন শোনা যাচ্ছে, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়টির দায়িত্ব পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে আবার তুলে দিয়েছেজগলুল আহমেদের লেখায়ও তার কিছুটা আভাস পাওয়া যায়

যদি রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুটি দেখাশোনা করে, তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো জটিল হতে বাধ্যকেন, তার উত্তর উপরে দেয়া হয়েছে

জন্ডিস হলে চোখ হলদে হয়কিন্তু এই হলদে হওয়াটা চোখের কোন অসুখ নয়রোগের একটা উপসর্গ মাত্রকাজেই কেউ যদি এ ক্ষেত্রে আসল রোগের চিকিসা না করে চোখের চিকিসা করায় তাহলে রোগীর অবস্থা বিপদাপন্ন হতে বাধ্যসেনাবাহিনীও জন্ডিসের অসুখে চোখের চিকিসা করানোর মতো রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সামরিক কায়দায় সমধানের চেষ্টা চালিয়ে সমস্যাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলেচুক্তি-উত্তর পরিস্থিতিতেও সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কলাকৌশল প্রয়োগ অব্যাহত রেখে তাই করছেযতই দিন যাচ্ছে ততই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছেতাই সরকারের উচিত কাল বিলম্ব না করে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করাসেনাবাহিনীর কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির তত্ত্ব ও কলাকৌশল দিয়ে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না

———————


Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.